বাংলাদেশকে নিয়ে সতর্ক ভারত

32

টি-টোয়েন্টিতে ভারতকে এখনো হারাতে পারেনি বাংলাদেশ। পরিসংখ্যানটা রোহিত শর্মার দলের জন্য তৃপ্তির, কিন্তু এটা নিদাহাস ট্রফির আজকের ফাইনাল জয়ের নিশ্চয়তা নয়। সেমিফাইনালে পরিণত হওয়া শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারানো বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাসের পারদ চড়েছে চড়চড়িয়ে। সেই ম্যাচে শেষ ওভারে টানা দুটি বাউন্সার নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল প্রেমাদাসা। মাহমুদ উল্লাহর বীরত্বে রুদ্ধশ্বাস জয়ের পর আজ ফাইনালেও দাগ কেটে যাওয়ার মতো কিছু করতে চাইবে বাংলাদেশ, এটা ভালোই জানা ভারতীয়দের। তাই ফাইনালের আগে উইকেটরক্ষক দীনেশ কার্তিক সমীহই করলেন সাকিব আল হাসানের দলকে, ‘সবাই বাংলাদেশকে যেভাবে চেনে, আমরাও তাই (জেদি)। ওরা জেতার জন্য মরিয়া হয়ে খেলে। বাংলাদেশ খুব বেশি দিন আগে টেস্ট মর্যাদা পায়নি। এর পর থেকে সব ফরম্যাটে যেভাবে উন্নতি করেছে সেটা প্রশংসনীয়। বিশেষ করে উপমহাদেশের উইকেটে খুব ভালো খেলে ওরা।’

এবারের টুর্নামেন্টে দুইবার বাংলাদেশকে হারিয়েছে ভারত। প্রথম ম্যাচে ৬ উইকেটের পর দ্বিতীয় ম্যাচে জয় ১৭ রানের। মুশফিকুর রহিম যেভাবে খেলছিলেন তাতে আর কেউ সঙ্গ দিলে শেষ ম্যাচটি জিততেও পারত বাংলাদেশ। তা ছাড়া ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তীরে পৌঁছেও ১ রানের জন্য তরি ডুবেছিল বাংলাদেশের। এর আগে ২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে রোহিত শর্মার আউট হয়েও বিতর্কিত ‘নো’ বলের সুবাদে জীবন পাওয়া বা শিখর ধাওয়ানের বাউন্ডারি লাইন ছুঁয়ে মাহমুদ উল্লাহর ক্যাচ নেওয়া নিয়ে দুই দলের উত্তেজনাও কম নয়। এসব মাথায় রেখে আজ কি বিশেষ কোনো পরিকল্পনা নিয়ে খেলবে ভারত? এমন প্রশ্নে দীনেশ কার্তিকের জবাব, ‘‘ক্রিকেটীয় ঐতিহ্যে ভারতের অবস্থান সবারই জানা। আমরা সেরা শক্তি বা দ্বিতীয় সারি যে দল নিয়েই খেলি না কেন, বাংলাদেশকে হারালে সবাই বলবে, ‘ঠিক আছে তোমরা বাংলাদেশকেই তো হারিয়েছ।’ আবার যদি আমরা হেরে যাই তখন বলা হবে, ‘বাংলাদেশের কাছেও হারছ, কী করছ তোমরা?’ আমি নিশ্চিত এবারও সেটাই হবে। তবে আমরা বিশেষ কিছু ভাবছি না। এত দিন যেভাবে খেলে এসেছি, সেটাই করতে চাই শুধু। রোহিত শর্মা খুব ভালো নেতৃত্ব দিচ্ছে আর দলও দারুণ ছন্দে।’’

প্রেমাদাসায় রান তাড়া করে জেতার কীর্তিটা বেশি। এবারের টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ দুইবারই শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছে রান তাড়া করে। এমনকি পেরিয়েছে ২১৪ রানের পাহাড়ও। তাই টস জেতাটাকে কি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত? কার্তিকের কাছে অবশ্য টস বড় কোনো ব্যাপার নয়। বরং মাঠের শিশির আর বোলারদের ভালো পারফরম্যান্সকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি, ‘ব্যাপারটা সহজ নয়, কিন্তু শিশির থাকলে বেশি সহজ হয়ে যায় (ব্যাটসম্যানদের জন্য)। উইকেট কেমন হবে, এ নিয়েও বেশি ধারণা নেই। শিশির থাকলে পরে ব্যাট করা দলের জন্য কাজটা সহজ হয়ে যাবে। আর শিশির না থাকলে দারুণ উপভোগ্য এক ম্যাচই হতে যাচ্ছে ফাইনালে। উইকেট ধীরগতির হলে বা টার্ন থাকলে চ্যালেঞ্জ হবে সবার জন্য। তবে যে দল ভালো বল করবে ফাইনাল জিতবে তারাই।’

টুর্নামেন্টটা আয়োজিত শ্রীলঙ্কার স্বাধীনতার ৭০ বছর উপলক্ষে। অথচ স্বাগতিকরাই নেই ফাইনালে। গ্যালারি ভরবে তো? কার্তিক চান পূর্ণ গ্যালারিতে হোক উপভোগ্য ফাইনাল, ‘খুব ভালো একটি ম্যাচ হতে যাচ্ছে। অবশ্যই ফাইনালে শ্রীলঙ্কার না থাকাটা স্বাগতিক দর্শকদের জন্য ধাক্কা। আমি জানি না স্টেডিয়ামে কত দর্শক আসবেন। তার পরও চাইব ভরা গ্যালারিতে উপভোগ্য এক ফাইনাল।’

বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার তিক্ততা যেখানে পৌঁছেছে তাতে দর্শক এলেও তারা নিশ্চয়ই গলা ফাটাবে ভারতের জন্য!