বাগেরহাটে উপকূলীয় বাধরক্ষা পাউবোর বাধে ধস,৩০০মিটার নদীগর্ভে ঝুঁকিপূর্ণ আরো ১কিলোমিটার বাধ, রাতেরমধ্যে ৫০০মিটার সম্পূর্ণ বিলিনহওয়ার আশঙ্কা

117
sdr

এস.এম.সাইফুলইসলামকবির :

বাগেরহাটের শরণখোলায় বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে নির্মানাধীন উপকূলীয় বাধরক্ষা প্রকল্পের ৩৫/১ পোল্ডারের বগী অংশের ব্যাপক এলাকা ধসে গেছে । শনিবার ভোর থেকে এদিন বিকেল পর্যন্ত ওই পয়েন্টে প্রায় ৩০০মিটার এলাকা বলেশ্বর নদীতে বিলিন হয়েছে । আরো প্রায় ৫০০মিটার এলাকা জুড়ে ফাঁটল ধরা অংশ রাতের মধ্যে সম্পূর্ণ ভাবে নদীতে বিলিন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে । বাধের ভয়াবহ ভাঙনে সাউথখালী ইউনিয়নের ৪টি গ্রামের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে ।

এছাড়া, বগী বন্দর থেকে আশার আলো মসজিদ পর্যন্ত আরো প্রায় এক কিলোমিটার বাধের অন্ততঃ ১০টি পয়েন্টে বড় বড় ফাঁটল ধরেছে । বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই বাধের এসব ঝুঁকিপূর্ণ অংশ নদীতে বিলিন হয়ে যাবে । বাধ সম্পূর্ণ বিলিন হলে সাউথখালী ইউনিয়নের ৪টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে । বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে কাজ চলমান থাকার মধ্যে বাধের এমন ভবয়াবহ ভাঙনে এলাকাবাসী আরো আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে । কোস্টাল হেন্নান ওয়াটার ইম্প্রুভমেন্ট (সিএইচডব্লিউই) নামের চায়নার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ টেকসই বাধের কাজ বাস্তবায়ন করছে ।

শনিবার বিকেল ৫টার দিকে সরেজমিন ভাঙন এলাকায় গিয়ে যায়, বড় বড় খন্ড দসে পড়ছ । ইতিমধ্যে প্রায় ৩০০মিটার বাধ নদীতে ধসে গেছে । ওই পয়েন্টে সম্পূর্ণ বিলিন হতে সামান্য বাকি আছে । আরো প্রায় ৫০০মিটার এলাকা জুড়ে ভয়াবহ ফাঁটল ধরেছে ।

এসময় বাধসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা রুস্তমআলী (৬০), শাহাজাহান হাওলাদার (৫৫), তাছেন উদ্দিন হাওলাদা (৭৫), আবু তালেব (৪৫) ইব্রাহিম হাওলাদার (৪৮) বলেন, ভোর ৫টার দিকে বাধের বিশাল অংশ দেবে যায় । ভাঙনের শব্দে বাধের কাছাকাছি এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে । বাধের ভেতরের পাশেও বিশাল এলাকা নিয়ে ফাঁটল ধরেছে ।

ধারণ করা হচ্ছে রাতের মধ্যেই সমস্পূর্ণ বাধবিলিন হয়ে যাবে । এতে বগী, চালিতাবুনিয়া, খুড়িয়াখালী, দক্ষিণসাউথ খালীসহ ৪টি গ্রামের কয়েক হাজার ঘরবাড়ি, মাছের ঘের, পুকুরসহ কয়েকশ’একরইরি ধানের ক্ষেত ক্ষতি গ্রস্তহবে ।

তারা বলেন, টেকসই বেড়ি বাধের কাজ শুরু হওয়ায় এ এলাকার মানুষ একটু স্বস্তি ফিরে পেয়েছিলো । কিন্তু কাজের ধীরগতি এবং কাজের মান অত্যান্ত নি¤œমানের। তাছাড়া, নদীশাসন নাকরেই বাধ নির্মান করায় তা কোনো কাজে আসছেনা ।

একদিকে নির্মান কাজ চলছে, আরেক দিক থেকে ধসে পড়ছে । শুধুনামে টেকসই বাধ আসলে কাজের কাজ কিছুই না । বাধ টেকসই করতে হলে আগেব্লক ডাম্পিং করে নদীশাসন করতে হবে । তানাহলে সরকারের কোটি কোটি টাকা নদী জলে ভেসে যাবে ।

নির্মান কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা উপকূলীয় বাধ রক্ষা প্রকল্পের (সিইআইপি) সুপার ভেশন ইঞ্জিনিয়ার শ্যামল দত্ত জানান, ক্ষতিগ্রস্ত বাধ পরিদর্শন করা হয়েছে । ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত রিংবাধ দেওয়া জন্য বলা হয়েছে । নদীশাসনের জন্য বিশ্ব ব্যাংকের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে