সিসিএনএফ প্রতিনিধি কর্তৃক জাতিসংঘের জেনেভা কার্যালয়ে রোহিঙ্গা রিলিফ বিষয়ক জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান উদ্বোধন

188

জাতিসংঘের রোহিঙ্গা রিলিফ বিষয়ক জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান লেনদেন ব্যয় হ্রাস, স্থানীয় পর্যায়ে জবাবদিহিতা এবং কক্সবাজারে প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে কি না- সে প্রশ্ন থেকেই যায়

কক্সবাজার সিএসও এনজিও ফোরাম (সিসিএনএফ) এর কো-চেয়ার এবং কোস্ট ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী জেনেভাস্থ জাতিসংঘ ভবনে আজ জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান উব্দোধনে পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। জেআরপি (জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান) ২০১৮ সালের মার্চ থেকে ডিসেম্বর সময়কালে রোহিঙ্গা রিলিফ কার্যক্রমের জন্য ৯৫০ মিলিয়ন ডলারের চাহিদা দিয়েছে। উদ্বোধন সেশনটি সঞ্চালনা করে ইউএনএইচসিআর-এর প্রধান ফিলিপ গ্র্যান্ডি যেখানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, ঢাকার জাতিসংঘ রেসিডেন্ট কোঅর্ডিনেটর (আরসি) মিয়া সেপ্পো, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি-র সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ সালাহ উদ্দিন। তারা উক্ত অনুষ্ঠানে বক্তব্যও রাখেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম -এম পি -রোহিঙ্গা সমস্যার রাজনৈতিক সমাধান অর্থাৎ প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি বারবার দাবি জানান। তিনি হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশ সরকারের প্রস্তুত করা ৮ হাজার জনের তালিকার বিপরীতে মায়ানমার সরকার ৩০০ জনকে প্রত্যাবাসন করার ব্যাপারে উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ সরকার তার জনবলের একটা বড় অংশ শরণার্থী ব্যবস্থাপনার কাজে নিযুক্ত করেছে, বিশেষ করে অন্তত এক লক্ষ শরনার্থীকে ভাষানচরে প্রতিস্থাপন করার জন্য। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মতো সীমিত অর্থনীতির জন্য এই সম্পদ বিনিয়োগ করা ইতিমধ্যে বিরাট চাপ।

জাতিসংঘের রেসিডেন্ট কোঅর্ডিনেটর বলেছেন, জেআরপি প্রস্তুত করার সময় তাতে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও স্থানীয়করনকেই গুরুত্ব দেয়া হবে। আইওএম-এর এমবাসাডর সুইং বলেন, রান্নার লাকড়ি সংগ্রহের জন্য যে হারে বন উজার হচ্ছে তা যদি চলতে থাকে তাহলে ২০১৯ সালের মধ্যে কক্সবাজারের সকল বন সম্পদ উজার হয়ে যাবে।

ইউএনএইচসিআর-এর প্রধান ফিলিপ গ্র্যান্ডি বলেন, জেআরপির দুইটি স্তম্ভ রয়েছে- সেগুলো হলো, রোহিঙ্গা শরনার্থী ও কক্সবাজারের স্থানীয় অধিবাসী। তিনি আরো বলেন, উন্নয়নে নিচের সারিতে অবস্থানরত কক্সবাজারের জন্য এটি ইতিমধ্যে একটি বড় চাপ। উপস্থিত প্রায় সকল প্রতিনিধি রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট মোকাবেলায় উদারতা প্রদর্শন ও প্রায় ১০ লক্ষ শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসা করেন।

সভায় উপস্থিত পর্যবেক্ষকদের মধ্য থেকে নানা বিশ্লেষণাত্মক প্রশ্ন উত্থাপিত হয়। যার মধ্যে রয়েছে, এত বড় মাপের তহবিল সংগ্রহের বিষয়টি কি অনেক উচ্চাভিলাসী নয়? আরেকজন প্রতিনিধি, এই বিশাল কর্মযজ্ঞের যথাযথ বাস্তবায়নের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করেন। প্রশ্ন ওঠে, কে এর নেতৃত্ব দেবে এবং কিভাবে কাজের সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মান বজায় রাখবে?

জেআরপি উদ্বোধনের আগে জেনেভায় ইকভা (ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল ফর ভলান্টারি এসোসিয়েশন)-এর কনফারেন্স রুমে আয়োজিত একটি সভায় সভাপতিত্ব করেন রেজাউল করিম চৌধুরী, নির্বাহী পরিচালক, কোস্ট ট্রাস্ট । যেখানে রোহিঙ্গা রিলিফ কার্যক্রম সম্পর্কিত দুইটি স্টাডি থেকে প্রাপ্ত বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়। তিনি উদ্বেগের সাথে উল্লেখ করেন, ত্রাণ কার্যক্রমে নিজেদের উপস্থিতি প্রকাশের একটা প্রতিযোগিতা রয়েছে আন্তর্জাতিক এনজিও এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন এজেন্সির মধ্যে। ফলে, সেসব কার্যক্রম ত্রাণ বিষয়ক কাজে তাদের নিজেদের স্বীকৃত গ্রান্ড বারগেন নীতিমালাকেই সংকুচিত করছে। এই নীতিমালা ত্রান কার্যক্রমের স্থানীয় এনজিওদের সম্পৃক্তকরনের মাধ্যমে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে ত্রান কাজের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি করে।

রেজাউল করিম চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, ত্রান কাজের সমন্বয়ে নিয়োজিত আইএসসিজি (ইন্টার সেক্টর কোঅর্ডিনেশন গ্রুপ)-এর নিজেদের সমন্বয়ের মধ্যেই নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে যা অচিরেই সমাধান করতে হবে। তিনি পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করেন, যদি লেনদেন ব্যয় হ্রাস এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহিতার বিষয়টি ত্রান কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব না হয়, তাহলে শরনার্থী সংক্রান্ত ত্রান কার্যক্রম অচিরেই স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও বাংলাদেশ সরকারের জন্য অদূর ভবিষ্যতে একটি বোঝায় পরিণত হবে।