স্টুডেন্ট ব্যাংকই গড়ে দিতে পারে গরীব ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যত-আশরাফ আলী

69
বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক মুক্তি আন্দোলনের চেয়ারম্যান আশরাফ আলী হাওলাদার বলেন, আমাদের দেশ ছয় ঋতুর ও নদীমাতৃক দেশ । শর্ষা-শ্যামলা ও সুফলা কৃষিমাতৃক দেশ সোনার বাংলাদেশ। এ দেশে চাষীরা করছে চাষ, জেলেরা ধরছে মাছ, কৃষকেরা কাটছে ধান ও মাঝিরা গাইছে গান। ভবিষ্যতে এ দেশ হবে মধ্য আয়ের দেশ থেকে উন্নত আয়ের দেশ। আজ এ দেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে জাতিসংঘে স্বীকৃত।  যে দেশের জাতি যত শিক্ষিত, সে দেশ তত উন্নত। একটি দেশের শিক্ষিত জাতি লেখাপড়ায় সুশিক্ষা অর্জন করে তাদের উজ্জল ভবিষ্যত গড়ে তোলার জন্য। তারা সুশিক্ষিত হয়ে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরি ও ব্যবসা- বাণিজ্যসহ নানান উন্নয়নশীল কাজে অংশগ্রহণ করবেন।
বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ। এ দেশের জনসংখ্যা আয়তনের তুলনায় অনেক বেশি, তবে এখানে শিক্ষার হার প্রশংসনীয়।আমাদের দেশের ভবিষ্যত কর্ণধার ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকরা চায় তারা যেন লেখাপড়ায় সুশিক্ষা অর্জন করে করে বিভিন্ন মহলে চাকুরী ও ব্যবসা-বাণিজ্য করবে। কিন্তু আমাদের গরীব ছাত্র-ছাত্রীরার মা-বাবা তাদেরকে উন্নত স্কুল, কলেজ বা  ভার্সিটিতে পড়াশোনা করানোর ইচ্ছা থাকা সত্বেও টাকার অভাবে তারা অসামর্থ্য হয়। অনেকক্ষেত্রে দেখা যায় যে, তাদের মা-বাবা ছেলেমেয়েদের স্বপ্নের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করানোর জন্য তাদের সবস্ব বিক্রি করে দেয়। কিন্তু লাগামহীন ব্যয়ের মাত্রা তারা এক সময় বহন করতে ব্যার্থ হয়। ফলে পরবর্তীতে ওই মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরা হতাশাগ্রস্থ হয়ে নিজেদের জীবন বিপদের দিকে নিয়ে যায়। তারা বিভিন্ন মাদকদ্রব্য ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্মে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ে।
সরকার যদি একটি স্টুডেন্ট ব্যাংক চালু করে, তবে ওই সব ছাত্র-ছাত্রীরার হতাশা লাগব হবে। আর এতে সমাজে মাদকাসক্ত, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির সংখ্যা হ্রাস পাবে। শিশু শ্রেণি থেকে প্রাপ্তবয়স্ক শ্রেণির চাকুরী পাওয়া পর্যন্ত এ ব্যাংক ব্যয় বহন করলে ও চাকুরী পাওয়ার পর বেতন থেকে মাসিক কিস্তি করে টাকার কিছু অংশ কেটে নিলে, এতে সরকার যেমন লাভবান হবে, তেমনি গরীব ছাত্র-ছাত্রীরাও তারা কাঙ্খিত চাকুরীতে নিয়োগ পেয়ে অর্থ উপার্জন করতে পারবে এবং এতে তাদের মা-বাবার অর্থ ব্যয়ের চাপ কমে যাবে। তাতে চাকুরী থেকে ঘুষ ও দুর্নীতির পরিমাণ কমে যাবে। আর তাদের মা-বাবারও চাকুরীতে নিয়োগের জন্য লাগামহীন অর্থ ব্যয়ের পরিমাণ কমে যাবে।
এ পদ্ধতিতে তরুণ ও যুব সমাজ থেকে অভিশপ্ত মাদকাসক্ততা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও বেকারত্মতা দূর হবে। তরুণ ও যুব সমাজের উদ্দেশ্যে বলছি, একমাত্র আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমেই নিজেদের জীবন আলোকিত করতে পারবেন। আপনারা ধানক্ষেতের ভিতরে প্রচুর পরিমাণে মাছ চাষ করতে পারেন এবং ভাসমান শাক-সব্জি চাষও করতে পারেন। এছাড়াও গবাদি পশু পালন, সেলাই মেশিন চালানো, মোমবাতি তৈরি, কম্পিউটার সফট্ওয়ার ও অনলাইনের কাজ এর মাধ্যমে নিজেদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে পারবেন। উন্নয়ন হচ্ছে এ দেশ, এগিয়ে যাচ্ছে সোনার বাংলাদেশ।