বিজিএমই এর মুচলেকা অস্পষ্ট, আবার দাখিলের নির্দেশ

47

 নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজধানীর কারওয়ান বাজারসংলগ্ন বেগুনবাড়ী-হাতিরঝিল প্রকল্পের বেগুনবাড়ী খালের ওপর নির্মিত বহুতল ভবন সরানোর বিষয়ে বিজিএমইএর দেওয়া মুচলেকায় অস্পষ্টতা থাকায় তা সংশোধন করে দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে বিজিএমইএর সময় আবেদনের ওপর আগামী ২ এপ্রিল আদেশের দিন ধার্য করা হয়েছে। মুচলেকায় ভবন ভাঙার বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরতে বলা হয়েছে।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ গতকাল বুধবার এ আদেশ দেন। গতকাল আদেশের জন্য দিন ধার্য থাকলেও শেষবারের মতো এক বছর সময় চেয়ে লিখিত মুচলেকা দেয় বিজিএমইএর বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ। এ মুচলেকা আদালতে উপস্থাপন করেন বিজিএমইএর আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী। মুচলেকায় বলা হয়, এরপর আমরা আর সময় চাইব না। এটা দেখার পর আদালত বলেন, সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে ৯০ দিনের মধ্যে নিজ খরচে বিজিএমইএকে ভবনটি ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। রায়ে বলা হয়, বিজিএমইএ যদি না ভাঙে, তাহলে রাজউক ভবনটি ভেঙে ফেলবে। ওই ভবন ভাঙার খরচ বিজিএমইএকে বহন করতে হবে। কিন্তু মুচলেকায় এর কোনো কিছুই উল্লেখ করা হয়নি। এ ছাড়া বিজিএমইএর বোর্ড অব ডিরেক্টরসের (পরিচালনা পর্ষদ) পক্ষে এক বছর সময় চেয়ে মুচলেকা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ চলে যাওয়ার পর যদি আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়িত না হয়, তাহলে কে দায়ী থাকবে, তা বলা নেই। আদালত বলেন, পরিচালনা পর্ষদ নয়, মুচলেকায় সুস্পষ্টভাবে থাকতে হবে যে আদেশ ভঙ্গ হলে বিজিএমইএ দায়ী থাকবে। আর সময় চাওয়া হবে না, এটা থাকতে হবে। এরপর আদালত মুচলেকা সংশোধন করে দাখিল করার নির্দেশ দেন।

আদেশের পর বিজিএমইএর পক্ষের আরেক আইনজীবী ব্যারিস্টার ইমতিয়াজ মঈনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশোধিত মুচলেকা সোমবার দাখিল করা হবে। পরে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে থাকা মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, বিজিএমইএর দাখিল করা মুচলেকায় বলা হয়েছিল, বোর্ড অব ডিরেক্টরস আর সময় চাইবে না। যদি চায়, তাহলে তারা দায়ী হবে। আদালত তা সংশোধন করতে বলেছেন। সেই মুচলেকায় বলা থাকবে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে আর সময় চাওয়া হবে না। সময় শেষ হওয়ার পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বিজিএমইএ নিজেরাই ভবন ভাঙবে। আদেশ না মানলে বিজিএমইএ দায়ী থাকবে।

তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) ভবন নির্মাণ করা নিয়ে ২০১০ সালের ২ অক্টোবর একটি ইংরেজি দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ডি এইচ এম মনির উদ্দিন আদালতে উপস্থাপন করেন। পরদিন হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে (সুয়োমটো) রুল জারি করেন। এ রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল হাইকোর্ট রায় দেন। রায়ে ভবনটিকে ‘হাতিরঝিল প্রকল্পে একটি ক্যান্সারের মতো’ উল্লেখ করে তা রায় প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলতে রাজউককে নির্দেশ দেওয়া হয়। ভবন ভাঙার খরচ বিজিএমইএর কাছ থেকে আদায় করতে বলা হয়। এ ছাড়া যাদের কাছে ফ্ল্যাট বিক্রি করা হয়েছে তাদের টাকা (লভ্যাংশ ছাড়া) ফেরত দিতে বলা হয়। ২০১৩ সালের ১৯ মার্চ হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। এরপর বিজিএমইএর পক্ষ থেকে আপিল করার অনুমতি চেয়ে (লিভ টু আপিল) আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়। এ আবেদন ২০১৬ সালের ২ জুন খারিজ করেন আপিল বিভাগ। আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয় ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর। এ রায়ের কপি পাওয়ার পর ওই বছরের ৮ ডিসেম্বর বিজিএমইএ রিভিউ আবেদন দাখিল করে।