আমি মিষ্টি পাঠাব প্রধানমন্ত্রীর কাছেঃ ফখরুল

50

ঢাকা নিউজ ডেস্ক :

বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা নাকি এখন মির্জা ফখরুলকে ঈর্ষা হচ্ছে। ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বৃহস্পতিবার জেলা আওয়ামী লীগের জনসভায় বিএনপির কর্মকাণ্ড নিয়ে বলতে গিয়ে নাম ধরেই মির্জা ফখরুলের সমালোচনা করে।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সাবেক সাংসদ এবং বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের বিমান প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা ফখরুলকে তিনি বর্ণনা করেন চরম মিথ্যাবাদী হিসেবে।

বিএনপি নেত্রীর স্বাস্থ্যের অবস্থা নিয়ে শুক্রবার সকালে নয়া পল্টনে বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ আসতেই হাসতে হাসতে ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন, আমি মিষ্টি পাঠাব উনার (প্রধানমন্ত্রী) কাছে। আমার অনেক উপকার করেছেন তার জন্যে। ভোট অনেক বাড়িয়ে দিয়েছেন।”

তার এ কথার পর বিএনপির সংবাদ সম্মেলন কিছু সময়ের জন্য অনানুষ্ঠানিক আড্ডার রূপ পায়। আলোচনায় যোগ দেন দলের স্থায়ী কমিটির নেতারাও।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘‘আমরা যারা আছি, ঈর্ষান্বিত। এভাবে উনাকে স্পন্সর করবেন দেশের প্রধানমন্ত্রী!”

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী হাসতে হাসতে বলেন, “আন্ডারহ্যান্ড ডিলিং আছে কিন্তু!”

এ সময় খন্দকার মোশাররফ বলেন, “শেরেবাংলা একসময় বলতেন, যদি হিন্দুরা তার সমালোচনা না করত, যুগান্তরে উনাকে গলাগালি না করত, সবাইকে তিনি জিজ্ঞাসা করতেন, আমার রাজনীতি ভুল হইতেছে কিনা, ওরা গাইলে (গালাগাল) না ক্যান?”

আগের দিন ঠাঁকুরগাঁওয়ের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ওই যে ফখরুল ইসলাম, দিনরাত কথা বলতে বলতে… গলা ফুলায়ে কথা বলতে বলতে গলাই খারাপ হয়ে যায়। বারবার গলার চিকিৎসাও করতে হয়। মিথ্যা কথা বলার একটা সীমা আছে। সারা দিন মিথ্যা কথা বললে- এত মিথ্যা কথা বললে তো আল্লাহও নারাজ হয়।”

আর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে বিএনপি মহাসচিবের ভূমিকার সমালোচনায় শেখ হাসিনা বলেন, “বিমানমন্ত্রী যে ছিল, বিমানের কী উন্নয়নটা করেছে বলেন? বিমানের প্লেন ঝরঝর, চলে না। টাকাপয়সা সব লুটপাট। রাডারস্টেশন নষ্ট। সবকিছু ধ্বংস করে রেখে গেছে।”

শুক্রবারের সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে আলোচনায় মির্জা ফখরুল বলেন, “কালকে আমি বলছিলাম যে এটা নিয়ে (প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের) আমি প্রতিক্রিয়া দিতে চাই না। এটা হল স্বভাব।”

আমীর খসরু তখন বলেন, “উনি কিছু বললে তো প্রতিক্রিয়া দেবেন; গালি-গালাজের কোনো প্রতিক্রিয়া নাই।”

সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় কথা বলেন।

তিনি বলেন, “ঠাকুগাঁও আমাদের মহাসচিবের নির্বাচনী এলাকা। প্রধানমন্ত্রী যে ভাষায় আমাদের মহাসচিবের সমালোচনা করেছেন, তিনি (মহাসচিব) নাকি মিথ্যা কথা বলেন। যিনি মিথ্যা কথা বলেন সবসময়, তিনি অন্যকেও তাই মনে করেন।”

মওদুদ বলেন, “এতে একটা লাভ হয়েছে, আমাদের মহাসচিবের ভোট অনেক বেড়ে গেছে। আপনি (প্রধানমন্ত্রী) এগুলো করতেই থাকেন।”

এরপর অতীতের ঘটনা তুলে ধরে ব্যক্তিগত ক্ষোভের কথাও বলতে থাকেন বিএনপি আমলের আইনমন্ত্রী মওদুদ।

“আমার বিরুদ্ধে ছয়বার সংসদে আক্রমণ করেছেন। আমরা কী আপনার সমতুল্য? আপনি হলেন প্রধানমন্ত্রী।… আসলে উনি জানেন, উনি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন নাই। এ কারণে উনার মনে ওই দুর্বলতাটা রয়ে গেছে।”

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মওদুদের ভাষায়, মিথ্যাচার কাকে বলে তা বাংলাদেশে না এলে কেউ বুঝবে না।

“মিথ্যা দেশের সর্বোচ্চ লেভেলে, এমনকি জুডিশিয়ারিতেও এখন মিথ্যাচার স্থান পেয়ে গেছে। মিথ্যাকে সত্য বলা হচ্ছে, সত্য বলে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি সুবিধা নিয়ে ঠাকুগাঁওসহ বিভিন্ন জেলায় গিয়ে ভোটের প্রচার চালাচ্ছেন অভিযোগ করে মওদুদ বলেন, “এগুলো সবই অনৈতিক ও নির্বাচন কার্যবিধির পরিপন্থি। তিনি যদি আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে নিজ খরচে জনসভা করে ভোট চাইতেন, তাহলে কারও কিছু বলার ছিল না।”