ঝিনাইদহের ১৫ নদ-নদীতে চলছে পুরোদমে চাষাবাদ গড়ে উঠছে বসতবাড়ি

44

আতিকুর রহমান,ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:

ঝিনাইদহের ১৫ নদ-নদীতে চলছে পুরোদমে চাষাবাদ। নবগঙ্গা, কালী, কুমার, ডাকুয়া, চিত্রা, বেগবতী (ব্যাঙ), কপোতাক্ষ, ফটকি, ভৈরবসহ ১৫ নদ-নদী এরই মধ্যে অনেকটাই বিলীন হয়ে গেছে। খননের অভাবে অধিকাংশ নদী পরিণত হয়েছে মরা খালে ।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে নবগঙ্গা, বেগবতী ও ফটকি নদী। এর মধ্যে শহরের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত নবগঙ্গা। এ নদীর জায়গা দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে ভবন। শহরের মধ্য ক্যাসেল ব্রিজের কাছে জায়গা দখল করে পুকুর কাটা হয়েছে। একইভাবে শহরের চাকলাপাড়ায় নদীর জায়গা দখল করে বাড়ি নির্মাণ করে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। আর হরিণাকুন্ডু উপজেলার ভাতুড়িয়া গ্রামের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত নবগঙ্গা নদীতে ইরি ধানের আবাদ করা হচ্ছে ।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের গৌরময় স্মৃতি বিজড়িত ঝিনাইদহ সদর উপজেলার যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের পাশে অবস্থিত বিষয় খালী বাজার। এ বাজার গড়ে উঠেছে বেগবতি নদীর পাশে। ঐতিহাসিকভাবে এ নদীর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে । কালের বিবর্তনে এখন এ নদী মরা খালে পরিণত হয়েছে। নদীর জায়গা দখল করে মার্কেট, বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে ।

নদী বক্ষে চলছে ধান চাষ ।একইভাবে সদর উপজেলার হাজিডাঙ্গার ভিতর দিয়ে বয়ে যাওয়া চিত্রা নদীতেও ধান চাষ করা হচ্ছে। এ অবস্থা কোটচাঁদপুর উপজেলার সীমানায়ও। কালীগঞ্জ উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া চিত্রা নদীর জায়গা দখল করে দোকান ও বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া মহেশপুর উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে কপোতাক্ষ, ভৈরবা, ইছামতী, কোদলা ও বেতনা। সম্প্রতি কোদলা নদীর জায়গা দখল করে বড় বড় পুকুর তৈরি করা হয়েছে এবং ধান চাষ করা হচ্ছে। একইভাবে কালীগঞ্জ ও কোটচাঁদপুর উপজেলার ওপর দিয়ে গেছে বুড়া ভৈরব নদ ও বেগবতী (ব্যাঙ) নদী। এ নদ-নদীর জায়গা দখল করে মার্কেট, বাড়িসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা হয়েছে। দুই পাড়ের জায়গা দখল করে ফসল উৎপাদন করা হচ্ছে। অনুরূপভাবে শৈলকুপা উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে গড়াই, কালী নদী ও কুমার নদ ।

উপজেলার ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে গড়াই। এ নদীর দুই ধারে জায়গা দখল করে বাড়ি, মার্কেট ও বিভিন্ন স্থানে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। এমনকি নদীর ভিতর থেকে মাটি কেটে ভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে এবং অবৈধভাবে তোলা হচ্ছে বালু। কুমার নদের শৈলকুপা অংশের জিন্না আলম ডিগ্রি কলেজ এলাকা, বারইপাড়া এলাকা, কবিরপুর, বিজুলিয়া, ফাদিলপুর অংশসহ বিভিন্ন স্থানে জেগে উঠেছে বড় বড় চর। শুধু কুমার নদ নয়, জেলার সব নদীরই একই অবস্থা। এসব জেগে ওঠা চরে চলছে কলাই, মসুর, পিয়াজসহ বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ। খননের অভাবে জেগে ওঠা চরে চরানো হচ্ছে গবাদি পশু। ঝিনাইদহ জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত অধিকাংশ নদ-নদী শুকিয়ে যাওয়ার কারণে চলছে দখলবাজি। মানুষের চাহিদা অনুযায়ী যে যার মতো নদী ব্যবহার করছেন। এ ক্ষেত্রে সরকার বা জেলা প্রশাসনের কোনো তদারকিই নেই। এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি। নদীগুলোর ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও তহসিলদারদের কাছে খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’