নামফলক, সাইনবোর্ড ইত্যাদি বাংলায় লিখে প্রতিস্থাপনের নির্দেশনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, এফবিসিসিআই ও রিহ্যাব সভাপতিকে প্যানেল মেয়রের পত্র

38

ঢাকা নিউজ ডেস্ক :

বাংলাদেশ ব্যাংক, এফবিসিসিআই এবং রিহ্যাবের আওতাধীন সকল প্রতিষ্ঠানকে তাদের নামফলক, সাইনবোর্ড ইত্যাদি বাংলায় প্রতিস্থাপন করার নির্দেশনা প্রদানের জন্য অনুরোধ জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, এফবিসিসিআই সভাপতি এবং রিহ্যাব সভাপতিকে আলাদা আলাদাভাবে পত্র প্রেরণ করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ঢাউসিক) প্যানেল মেয়র মোঃ ওসমান গণি। গত ৬ মার্চ ২০১৮ তারিখে প্যানেল মেয়র স্বাক্ষরিত পত্র ৩টি গত ১৩ মার্চ ২০১৮ তারিখে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, এফবিসিসিআই সভাপতি এবং রিহ্যাব সভাপতির পক্ষে গৃহীত হয়েছে।

উল্লেখ্য, কোন কোন বাণিজ্যিক ব্যাংক, প্রতিষ্ঠান এবং আবাসন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এখনো তাদের নামফলক, সাইনবোর্ড, প্রজেক্ট সাইন, বিলবোর্ড, ব্যানার ইত্যাদিতে বিদেশী ভাষা ব্যবহার করছে। তাছাড়া কোন কোন প্রতিষ্ঠান বিশাল বিদেশী হরফের নীচে বা পাশে অত্যন্ত ক্ষুদ্র বাংলা হরফে দায়সারাভাবে বাংলা ব্যবহার করছে যা প্রকারান্তে বাংলা ভাষার প্রতি অবজ্ঞারই সামিল। এই প্রেক্ষাপটে প্যানেল মেয়র বাংলাদেশ ব্যাংক, এফবিসিসিআই এবং রিহ্যাবের আওতাধীন সকল প্রতিষ্ঠানকে তাদের নামফলক, সাইনবোর্ড, ইত্যাদি বাংলায় লেখার নির্দেশনা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, এফবিসিসিআই সভাপতি এবং রিহ্যাব সভাপতিকে অনুরোধ জানিয়ে পত্র প্রেরণ করেন।

প্রসঙ্গত, হাইকোর্ট বিভাগের ১৬৯৬/২০১৪ নং রিট পিটিশনে প্রদত্ত আদেশ অনুযায়ী সকল প্রতিষ্ঠানের (দূতাবাস, বিদেশী সংস্থা ও তৎসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্র ব্যতীত) নামফলক, সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড, ব্যানার ইত্যাদি বাংলায় লেখা বাধ্যতামূলক। স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে হাইকোর্টের আদেশটি ঢাউসিক এর আওতাধীন এলাকায় যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব ঢাউসিক কর্তৃপক্ষকে দেয়া হয়।

এই প্রেক্ষিতে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের ২৮ তারিখে দুইটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে ঢাউসিক এখতিয়ারাধীন এলাকার যেসব প্রতিষ্ঠানের (দূতাবাস, বিদেশী সংস্থা ও তৎসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্র ব্যতীত) নামফলক, সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড, ব্যানার ইত্যাদি বাংলায় লেখা হয়নি তা অবিলম্বে স্ব-উদ্যোগে অপসারণ করে ৭ দিনের মধ্যে বাংলায় লিখে প্রতিস্থাপন করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তাছাড়া ব্যাপক মাইকিং, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রেস রিলিজ প্রেরণসহ ঢাউসিক এর ওয়েবসাইট এবং ফেইসবুক পাতায়ও গণবিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করা হয়। প্রায় সকল প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ায় এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

পরবর্তীতে অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের নামফলক, সাইনবোর্ড ইত্যাদি স্ব-উদ্যোগে যথাযথভাবে বাংলায় লিখে প্রতিস্থাপন করে। তবে হাইকোর্টের আদেশ এবং গণবিজ্ঞপ্তি বাস্তবায়ন না করার অপরাধে ঢাউসিক ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে আর্থিক দণ্ডসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নামফলক, সাইনবোর্ড ইত্যাদি অপসারণ করে। প্যানেল মেয়র আশা করেন বাংলাদেশ ব্যাংক, এফবিসিসিআই ও রিহ্যাব খুব দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে সর্বস্তরে রাষ্ট্রভাষা বাংলা প্রচলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।