ফুলবাড়ীতে প্রচন্ড ঝড়সহ শিলাবৃষ্টি ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি

44

ঢাকা নিউজ ডেস্ক :

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে গতকাল শুক্রবার চার ঘন্টার প্রচন্ড ঝড়সহ শিলাবৃষ্টিতে ঘরবাড়ি, ফসল, ইটভাটাসহ গাছপালাল ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে দুই শিশু, ছয় নারীসহ নয়জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
আহতরা হচ্ছে, উপজেলার পৌর এলাকার চাঁদপাড়া গ্রামের শাহিন উদ্দিনের মেয়ে সানিয়া (৩), গৌরীপাড়ার জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী রাবেয়া খাতুন (৩০), সুজাপুরের আল-আমিনের ছেলে মেহেদী হাসান (১৫), মধ্য গৌরীপাড়ার ফজির উদ্দিনের মেয়ে জরিনা খাতুন (৪০), খয়েরপুকুর হোসেনপুর গ্রামের সোয়াব আলীর স্ত্রী ইয়াসমিন (৫০), আনন্দ বাজারের গোলাম মোস্তফার স্ত্রী রুপালী বেগম (৩০) ও তার শিশু সন্তান রাব্বী আল মিজান (৩), মধ্যপাড়া ভাদুরীর রমজান আলীর স্ত্রী মজিয়া খাতুন (৪৫) ও ভাল্কা জয়পুর গ্রামের জায়দুল ইসলামের স্ত্রী রাহিলা বেগম (৩৫)।

আহতদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশু সানিয়া (৩) ও মজিয়া খাতুনকে (৪৫) রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে এবং অন্যদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধিন রাহিলা বেগম বলেন, মাঠ থেকে ছাগল নিয়ে বাড়ি আসার সময় ঝড়সহ শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় বড় বড় শিলার আঘাতে তার মাথার বিভিন্ন অংশ ফেটে যায় এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয় তাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে।

রুপালী বেগম বলেন, স্বামী ও সন্তানসহ নিজ বাড়ি আনন্দ বাজার থেকে ফুলবাড়িতে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে আসার সময় ঝড়সহ শিলাবৃষ্টির কবলে পড়েন। এতে শিলার আঘাতে হেলমেট থাকায় স্বামী রক্ষা পেলেও শিলার আঘাতে শিশু সন্তানসহ তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হয়েছে।

জরিনা বেগম বলেন, ঝড়ে বাড়ির ঘরের টিনের চালা উড়ে শরীরে পড়লে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। বাড়ির লোকজন তাকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. নূরুল ইসলাম বলেন, ঝড় ও শিলাবৃষ্টির শিলার আঘাতে আহতদের মধ্যে দুইজনকে রংপুর মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে এবং অন্যদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

নূরপুর গ্রামের ভূট্টা চাষি গোলাম মোস্তফা, গোপালপুর গ্রামের সুবাস রায়, পলী শিবনগর গ্রামের তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ঝড়সহ শিলাবৃষ্টিতে অন্যান্য ফসলের সাথে সব চেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ভূট্টাক্ষেতের। ভূট্টাগাছগুলো মাটির সাথে শুয়ে পড়েছে। প্রতিটি গাছেই ভূট্টা ধরেছে। যেগুলো পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে।

চককবীর গ্রামের কলেজ ছাত্র জয় চন্দ্র মন্ডল বলেন, ঝড়সহ শিলাবৃষ্টিতের এলাকার গাছপাড়া ও কাচা ঘরবাড়ি ভেঙ্গে পড়েছে। বড় বড় শিলার আঘাতে ঘরের টিন ফুটো হয়ে গেছে। দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।
গুপ্তা ব্রিক্সের সত্বাধিকারী রাজু গুপ্তা বলেন, শিলাবৃষ্টিতে ইটভাটাগুলোর খোলানে রাখা কাচা ইট সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। এতে উপজেলার সবকয়টি ইটভাটার অন্তত দশ লাখ কাচা ইট ধ্বং হয়ে গেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এটিএম হামীম আশরাফ বলেন, ঝড়সহ শিলাবৃষ্টিতে কি পরিমাণ গাছপাড়াসহ ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা নিরুপণের জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তাদেরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে গোটা উপজেলায় কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা বলা যাবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুস সালাম চৌধুরী বলেন, ঝড়সহ শিলাবৃষ্টিতে উপজেলায় কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সেটার তালিকা তৈরির জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদেরকে বলা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পাওয়া গেলে ক্ষতিগ্রস্তদেরকে সরকারিভাবে সহায়তা দেওয়া হবে।