সুরের দোলা লেগেছে আজ গানে গানে বর্ষবরণ ১৪২৫

52

ঢাকা ডেস্ক :

ভোরের হাওয়ায়, গাছের পাতায়, লেকের পানিতে যেন সুরের দোলা লেগেছে । গাছে পাতার ফাঁক গলে বৈশাখের প্রথম সূর্যের আলো এসে পড়লো উপস্থিত দর্শকদের ওপরে। সমবেত কণ্ঠে শিল্পীরা গেয়ে ওঠেন ‘আনন্দ ধ্বনি’। মূলত বংশীবাদনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ছায়ানটের ৫০তম গানে গানে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান।

`বিশ্বায়নের বাস্তবতায় শিকরের সন্ধান` শিরোনামে রমনার বটতলায় ছায়ানটের এই প্রভাতি গানের অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে ভোর ৬টা ১৫ মিনিটে।

শুরুতেই সেতারবাদন। এর মধ্য দিয়ে ছায়ানটের শিল্পীরা নতুন বছরকে স্বাগত জানান। এরপর চলে রবীন্দ্র সংগীত। শিল্পীদের সুরের মূর্ছনায় মুগ্ধ হাজারো শ্রোতা।

রমনার বটতলার এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নেওয়া হয় কড়া নিরাপত্তা-ব্যবস্থা। নিরাপত্তা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়। রমনায় প্রবেশের ক্ষেত্রে করা হচ্ছে তল্লাশি।

বাঙালির প্রাণের এই উৎসবকে ঘিরে আজ দিনভর থাকছে নানা আয়োজন। প্রাণের টানে সকালেই ঘর থেকে বেরিয়েছেন হাজারো মানুষ। পথে পথে আজ বৈশাখী রব। সবাই নানা সাজে সজ্জিত। নেই বয়সের ভেদাভেদ। উল্লাসে-উচ্ছ্বাসে সবাই মাতোয়ারা।

রমনা বটমূল ঘুরে দেখা গেছে, গুটি গুটি পায়ে সঙ্গীতপ্রেমীরা আসতে শুরু করেছে। সামনের চত্বরটা প্রায় ভরে উঠতে শুরু করছে। মানুষ আসছে, পুলিশের নিরাপত্তা পেরিয়ে হেঁটে গান শুনতে আসছে। নানা শঙ্কা অার বাধাকে উপেক্ষা করে দলে দলে মানুষ আসছে গান গাইতে। নতুন বছরের শুরুতে মানুষে মানুষে মিলিত হবার এই যে প্রত্যাশা’ এটাই গানের সুরে শক্তি হয়ে জেগে থাকুক, মিশে থাকুক মানুষের অন্তরে। সারাটা বছর।

পহেলা বৈশাখে প্রভাতের আলো ফোটার সাথে সাথে উৎসবে মেতে উঠলো পুরো জাতি। জীর্ণ পুরাতনকে বিদায় জানিয়ে শুভ সম্ভাবনার নতুন দিন আনবার প্রত্যয়ে প্রাণের উচ্ছাসে মেতে উঠলো সংশয়বিনাশী চিত্ত। পহেলা বৈশাখে নতুন বছরের সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রমনা বটমূলে শুরু হয় ছায়ানটের প্রভাতি অনুষ্ঠান। শুরু হয় বাঙালির বর্ষবরণ। ছায়ানট আর বাঙালির বর্ষবরণ এখন সমার্থক। প্রতিবছরের মত এবারও রমনার বটমূলে শিল্পীদের গানের মধ্য দিয়েই যেন উদিত হলো নতুন বছরের নতুন সূর্য। শুভ দিনের প্রত্যাশায় মানুষের মনে গুনগুনিয়ে উঠলো ‘নব আনন্দে জাগো আজি নব রবি কির