বায়ার্নকে হারিয়ে এগিয়ে রিয়াল

51

ক্রীড়া ডেস্ক :

গত এপ্রিলের এক বুধবারই ছিল দিনটা। এই আলিয়াঞ্জ অ্যারেনাতেই রিয়াল মাদ্রিদের মুখোমুখি হয়েছিল বায়ার্ন মিউনিখ, চ্যাম্পিয়নস লিগের গত আসরের সেমিফাইনালে। বাভারিয়ানদের কোচের দায়িত্বে তখন কার্লো আনচেলোত্তি, গোলবারে মানুয়েল নয়ার। এবারে কোচ ইয়ুপ হেইঙ্কেস, গোলবারে উলরিখ। দলেও খানিকটা অদলবদল। কিন্তু সেই একই ভাগ্য। এগিয়ে গিয়েও ২-১ গোলের হার। মাঠের খেলায় দাপট দেখিয়ে গোলসংখ্যায় পিছিয়ে থাকা। গেল মৌসুমে রোনালদো একাই জোড়া গোল করে গড়ে দিয়েছিলেন ম্যাচের ভাগ্য। এবার রোনালদো নিষ্প্রভ থাকলেও মার্সেলো আর বদলি মার্কো আসেনসিওর গোলই প্রতিপক্ষের মাঠে জিতিয়ে দিল লস ব্লাংকোদের। টানা তৃতীয় ফাইনাল আর রিয়াল মাদ্রিদের মাঝে এখন স্রেফ একটি ম্যাচ, যেখানে এগিয়ে রিয়ালই।

ম্যাচের গোড়াতেই চোট পেয়ে আরিয়েন রবেন মাঠের বাইরে চলে গিয়ে হেইঙ্কেসের পরিকল্পনায় বোধ হয় খানিকটা ভজঘটই পাকিয়ে দেন। রবেনের জায়গায় নেমে থিয়াগো আলকানতারা অবশ্য খারাপ করেননি, কিন্তু ঠিক আক্রমণের ধারটা বাড়াতে পারেননি। ফ্রাংক রিবেরি, রবার্ট লেভানদোস্কি আর টমাস ম্যুলারের আক্রমণভাগ সুযোগ পেয়েছে অনেক, কিন্তু বেশির ভাগই হয়েছে নষ্ট। গোলরক্ষক নাভাসকে একা পেয়েও রিবেরি যেভাবে সুযোগটা নষ্ট করেছেন, সেটা এই পর্যায়ে রীতিমতো অমার্জনীয়। লেভানদোস্কিও পারেননি নামের প্রতি সুবিচার করতে। বরং সমীকরণের বাইরে থেকে জোশুয়া কিমিচ এগিয়ে দেন বায়ার্নকে। অথচ গোলের সুযোগটা এসেছিল রিয়ালেরই! কর্নার কিকে মাথা ছোঁয়াবার জায়গা খুঁজতে গিয়ে ফাউল করে বসেন সের্হিয়ো রামোস। চট করে ফ্রি-কিক নিয়েই বল রিয়ালের অরক্ষিত রক্ষণের দিকে পাঠিয়ে দেয় বায়ার্ন, বলটা ধরে বায়ার্ন রাইটব্যাক কিমিচের লম্বা দৌড়ের পর জোরালো শটে পর্যুদস্ত কেইলর নাভাস। কর্নার কিকে গোটা রিয়াল যখন বায়ার্নের অর্ধে, তখনই বায়ার্নের এই প্রতি-আক্রমণের জবাব ছিল না জিদানের শিষ্যদের।

প্রথমার্ধ শেষের এক মিনিট আগে মার্সেলোর গোলটাও ছিল আচমকা। বক্সের ডান দিক থেকে কারভাহালের হেডটা ভেসে যেতে দেখলেন বায়ার্নের সব ডিফেন্ডার। রোনালদো বাইসাইকেল কিক নেওয়ার চেষ্টায় উলটো ঘুরলেন, কিন্তু নাগালের অনেক বাইরে। সেটাই গিয়ে পড়ল মার্সেলোর পায়ের কাছে। তার বাঁ পায়ের জোরালো ভলিটা উলরিখের নাগালের বেশ বাইরে দিয়েই ঢুকে জায় জালে। ১-১ সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।

বিরতির পর, ম্যাচের ৫৭ মিনিটে অনেকটা বায়ার্নের গোলটার মতোই রিয়ালের দ্বিতীয় গোল। রাফিনহার কর্নারে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ব্রেকে বল পেয়ে যান লুকাস ভাসকেজ। দৌড়ে উঠে আসা আসেনসিওকে পাস বাড়ালে বক্সে ঢুকে পড়েন ইসকোর বদলে নামা এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার দারুণ ফিনিশিংয়ে ব্যবধান ২-১ করে ফেলেন। লিড নেওয়ার পর খুব বেশি আক্রমণে যায়নি রিয়াল, বরং ব্যস্ত ছিল নিজেদের রক্ষণ সামলাতেই। কিন্তু ভাগ্যের জোর, নাভাসের কুশলী গোলরক্ষণ আর বায়ার্ন ফরোয়ার্ডদের একের পর এক মিসেই শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলেই হার বাভারিয়ানদের। ১৩টি গোলমুখী প্রচেষ্টায় ‘শট অন টার্গেট’ ছিল পাঁচটি, কিন্তু দিন শেষে গোলসংখ্যা মাত্র ১! অন্যদিকে রিয়ারের শট অন টার্গেট চার, গোলসংখ্যা ২। বায়ার্ন কর্নারই পেয়েছি ১০টি, যেখানে রিয়াল পেয়েছে মাত্র তিনটি। বল দখলেও এগিয়ে ছিল বায়ার্নই, কিন্তু শেষ বেলায় বাজি মেরে দিল রিয়ালই। শুধু জয়ই নয়, প্রতিপক্ষের মাঠে জোড়া গোলের সুবিধাটাও তারা নিয়ে যাচ্ছে পরের লেগে। অর্থাৎ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে যদি তারা ১-০ গোলে হেরেও যায়, তবু কিয়েভের ফাইনাল নিশ্চিত।

 

উয়েফা