ভারতের প্রতিপক্ষ এখন আইসিসি !

36

ক্রীড়া ডেস্ক :

একটা সময় ছিল যখন আইসিসি মানেই ‘তিন মোড়ল’ এর শাসন। সেই ‘তিন মোড়ল’ নীতির অবসানের পর প্রায়শই দ্বন্দ্ব লেগে যাচ্ছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আর ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) মাঝে। কলকাতায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আইসিসির বোর্ড সভায় এই দ্বন্দ্ব চরম রূপ নিয়েছে। ভারত ২০২১ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি আয়োজন করতে চাইলেও আইসিসি সবুজ সংকেত দেয়নি। এর বদলে একটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ভারতকে। এই ইস্যুতেই এখন আইসিসির মুখোমুখি বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ক্রিকেট বোর্ড।

ভারতের প্রয়াত ক্রিকেট সংগঠক জগমোহন ডালমিয়া চ্যাম্পিয়নস ট্রফির চালু করেছিলেন। ১৯৯৮ সালে এর প্রথম সংস্করণ ‘মিনি বিশ্বকাপ’ নামে অনুষ্ঠিত হয়েছিল বাংলাদেশে। এরপর আরও ৭টি টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। এতে আর্থিকভাবে ব্যাপক লাভবান হয় আইসিসি। কিন্তু ২০২১ সালে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ভারত আয়োজন করতে চাইলেও ট্যাক্স সংক্রান্ত ইস্যুতে আইসিসি তা নাকচ করে দেয়। এর বদলে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজনের। আগের বছর ২০২০ সালে আবার অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ।

২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ধরলে পরপর তিন বছর তিনটি বিশ্বকাপ দেখবে ক্রিকেটবিশ্ব। তবে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছে খোদ ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের একাংশ। তাদের মতে, আইসিসির সভায় বিশ্বকাপ আয়োজনে সম্মতি দিয়ে বিসিসিআই ভারপ্রাপ্ত সচিব অমিতাভ চৌধুরী ও প্রধান নির্বাহী রাহুল জোহরি পেছন থেকে বোর্ডকে ছুরি মেরেছে! চ্যাম্পিয়নস ট্রফি তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাই সহজে বাস্তবায়ন হবে বলে মনে হচ্ছে না।

ভেতরের এসব খবরের পাশাপাশি প্রকাশ্যেও অনেক কর্মকর্তা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কটের দাবিও তুলেছেন। অন্যদিকে বিসিসিআইয়ের বড় অংশের এই অবস্থান জানতে পেরে কড়া বক্তব্য দিয়েছে আইসিসি। ভারতীয় গণমাধ্যমের রিপোর্ট মতে, সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী বলেছেন, ‘ভারত যদি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন করতে না চায়, তবে শ্রীলঙ্কা বা বাংলাদেশ এটার আয়োজন করবে।’

অর্থাৎ, খুব পরিস্কারভাবেই বোঝা যাচ্ছে যে ভারতের দাদাগিরিকে আর তেমন পাত্তা দিতে চাচ্ছে না আইসিসি। তবে মনে রাখতে হবে, ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যের উর্বর ভূমি হলো ভারত। এখন দেখার বিষয়, আইসিসি তাদের এই কঠোর অবস্থান শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারে কিনা।