লামায় ৩ দিনের ব্যবধানে আরেক পাথর শ্রমিক নিহত

58

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি: বান্দরবানের লামার ৩ দিনের ব্যবধানে পাথর চাপা পড়ে আরেক শ্রমিক নিহত হয়েছে। উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ছমুখালের আগায় বৃহস্পতিবার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে প্রশাসনের কাউকে না জানিয়ে বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে নিহতের লাশ কবর দেয়া হয়।
নিহত পাথর শ্রমিক জাহেদুল ইসলাম (১৭) পার্শ্ববর্তী চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের রাজার বিল এলাকার মো. ইলিয়াছের ছেলে। অবৈধ পাথর কোয়ারীটি চকরিয়ার হাসেঁর দিঘি এলাকার আমির হোসেনের বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, ফাঁসিয়াখালীর ছমুখালের আগায় বৃহস্পতিবার দুপুরে বড় একটি পাহাড় কেটে পাথর উত্তোলন করছিল ১০/১৫ জন শ্রমিক। হঠাৎ করে পাহাড়ের বড় একটি অংশ পাথর সহ ধসে পড়ে। তখন চাপা পড়ে ঘটনাস্থলে নিহত হয় জাহেদুল ইসলাম। এসময় আরো ২ জন শ্রমিক আহত হয়েছে। তাদের একজন মো. ইলিয়াছ (৪৮) ও অপরজনের নাম জানা যায়নি। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে পাথর ব্যবসায়ীরা নিহতের পরিবারের সাথে গোপনে আতাত করে প্রশাসনের কাউকে কিছু না জানিয়ে বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে লাশটি বাড়ি পাশে দাফন সম্পন্ন করে।

স্থানীয় ইউপি মেম্বার আপ্রুসিং মার্মা বলেন, পাথর চাপা পড়ে নিহত ও আহতের সংবাদ শুনেছি। পাথর ব্যবসায়ীরা আইনী হয়রাণী এড়াতে লাশটি গোপনে নিয়ে যায় এবং গভীর রাতে দাফন করে ফেলে।

লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন বলেন, বিষয়টি আমাদের কেউ অবহিত করেনি।

প্রসঙ্গত, গত ২৩ এপ্রিল লামা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের ডলুঝিরি এলাকায় রোহিঙ্গা মো. আজম নামে এক পাথর শ্রমিক নিহত হয়েছে। বিগত ৩ মাসে উপজেলার গজালিয়া ও ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন পাথর কোয়ারীতে প্রায় ৮/৯ জন পাথর শ্রমিক আহত হলেও তার গোপন রাখে পাথর ব্যবসায়ীরা।