যেটা পারেনি বিমান বাংলাদেশ, সেটা করে দেখালো ইউএস-বাংলা

52

কয়েক দফা ঘোষণার পরও চীনের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক শহর গুয়াংজুতে ফ্লাইট চালু করতে পারেনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। অথচ লাভজনক রুটের গুরুত্ব বিবেচনায় গত বৃহস্পতিবার থেকে ফ্লাইট চালু করেছে একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্স।বিমানকে লাভজনক করতে জনপ্রিয় রুটগুলোতে দ্রুত ফ্লাইট চালু এবং আন্তর্জাতিক রুট নির্বাচনে কর্তৃপক্ষকে আরও দক্ষতার পরিচয় দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা।ব্যবসা-বাণিজ্য বা পর্যটন সব প্রশ্নেই বাংলাদেশের কাছে চীনের বাণিজ্যিক শহর গুয়াংজু এখন গুরুত্বপূর্ণ এক গন্তব্য।যেখানে পোশাক শিল্পসহ বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীদের নিয়মিত যাওয়া-আসা। বছরে অন্ততঃ এক হাজার কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য আসে চীন থেকে। যার বেশিরভাগই আবার গুয়াংজু থেকে। তাই ঢাকা-গুয়াংজু রুটে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট চালুর দাবিও অনেকদিনের।

তবে দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি আর কয়েক দফা ঘোষণার মধ্যেই আটকে আছে, বিমানের ফ্লাইট চালুর কার্যক্রম। গেলো ২৫ মার্চ, এই রুটে লাল-সবুজের পতাকাবাহী রাষ্ট্রীয় উড়োজাহাজ চালুর ঘোষণা দিয়েও ব্যর্থ হয় কর্তৃপক্ষ।বাংলাদেশ রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতির আবদুস সালাম মোর্শেদী বলেন, আমাদের দেশের সঙ্গে চীনের যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক, আমদানি-রপ্তানি যে পরিধি, তা বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।অথচ  দীর্ঘদিন ধরে এই রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে চীনের দুটি এয়ারলাইন্স। আর চলতি মাস থেকে সপ্তাহে তিনদিন ফ্লাইট চালু করেছে বেসরকারি এয়ারলাইন্স ‘ইউএস-বাংলা’।এয়ারলাইন্সটির প্রধান নির্বাহী ইমরান আসিফ বলেন, বাংলাদেশের ক্যারিয়ার এতদিন এটা ছিল না। চীনে ফ্লাইট শুরুর জন্য একটা লম্বা প্রক্রিয়া আছে। ওই প্রক্রিয়া আমরা গত ডিসেম্বরে ভালোভাবে সম্পন্ন করেছি। এর প্রেক্ষিতেই আমরা এপ্রিল থেকে ফ্লাইট শুরু করছি।যাত্রীর পাশাপাশি পণ্য পরিবহনেও রুটটিকে সম্ভাবনাময় মনে করেন ব্যবসায়ীরা।লাভজনক রুটে ফ্লাইট চালু করতে না পারাকে কর্তৃপক্ষের আরেকটি ব্যর্থতা বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এম এ মোমেন বলছেন, বাংলাদেশ বিমান গুয়াংজুতে যাবে এটা ২০০৯ সাল থেকে শুনে আসছি। রুটটিতে আমরা যথেষ্ট ট্র্যাফিক পাবো।একটা প্রাইভেট এয়ারলাইন্স যদি গুয়াংজুতে অপারেশন চালাতে পারে, তবে বিমান বাংলাদেশ সরকারের সমর্থনে থেকেও পারবে না- এটা মনে করার কারণ নেই।  তবে উড়োজাহাজের সংকট থাকায়, নতুন রুট চালুর বদলে এ বছর হজের মতো স্পর্শকাতর বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দেয়ার কথা জানিয়েছে, সংস্থাটি।তবে আশার কথা হচ্ছে, চলতি বছরের শেষ দিকে বিমানের বহরে যুক্ত হতে যাচ্ছে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির দুটি নতুন উড়োজাহাজ, ‘বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার’। এরপরই গুয়াংজুতে ফ্লাইট চালু করা হতে পারে বলে জানিয়েছে বিমান কর্তৃপক্ষ।বিমান বাংলাদেশের জনসংযোগ বিভাগের জিএম শাকিল মেরাজ বলেন, আমরা এমন একটা এয়ারক্র্যাফট চাচ্ছিলাম, যেখানে যাত্রী নেওয়ার পাশাপাশি মালামালও নেয়া যায়। কিন্তু ওই ধরনের এয়ারক্র্যাফটের সংস্থান না হওয়ায় আমরা সামার শিডিউলে গুয়াংজুতে ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারিনি। তবে আশা করছি, শীতকালীন শিডিউলে আমরা সেটা চালু করবো।