ভয়াল প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড়ে নিহতদের স্মরণে দোয়া

67

অনলাইন ডেক্স:

২৯ এপ্রিল ১৯৯১ সালের স্মরণকালের ম্যারি এন প্রলয়ঙ্করী ভয়াল ঘূর্ণিঝড়ে নিহতদের স্মরণে দোয়া অনুষ্ঠিত ।

২৯ এপ্রিল ১৯৯১ সালে ভয়াল প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড়ে নিহতদের স্মরণে রবিবার ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও সন্দ্বীপ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এর যৌথ উদ্যোগে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম এ বাদে মাগরিব এক দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

1

২৯ এপ্রিল ১৯৯১ সালের ম্যারি এন প্রলয়ঙ্করী ভয়াল ঘূর্ণিঝড়ে নিহতের সংখ্যা বিচারে স্মরণকালের ভয়াবহতম । বাংলাদেশে দক্ষিণপূর্ব চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রায় ২৫০কিমি.বেগে আঘাত আনে।এই ঘূর্ণিঝড়ের ফলে ৬মিটার (২০ ফুট) উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস উপকূলীয় এলাকাগুলোকে প্লাবিত করে এবং এর ফলে প্রায় ১,৩৮,০০০ মানুষ নিহত হয় ও ১ কোটিরও বেশী মানুষ সর্বস্ব হারায়।একেবারে লণ্ডভণ্ড করে দেয় উপকূলীয় অঞ্চল।

প্রকৃতির মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ২২শে এপ্রিল,১৯৯১ বঙ্গোপসাগরে একটি গভীর নিম্মচাপের সৃষ্টি হয়।এতে করে বাতাসের গতিবেগে নিম্মচাপের আকার তীব্রভাবে বৃদ্ধি হয় ২৪শে এপ্রিল,০২বি ঘুর্নিঝড়ে ভয়ানক রূপ নেয়।ঘুর্নিঝড়টি উত্তর-পূর্বদিকে অগ্রসর হওয়ার সাথে সাথে ব্যাপক হারে বাড়তে থাকে।২৮ ও ২৯ এপ্রিল প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড় তীব্র হতে তীব্রতা পায়।পরবর্তীতে গতিবেগ ২৫৬ কিমি /ঘন্টায় পৌছায়।যা একটি ক্যাটাগরী-৫ ঘূর্নিঝড়ের সমতুল্য।

3

২৯শে এপ্রিল রাতে এটি চট্টগ্রামের উপকূলবর্তি অঞ্চলে ২৫০ কিমি /ঘন্টা বেগে আঘাত আনে যা প্রায় ক্যাটাগরী-৪ ঘূর্নিঝড়ের সমতুল্য।স্থলভাগে আক্রমণের পর এর গতিবেগ ধীরে ধীরে হ্রাস পায় এবং ৩০শে এপ্রিল এটি বিলুপ্ত হয়।

এই ঘূর্নিঝড়ে ১ লক্ষ ৩৮ হাজারও বেশী মানুষ নিহত হয়।এদের বেশিরভাগই নিহত হয় চট্টগ্রাম জেলার উপকূলীয় দ্বীপ সন্দ্বীপে।এছাড়াও মহেশখালী,কুতুবদিয়া হাতিয়া,ভোলা ইত্যাদি অঞ্চলে।ধারণা করা হয় প্রায় ২০ লক্ষ লোক আশ্রয়কেন্দ্রে না গিয়ে বিপদজনক স্থানে অবস্থান করার কারণে ঘূর্নিঝড়ে আক্রান্ত হয়।

এই ঘূর্নিঝড়ের কারণে প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলারের (১৯৯১ মার্কিন ডলার) ক্ষতি হয়। সাগর ও নদীর উপকূল প্লাবিত হয়। কর্নফুলি নদীর তীরে কঙ্ক্রিটের বাঁধ থাকলেও এটি জলচ্ছাসে ধ্বংস হয়। চট্টগ্রাম বন্দরের ১০০টন ওজনের একটি ক্রেন ঘূর্নিঝড়ে আঘাতে স্থানচ্যুত হয় এবং আঘাতের কারণে টুকরো টুকরো অংশে বিভক্ত হয়।

বন্দরে নোঙ্গর করা বিভিন্ন ছোট বড় জাহাজ, লঞ্চ ও অন্যান্য নৌযান ও আকাশ যান নিখোঁজ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।যার মধ্যে নৌবাহিনী,বিমানবাহিনী ও বেসরকারি অনেক যানও।প্রায় ১০ লক্ষ ঘড়-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।১ কোটিরও অধিক মানুষ বাস্তুহারা হয়ে পরে।

সন্দ্বীপ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুফতী মাসুম বিল্লাহ নাফিয়ী দোয়া মাহফিলে তার বক্তব্যে ১৯৯১ এর ভয়াল প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড়ে উপকূলীয় অঞ্চলে যারা প্রাণ হারিয়েছে তাদের রুহের শান্তি কামনা সহ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।এছাড়াও তিনি স্মরণকালের এই ভয়াবহতম দিনকে বিশেষভাবে পালনের জন্য সরকারের নিকট জোর দাবী জানান।কারণ বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচাইতে বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলো ম্যারি এন ঘূর্ণিঝড়।যারা ভয়াল ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণ হারিয়েছে তাদের স্মরণে সরকারিভাবে ২৯ এপ্রিল প্রতিবছর দোয়ার ব্যবস্থা করা নৈতিক ও কর্তব্য বলে তিনি দাবি করেন।

দোয়া পরিচালনা করেন,মসজিদের সম্মানিত ইমাম হাফেজ মুফতী মহিউদ্দিন কাসেম।মিলাদ মাহফিল পরিচালনা করেন, মসজিদের প্রধান মুয়াজ্জিন ক্কারী মাওলানা মাসউদু রহমান।দোয়ায় বিশেষভাবে নিহতদের রুহের মাগফিরাত সহ আত্মার চিরশান্তি কামনা করা হয়।