ভারতে নিজের সদ্যজাত সন্তানকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ বাংলাদেশি নারীর বিরুদ্ধে

62

সন্তান জন্ম দেওয়ার পর হাসপাতালের মধ্যেই নিজের ওই নবজাতককে হত্যার চেষ্টা করেছেন বলে বাংলাদেশি এক নারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। ভারতের চন্ডীগড়ের সেক্টর ৩২-এ অবস্থিত গর্ভনমেন্ট মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে (জিএমসিএইচ) চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে।

এই ঘটনার পর মঙ্গলবারই নিরাপত্তার কারণে মায়ের কাছ থেকে আলাদা করে শিশুটিকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে চন্ডীগড়ের সেক্টর ১৫-এ অবস্থিত আশিয়ানা শিশু হোমে। সেখানেই শিশুটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্পেশালাইজড অ্যাডপশন এজেন্সি (এসএএ) কর্তৃপক্ষকে।

অন্যদিকে, ওই শিশুটির মা’কে চন্ডীগড়ের নারী নিকেতনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আপাতত সেখানেই কাউন্সেলিং’এর পাশাপাশি ওই নারীর মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা চলছে।

সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশি ওই নারী সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের কলকাতা হয়ে জম্মু-কাশ্মীরে চলে যায়। সেখানেই এক কাশ্মীরী যুবককে বিয়ে করেছিলেন তিনি। যদিও বিয়ের কয়েক মাস পরেই ওই কাশ্মীরী যুবক মারা যান। কিন্তু নিজের স্বামী বা বাসস্থানের কোনো নাম জানাতে পারেননি ওই নারী। তবে মনে করা হচ্ছে স্বামীর মৃত্যুর পরই শ্বশুর বাড়ি থেকে ওই নারীকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। আর সেই কারণেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন ওই বাংলাদেশি নারী। এ থেকেই নিজের সদ্যজাত সন্তানকেও মেরে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন তিনি।

আরও জানা যায়, গত ১২ এপ্রিল কাশ্মীর থেকে কলকাতা ফেরার পথে আম্বালা ক্যান্টমেন্ট রেলওয়ে স্টেশনে হঠাৎ করেই প্রসব যন্ত্রণা উঠলে রেল স্টেশনেই সন্তানের জন্ম দেন ওই নারী। এরপর কয়েকদিন আম্বালা সিভিল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন মা ও সন্তান। গত ১৫ এপ্রিল সিভিল হাসপাতাল থেকে মা ও সন্তানকে স্থানান্তরিত করা হয় চন্ডীগড়ের সেক্টর ৩২-এ অবস্থিত গর্ভনমেন্ট মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে (জিএমসিএইচ)।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, জিএমসিএইচ-এ যাওয়ার পর থেকেই সদ্যজাত সন্তানকে ওই নারী প্রচণ্ড মারধর করতেন। বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পরই তা জানানো হয় উইমেন অ্যান্ড চাইল্ড হেল্পলাইনে।

সিডব্লিউসি’র চেয়ারপার্সন সঙ্গীতা বর্ধন জানান, ‘বিষয়টি জানার পরই মা ও সন্তানকে আলাদা রাখার ব্যবস্থা করা হয়। সিডব্লিউসি’এর নির্দেশ অনুযায়ী মা ও সন্তানকে আবার মিলিত করা হবে যাতে শিশুটির কোনো ক্ষতি না হয়’।

জিএমসিএইচ-এ চিকিৎসার পর শিশুটি শারীরিকভাবে সুস্থ হওয়ায় তাকে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মঙ্গলবারই চন্ডীগড়ের আশিয়ানায় স্পেশালাইজড অ্যাডপশন এজেন্সি (এসএএ) শিশু সুরক্ষা হোমে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশি নারীকে পাঠানো হয় নারী নিকেতনে।

সিডব্লিউসি’এর এক কর্মকর্তা জানান, ‘শিগগির মা ও সন্তানকে মিলিত করা হবে। তবে আমরা এটা নিশ্চিত হতে চাইছি যে ওই নারী যাতে নতুন করে সহিংস হয়ে না ওঠেন’।

কিন্তু সিডব্লিউসি কর্তৃপক্ষের সবচেয়ে মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ওই বাংলাদেশি নারীর ভাষা সমস্যা। কারণ ওই নারী কাশ্মীর ও বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণে তা বুঝতে সমস্যা হচ্ছে। এমনকি বাংলাদেশি ওই নারীর ভাষা বুঝতে পশ্চিমবঙ্গের স্বর্ণকারেরও সহায়তা নেওয়া হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি।

সিডব্লিউসি’র চেয়ারপার্সন সঙ্গীতা বর্ধন এই ভাষা সমস্যার কথা স্বীকার করে জানান, ‘প্রতিদিনই ওই নারীকে কাউন্সেলিং করানো হচ্ছে ঠিকই কিন্তু ভাষা সমস্যা একটা প্রধান বাধা হয়ে দেখা দিয়েছে’।

তবে সীমান্ত পেরিয়ে ওই বাংলাদেশি নারীর ভারতের জম্মু-কাশ্মীরে প্রবেশ করা এবং সেখানে বিয়ে করার বিষয়টি এখনও পরিষ্কার নয় বলেও জানান তিনি।

ইতোমধ্যেই ওই বাংলাদেশি নারীর বিষয়ে খোঁজ খবর শুরু করেছে ভারতের ইন্টেলিজেন্স এজেন্সিগুলো। ওই নারী বাংলাদেশ থেকে কিভাবে কাশ্মীরে গিয়ে পৌঁছলেন, সেখানে কোন ঠিকানায় তিনি ছিলেন তা সবটাই জানার চেষ্টা করছে গোয়েন্দারা। কোনো নারী পাচার চক্রের খপ্পড়ে পড়েছিলেন না অন্য কোন অসৎ উদ্যেশ্য ছিল তাও জানার চেষ্টা করছে তদন্তকারী কর্মকর্তারা।

অন্যদিকে, কোন আইনে ওই বাংলাদেশি নারীকে নারী নিকতনে প্রেরণ করা হয়েছে তা জানতে রাজ্যটির সোশ্যাল ওয়লফেয়ার ডিপার্টমেন্ট’ও আইনি মোতাবেক কাজ শুরু করেছে।