কলার আড়তে কেমিক্যালের গ্যালন

99

* এই কলা খাওয়া বিষ খাওয়ার মতো : ম্যাজিস্ট্রেট
* ৫০ কাঁদি কলা জব্দ

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে কলার আড়তে অভিযান চালিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার দুপুরে ডিএমপির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মশিউর রহমানের নেতৃত্বে অভিযানে চালানো হয়। এ সময় সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে একটি দোকানে ক্ষতিকারক বাই-কার্বনেট কেমিক্যালের গ্যালন পাওয়া যায়। এ ছাড়া ৫০ কাঁদি কলা জব্দ করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, কলা দ্রুত পাকানোর জন্য ক্ষতিকারক এই কেমিক্যাল ব্যবহার করা হত।

সরেজমিনে মোর্শেদ এন্টারপ্রাইজে নামের একটি দোকানে গিয়ে বিপুল সংখ্যক কাঁচা কলার ও আধা পাকা কলার কাঁদি দেখা যায়। দোকানের এক কোণে একটি প্লাস্টিকের পর্দার নিচে সবুজ কলাগুলো ঢেকে রাখা হয়। এর পেছনেই ক্যাশ বাক্স। ক্যাশ বাক্সের সামনেই ছিল একটি খালি গ্যালন। গ্যালনে বাই-কার্বোনেট লেখা।

এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মশিউর রহমান বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা কলা পাকানোর জন্য এই বাই-কার্বনেট কেমিক্যাল ব্যবহার করেছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে এই কলা খাওয়া বিষ খাওয়ার মতো। তাই জব্দ করা ৫০ কাঁদি কলা বিনষ্ট করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, কলা পাকানোয় সত্যিই বাই-কার্বনেট ব্যবহার করা হয়েছে কি না এ বিষয়ে কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেননি ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা অভিযানে উপস্থিত মান নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বিএসটিআইর ফিল্ড অফিসার এ এফ এম হাসিবুল হাসান।

কেমিক্যাল ব্যবহারের অভিযোগে মোহাম্মদ আব্দুল হালিম (২৯) নামের এক ব্যবসায়ীকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডও দিয়েছেন আদালত।

kola3

দোকানে পাওয়া গেলো ক্ষতিকারক বাই-কার্বনেট কেমিক্যালের এই গ্যালন।

অভিযুক্ত আব্দুল হালিম জাগো নিউজের কাছে দাবি করেন, ‘আমরা কলা হিট দিয়ে পাকাই। কাঠের কুঁড়ায় আগুন দিয়ে ২৪ ঘণ্টা ঢেকে রাখলে কলা পেকে যায়। আমরা কেমিক্যাল ব্যবহার করি না, আগুনের তাপে পাকাই। ওই গ্যালন খালি ছিল।’

মশিউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনাদের উপস্থিতিতে আমরা দোকান থেকে বাই-কার্বনেটের গ্যালন উদ্ধার করেছি। বিএসটিআইর ( বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন) ইন্সপেক্টর নিশ্চিত করেছে কলা পাকানোর সময় বাই-কার্বনেট ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়াও ওই ছেলে (আব্দুল হালিম) মিডিয়ায় কী বলেছে জানি না, আমাদের কাছে কেমিক্যাল মিশ্রণের কথা স্বীকার করেছে।’

তবে একাধিকবার জিজ্ঞেস করার পরও জাগো নিউজসহ অন্যান্য গণমাধ্যমের কাছে কেমিক্যাল ব্যবহারের কথা অস্বীকার করেন আব্দুল হালিম।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসটিআইর ফিল্ড অফিসার এ এফ এম হাসিবুল হাসান জাগো নিউজকে বলেন, ‘কেমিক্যাল ব্যবহারের কথা আব্দুল হালিম স্বীকার না করলেও যেহেতু গ্যালন উদ্ধার হয়েছে, তাই আমরা ধরে নিয়েছি যে সে ব্যবহার করতো। কীভাবে ব্যবহার করেছে তা আমরা দেখিনি, এ বিষয়ে ম্যাজিস্ট্রেট স্যার ভালো বলতে পারবেন। তবে এই কেমিক্যালটি এমন একটি যৌগ, এটি খোলা জায়গায় পরীক্ষা করা যায় না। এটি ল্যাবে পরীক্ষা করতে হয়।’

kola3

ঘটনাস্থলে অভিযুক্ত মোর্শেদ এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটার মো. মোর্শেদ না থাকলেও তার সঙ্গে ফোনে কথা হয় জাগো নিউজের। তিনি বলেন, এই আড়তের কোথাও কলা পাকাতে কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় না। হিটে কলা পাকানো হয়। অভিযানে কোনো শনাক্তকরণ যন্ত্র ব্যবহার না করেই কলাগুলো জব্দ করা হয়। এ ছাড়া যেই গ্যালনটি উদ্ধার করা হয়েছে সেটি আমার দোকানের পাশের কবির নামে এক ব্যবসায়ীর দোকান থেকে পাওয়া গেছে। অথচ আমাদের এন্টারপ্রাইজের ব্যবসায়ী আব্দুল হালিমকে আটক করা হলো। আর আমাদের দোকানের কলা জব্দ করে বিনষ্ট করা হয়েছে।

কারওয়ান বাজারে ডিএমপির অভিযানে কলা ছাড়াও অপরিপক্ব কাঁচা আম পাকা বলে বিক্রির অভিযোগে ৩৫০ কেজি আম জব্দ করে বিনষ্ট করা হয়। অভিযানের সময় সোনার বাংলা বাণিজ্যালয়ের দোকানের মালিক কিংবা কর্মচারী কেউ উপস্থিত ছিলেন না।

এর আগে গত ১৫ মে কারওয়ান বাজারের একই আড়ত থেকে আমে ক্ষতিকারক ইথোফেন হরমোন স্প্রে করার দায়ে আটজনকে বিভিন্ন মেয়াদে (সর্বনিম্ন ১ মাস ও সর্বোচ্চ ৩ মাস) কারাদণ্ড দেন র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম।