পানছড়িতে ভয় দেখিয়ে বাজার বর্জন : লক্ষ লক্ষ টাকার লোকসান ব্যবসায়ীদের

33

বিপ্লব তালুকদার,খাগড়াছড়ি : খাগড়াছড়ি পানছড়ি উপজেলাতে সাপ্তাহিক হাট বাজার প্রতি (রবিবার ) ইউনাইডেট পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) ক্রেতা-বিক্রেতাদের চাপ প্রয়োগে অদুশ্যভাবে ভয়ভিত্তি দেখিয়ে বাজার বর্জন করে। যার ফলে লক্ষ লক্ষ টাকার লোকসান দিতে হয়েছে বাজার ব্যবসায়ীদের।এদিকে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পানছড়ি-খাগড়াছড়ি সড়কে গাড়ি ভাংচুর এর মধ্যে দিয়ে কোন যানবাহন চলাচল করেনি।

আকস্মিক বাজার বর্জনের ঘোষণার পর পুরো পানছড়ি বাজার এখন পাহাড়ি ক্রেতা-বিক্রেতা শূণ্য। উৎপাদিত কাঁচা তরিতরকারী বাজারে আনতে না পারায় তা পচে যাচ্ছে। ক্ষতির মুখে পড়েছে কৃষক। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে এলাকায় মানবিক বিপর্যয়ের আশংকা দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ পাহাড়ি-বাঙালি সকল স¤প্রদায়ের মানুষ।

পানছড়ি বাজারে প্রায় পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ী রয়েছে। প্রতি রোববার পানছড়ি বাজারের হাটবার। ওইদিন এ বাজারে হাজারো পাহাড়ি-বাঙালির মিলন মেলায় পরিণত হয়। কিন্তু রোববার (২০ মে) সরেজমিনে দেখা গেছে, পুরো বাজার বিরাজ করছে শূণ্য । কোন পাহাড়ি ক্রেতা-বিক্রেতা বাজারে আসেনি। কয়েকজন বাঙালি বিক্রেতা মালামাল নিয়ে বসে থাকলেও কোন ক্রেতা নেই।

বাজারের ব্যবসায়ী, ক্রেতা-বিক্রেতাদের অভিযোগ, প্রসীতের ইউপিডিএফ’র দাবীকৃত চাঁদা না দেওয়ায় সংগঠনটি রোববার (২০ মে) থেকে বাজার বর্জনের ঘোষণা দেয়। কোন পাহাড়ি বাজারে আসলে অর্থদন্ডসহ প্রাণে মেরে ফেলারও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে ক্ষুব্ধ সাধারণ পাহাড়ি-বাঙালি সব স¤প্রদায়ের মানুষ। বাজার বর্জনের সঙ্গে সঙ্গে খাগড়াছড়ি-পানছড়ি সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাড়ী ভাংচুরের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন চালকরা।

ক্রেতা রূপন চাকমা জানান, প্রসীতের ইউপিডিএফ পানছড়ি বাজার বর্জন করে সাধারণ পাহাড়িদের বাজারে না আসতে নিষেধ করেছে। কেউ নির্দেশ অমান্য করলে ব্রাশ ফায়ারে হত্যার হুমকি দিয়েছে।

স্থানীয় কৃষক দিপন চাকমা বলেন, প্রসীত পন্থি ইউপিএিফ’র বাজার বর্জণ ঘোষণা দেওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে সাধারণ পাহাড়িরা। বাজার বর্জনের ঘোষণার কারণে পাহাড়িরা তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে আনতে না পারায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

অপর কৃষক বিক্রম ত্রিপুরা বলেন, আমারা নিরীহ। দিনে এনে দিনে খায়। বাজারে যেতে না পারলে অনেক পাহাড়ির চুলোয় আগুন জ্বলবে না।

পানছড়ির টমটম চালক মনিরুল ইসলাম জানান, ইউপিডিএফ বাজার বর্জনের পাশাপাশি গাড়ী চলাচলেও বাধা দিচ্ছে। কেউ রাস্তায় গাড়ী নামলে ভাংচুর করা হচ্ছে।

কাঠ ব্যবসায়ী রনি ত্রিপুরা জানান, আমরা সাধারণ পাহাড়ি জঙ্গল থেকে কাঠ সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি না করলে সংসার চলে না। কিন্তু ইউপিডিএফ’র বাজার বর্জনের কারণে সব বন্ধ হয়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে পরিবার-পরিজন না খেয়ে মারা যাবে।

পানছড়ির নার্সারী ব্যবসায়ী নিজাম উদ্দিন বলেন, ইউপিডিএফ-কে চাঁদা না দিয়ে কোন ব্যবসা করা যায় না। এটা দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে। রাস্তায় চারা নিয়ে নামলে চাঁদা দিতে হবে। অন্যথায় অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নির্যাতন করা হয়।

পানছড়ি বাজার উন্নয়ন কমিটির সভাপতি হেদায়েত তালুকদার বলেন, কয়েকদিন ধরেই প্রসীতের ইউপিডিএফ বাজার বর্জনের হুমকি দিয়ে আসছে। রোববার থেকে তা কার্যকর হলো। এতে বাজারের প্রায় পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ী বিপাকে পড়েছে। চাঁদাবাজির কথা তিনি অকপটে স্বীকার করে বলেন, ব্যবসা করলে চাঁদা দিতে হবে। এটা সর্বজন স্বীকৃত।

পানছড়ি থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান জনান, তিনি বাজার বর্জন ও চাঁদাবাজির কথা শুনেছেন। তবে লিখিতভাবে কেউ জানাননি। কেউ অভিযোগ করলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পানছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুল হাসেম ইউপিডিএফ’র বাজার বর্জনের কথা স্বীকার করে বলেন, এ ঘোষণা জনস্বার্থ বিরোধী অনৈতিক কাজ। তারা যে কাজটি করেছে এটি একেবারে জনস্বার্থ বিরোধী। এটা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। কারণ পাহাড়িরা তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে বিক্রি করে আবার বাজার থেকে পণ্য কিনে নিয়ে যায়। এটাকে নিমূল করার জন্য জনগণকে আস্থায় নিয়ে এসে বাজার প্রতিষ্ঠা করার জন্য প্রশাসনের যা করা দরকার প্রশাসন করবে এবং বাজারের ব্যবসায়ী নিরাপত্তা দিতে প্রশাসন কাজ করছে এবং করবে।

তিনি কতিপয় সংগঠনের ‘বাজার বর্জনের ঘোষণা ও চাঁদাবাজিসহ এসব কর্মকান্ড অনৈতিক’ দাবী করে তা প্রতিরোধে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

ইউপিডিএফ’র (প্রসীত) অন্যতম সংগঠক মাইকেল চাকমা তাদের বিরুদ্ধে বাজার বর্জনের ঘোষণাকে হাস্যকর আখ্যায়িত করে বলেন, এটা জনসাধারণ উদ্ধত পরিস্থিতির শিকার হয়ে বাজারে আসছে না।