ব্যবসার আড়ালে ইয়াবা বেচাকেনা

27

রাজধানীর হাতিরপুলে কেউ টাইলসের ব্যবসায়ী, পুরান ঢাকার ইসলামপুরে কারও কাপড়ের ব্যবসা। কেউবা জড়িত ট্রাভেলস এজেন্সির ব্যবসায়। কিন্তু বৈধভাবে এই ব্যবসা করে তারা কেউ কাঙ্ক্ষিত সফলতা পাননি। তাই অন্যের প্ররোচনায় দ্রুত ধনী হওয়ার স্বপ্ন দেখে তারা জড়িয়ে পড়েন ইয়াবা বেচাকেনায়।

মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর সূত্র জানায়, ৪ মে গ্রেফতার হওয়া ইমরানুল হক (২৫) ও তাইজুল খান (২৭)  সচ্ছল পরিবারের সন্তান। স্নাতকোত্তর পাস করার পর দুই বন্ধু জড়িয়ে পড়েন মাদক ব্যবসায়। ব্যবসায় ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। এরপর দ্রুত ধনী হতে টেকনাফের ইয়াবা কারবারিদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। শুরু করেন ইয়াবা কেনাবেচা। মাদক মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর আদালতে হাজির হয়ে এভাবে স্বীকারোক্তি দেন ইমরানুল হক (২৫) ও তাইজুল খান (২৭)।

গত ৪ মে শ্যামপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের একটি দল আট হাজার ইয়াবাসহ এই দুই যুবককে গ্রেফতার করে। পরে তাদের বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় আরও ৫২ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট। আদালতে তারা জানান, রাজধানীর নর্দার্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুজনে ২০১৫ সালে ব্যবসায় ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর করেন। দুজনই ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ইমরানুলের বাড়ি কক্সবাজারের টেকনাফ, আর তাইজুলের মাদারীপুরে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় এক যুবকের মাধ্যমে টেকনাফের এক ইয়াবা ব্যবসায়ীর সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে ইয়াবা পাচারকারী ইমরানুল ও তাইজুলকে প্রস্তাব দেন ইয়াবা বিক্রির কাজ নিতে। গ্রেফতার হওয়া দুই যুবক বলেছেন, তারা বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই তৈরি পোশাকসামগ্রী বিক্রি করতেন, তাদের ট্রাভেল এজেন্সিও আছে। তবে তদন্ত কর্মকর্তারা মনে করছেন, তারা আসলে ট্রাভেল এজেন্সির আড়ালে ইয়াবা ব্যবসা করতেন।

গত ১৭ মে রাজধানীর ভাটারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে দেড় কোটি টাকা মূল্যের ইয়াবাসহ শহিদুল ইসলাম (৩৩) নামে এক ব্যক্তি ও তার গাড়ি চালক আবদুল খালেক ওরফে আকাশকে (৩৮) গ্রেফতার করে র‌্যাব। র‌্যাব জানায়, পুরান ঢাকার ইসলামপুরে একটি কাপড়ের দোকান রয়েছে শহিদুল ইসলামের। মূলত গাউছিয়া থেকে পণ্য কিনে ইসলামপুরে পাইকারি মূল্যে বিক্রি করতেন তিনি। তবে দ্রুত অর্থ লাভের আশায় দুই বছর আগে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন শহিদুল। কাপড়ের ব্যবসার আড়ালে করতেন ইয়াবার ব্যবসা। শহিদুলকে এ কাজে সাহায্য করতেন তার গাড়িচালক আবদুল খালেক ওরফে আকাশ (৩৮)। র‌্যাব-১ সূত্র জানায়, শহিদুল ইসলাম পোশাকের ব্যবসার আড়ালে মাদক ব্যবসা করতেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুই বছর ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন শহিদুল। আবদুল খালেক শহিদুলের প্রাইভেট কার চালাতেন। ওই প্রাইভেট কারটি মাদক পরিবহনে ব্যবহার করা হতো। খালেক ও শহিদুল কক্সবাজার থেকে আসা ইয়াবা ট্যাবলেটের চালান সংগ্রহ করে প্রাইভেট কারের মাধ্যমে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে পাইকারি ও খুচরামূল্যে সরবরাহ করতেন বলে স্বীকার করেছেন।

মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর সূত্র জানায়, গত বছরের ৯ জুলাই এলিফেন্ট রোড, কলাবাগান ও পশ্চিম রাজাবাজারে পৃথক তিনটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, নগদ দুই লাখ ৮০ হাজার টাকাসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন আসমা আহমেদ ডালিয়া (৩৭), তার স্বামী রবিউল ইসলাম, স্বপ্না বেগম ও তার স্বামী শামীম আহমেদ, ডালিয়ার মা মনোয়ারা বেগম ও আত্মীয় পরিচয় দেওয়া মাহমুদা রানী। এ ব্যাপারে কলাবাগান ও নিউমার্কেট থানায় মামলা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন ভূইয়া জানান, আসামিদের গ্রেফতারের পর আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নেওয়া হয়।

এ সময় জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, হাতিরপুলে রেইন বাথ নামে একটি স্যানেটারি সামগ্রীর ব্যবসার আড়ালে মাদকের ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। মাত্র কয়েক বছর ভয়ঙ্কর নেশা ইয়াবার অবৈধ ব্যবসা করে তারা কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। চলন বলনে লেগেছে আভিজাত্যের ছোঁয়া। হয়েছেন বিশাল অর্থ বিত্তের মালিক। এই মামলায় আদালত ডালিয়ার মা মনোয়ারা বেগম ও আত্মীয় পরিচয় দেওয়া মাহমুদা রানীর বয়স বিবেচনায় এবং ডালিয়ার ছোট বোন স্বপ্না বেগম অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় তাদের জামিন দিয়েছে। অন্য তিনজন এখনো কারাগারে।