বর্ষা বহুদুর উজানের ঢলে বিপদ সীমায় কুমিল্লার গোমতী

25

বারী উদ্দিন আহমেদ বাবর, কুমিল্লা প্রতিনিধি॥ ষড় ঋতুর এ দেশে আষাঢ় শ্রাবন মাস হলো বর্ষা কাল। আজ মঙ্গলবার ৮ জৈষ্ঠ্য (২২ মে)। বর্ষাকাল শুরু হতে এখনো অনেক সময়। কিন্তু এরই মাঝে উজানের পাহাড়ী ঢল ও ভারী বর্ষণে কুমিল্লার গোমতী নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমায় প্রবাহিত হচ্ছে।

গত দু’দিনের ভারী বর্ষণের পাশাপাশি উজানের ঢলে গোমতীর চরের হাজার একর গ্রীষ্মকালীন সবজি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে চরাঞ্চলের সহ¯্রাধিক পরিবার। পানি বেড়ে এখন বিপদ সীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে নদীর দুই তীর উপচে পানি প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের কোন দুর্ঘটনা। তাই এখনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের অনুরোধ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

গোমতী নদীর আদর্শ সদর উপজেলার বানাশুয়া, রত্বনতী, চাঁনপুর, টিক্কারচর এবং বুড়িচং উপজেলার বালিখাড়া, কামাড়খাড়া, শ্রীপুর ও গোবিন্দপুর অংশে ঘুরে ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত দু’দিন ভোর রাতে ও সকালে ভারি বর্ষণ এবং সীমান্তবর্তী ভারতীয় পাহাড়ী ঢলে গোমতীর চর ডুবে যায়। এতে সংগ্রহের অপেক্ষায় থাকা কোটি টাকার গ্রীষ্মকালীন চাল কুমড়া, ঢেড়শ, বরবটি, করলা, কাকরোল, পুইশাকসহ শতাধিক হেক্টর বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে যায়।

গোমতী পাড়ের আদর্শ সদর উপজেলার শাহাপুর এলাকার কৃষক আবদুল মজিদ, মোতালেব হোসেন ও বাতেন মিয়া জানান, গত দুই দিনের ভারী বর্ষণ আর পাহাড়ী ঢলে চরে তাদের উৎপাদিত করলা, ঢেড়শ, বরবটির খেত পানির নীচে তলিয়ে গেছে।

জানতে চাইলে কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দিলিপ অধিকারী জানান, গোমতীচরে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চরের সবজি খেত ও বেশ কয়েক হেক্টর বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে সে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।

এদিকে, চর ডুবে পানি বেড়িবাধের কাছে চলে আসায় নদীর ভিতরে বসবাস করা সহ¯্রাধিক পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। গোমতীর চাঁনপুর, পালপাড়া, গোলাবাড়ী এলাকার পাঁচশতাধিক পরিবার ও বুড়িচং-দেবিদ্বার ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মিলিয়ে প্রায় সহ¯্রাধিক পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়ে। রাতে পানি বাড়তে থাকলে চরের বাসিন্দারা তাদের ঘরে মালামাল গোমতীর তীরে তুলে আনার চেষ্টা করলেও ভোর রাতে ভারী বর্ষণের কারণে তা আর সম্ভব হয়নি।

তবে, এ রিপোর্ট লেখার সময় আজ মঙ্গলবার (২২ মে) সকাল সাড়ে নয়টার সময় পর্যন্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পানি কমতে শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল লতিফ বলেন, আমি এখানে নতুন যোগ দিয়েছি। গোমতীর পানি বৃদ্ধির বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।