গোদাগাড়ী উপজেলা শিক্ষা অফিসার অপসারনের দাবিতে প্রতিবাদ সভা

79

শামসুজ্জোহা বাবু,গোদাগাড়ী প্রতিনিধিঃ রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলা শিক্ষা অফিসারের অপসারনের দাবিতে উপজেলা পরিষদের হল রুমে প্রতিবাদ সভা করেছে উপজেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা শিক্ষক সমিতির সদস্যগণ।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় উপজেলার ১৬৫ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ অনান্য শিক্ষকরা উপজেলা শিক্ষা অফিসার নূর-উন-নাহার রুবিনার বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্ণীতি, অসদাচারণসহ নানা অভিযোগ তুলে তাকে অপসারনের দাবি জানান।

অনান্য শিক্ষক নেতারা বলেন, এই কর্মকর্তাকে অপসারণ করে আমাদের শিক্ষক সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে শোকচ বাতিল করতে হবে। না হলে ভবিষ্যতে আমরা আরো কঠোর কর্মসূচি গ্রহন করবো।

প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাজাহান আলী শাহীন বলেন, বিভিন্ন সময়ে কোন কাজে শিক্ষা অফিসে গেলে আমাদের শিক্ষা কর্মকর্তাকে কার্যালয়ে পাওয়া যায় না। প্রতিদিন নির্ধারিত সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত অফিসের হাজির হওয়ার কথা থাকলেও তিনি দুপুর ১২ টায় অফিসে আসেন আবার তাড়াতাড়ি চলে যান। যে কোন কাজ তিনি আমাদের সাথে সমন্বয় করে করেন না। নিজের ইচ্চামত করেন। মাসিক সমন্বয় মিটিং প্রতি মাসে নির্ধারিত সময় হয় না। সকল শিক্ষকের সাথে অসদাচরণ করেন। বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের সভাপতি প্রতিবাদ করায় তাকে শোকজ করেছে এবং সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের শোকজ করবো বলে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখান।

এসময় সভায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি সাবিয়ার রহমান সাবু, সাধারণ সম্পাদক শাজাহান আলী শাহীন,আহসানুল হক, সিহাব উদ্দীন, আয়েজউদ্দীর, গোলাম রসুল, মইনুল হকসহ সকল প্রধান শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নূর-উন-নাহার রুবিনার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে এ বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষকরা এ ধরণের প্রতিবাদ সভা করেছে আমার জানা নেই। আমি জেলায় আছি পরে কথা হবে বলে ফোন কেটে দেন।

প্রসঙ্গত ২০১৬ সালে তৎকালিন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা নূর-উন-নাহার রুবিনার বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ড কাপ ফুটবল টুনামেন্টকে বিরুপ মন্তব্য ও মাটিকাটা ক্লাস্টারের দায়িত্ব থাকার সময় অর্থ আত্মসাত করায় তাকে অপসারণের দাবিতে উপজেলার সকল শিক্ষকগণ বিক্ষোভ ও মানববন্ধন শেষে উপজেলা র্নিবাহী অফিসারের মাধ্যমে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী, সচিব ও অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে স্বারকলিপি প্রদান করা হয়েছিল। এরপর ২০১৮ সালে পদন্নোতি পেয়ে হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলা শিক্ষা অফিসার হিসেবে যোগদানের আগেই গোদাগাড়ীতে বদলী হয়ে আসেন।

শিক্ষকদের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে দূর্নীতি, অনিয়ম ও শিক্ষকদের প্রতি খারাপ আচারণ করে কি করে পার পেয়ে যাচ্ছে এই শিক্ষা কর্মকর্তা।