‘পাগল’ হয়ে সৌদি থেকে ফিরল এক নারী

111

গত দুই মাসে সাত নারী সৌদি আরব থেকে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে দেশে ফিরেছেন । এদের মধ্যে কয়েকজনকে পরিবার ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে । এদেরই একজন মমতাজ ফিরেছেন । একটি বেসরকারি সংস্থার তত্ত্বাবধানে চলছে তার চিকিৎসা ।

একটু স্বচ্ছলতার আশায় নয়মাস আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমানো মমতাজ খানম শুক্রবার ভোরে সৌদি এয়ার লাইন্সের একটি ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন । তবে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে । রিক্রুটিং এজেন্সি বি.এস ইন্টারন্যাশনালতো দূরের কথা পরিবারও জানত না ফিরছে সে । অস্বাভাবিক আচরণ দেখে হেল্পডেক্স থেকে কল পেয়ে এয়ারপোর্টে ছুটে যান অভিবাসী নিয়ে কাজ করা এনজিও কর্মী নয়ন । তিনি জানান, গত দুই মাসে মমতাজের মতো আরো সাত নারী সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ।

ব্র্যাক মাইগ্রেশনের তথ্য কর্মকর্তা আল আমিন নয়ন বলেন, ‘এই মেয়েটা ৯ মাস আগে জেদ্দায় গিয়েছিলো । প্রথমে ভালোই ছিলো । হঠাৎ একমাস যাবৎ পরিবারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নাই । জেদ্দায় সে মানসিকভাবে খুব বিপদ গ্রস্ত ছিলো, ওখানকার নিরাপত্তা রক্ষীদের মারতে যাচ্ছিলো ।’

প্রথমে রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেয়া হলে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে তাকে পাঠানো হয় জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে ।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনিস্টিটিউট ও হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মাহফুজা ইসলাম বলেন, ‘এই মুহূর্তে তার মানসিক সমস্যা দেখা যাচ্ছে । তার আরো চিকিৎসার প্রয়োজন আছে ।”

শনিবার পরিবারের সদস্যসহ আবারো এখানে আসতে হবে তাকে। সে পর্যন্ত অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম ওকাপই হবে মমতাজের ঠিকানা। সেখানে আরো এমন কয়েকজন নির্যাতিতার আশ্রয় মিলেছে।

এমন নারীদের ক্ষেত্রে বেশিরভাগেরই পরিবার তাদের ফেরত নিতে চাননা বলেও জানায় ওকাপ। ওকাপের ম্যানেজমেন্ট অফিসার শাহিনুর আক্তার বলেন, ‘আমরা তাকে কাউন্সিলিং করে দেখবো সে কতটুকু মানসিকভাবে অসুস্থ। তারপর তার চিকিৎসা করে আমরা চেষ্টা করবো পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার।’