এনটিআরসিএ’র দিকে কর্তৃপক্ষের নজর, ১হাজার শিক্ষক সঙ্কট শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত

89

এস.এম. সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট :

বাগেরহাটে বিভিন্ন বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় শিক্ষক সঙ্কটের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। চলতি বছরে শূন্যপদের সংখ্যা হাজারে পৌঁছেছে ২০১৭ সালে বাগেরহাটে ৬ শতাধিক শিক্ষকের পদ শূন্য । জানা যায়, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিয়োগের দায়িত্ব রয়েছে এনটিআরসিএ’র ওপরে। কিন্তু বিভিন্ন মামলার কারণে এর কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রায় দেড় বছর ধরে তারা কোনো শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারেনি। বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির ওপর ক্ষমতা না থাকায় তারাও কোনো শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারছে না।

২০১৭ সালের জুন মাসের প্রাপ্ত শূন্য পদের তথ্য অনুযায়ী ২৮৬টি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৬০০ শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে। এই ২৮৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে এমপিওভুক্ত ও নন-এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে ৫/৭টি পদও শূন্য সুতরাং সে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রমের কথা বিবেচনা করলে ওই সকল প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ছে। এ ছাড়া নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পড়েছে আরও বিপাকে।

বাগেরহাট জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শূন্য পদের মধ্যে শারীরিক শিক্ষা, গণিত, বিজ্ঞান ও ইংরেজি বিষয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ রয়েছে অনেক। অপরদিকে নন-এমপিও প্রতিষ্ঠানে এনটিআরসিএ কর্তৃক নিয়োগকৃত শিক্ষকরা যোগদান না করেই ফিরে যাচ্ছেন। তাই নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে মহাবিপদের মধ্যে রয়েছেন। বিভিন্ন জটিলতার কারণে এনটিআরসিএ দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন করতে পারছে না। ফলে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

মোরেলগঞ্জ লতিফিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ ভারপ্রাপ্ত ড. মোঃ রুহুল আমিন খান জানান, তার মাদ্রাসায় গুরুত্বপূর্ণ ইংরেজি ওআরবি ৩টি শিক্ষকের পদ প্রায় দেড় বছর ধরে শূন্যও রাত প্রহরী শূন্য থাকায় মাদ্রাসায় পড়াশোনার চরম ব্যাঘাত ঘটছে।মামলার কারণে মাদ্রাসায়কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। লুটন-বৃটিশ হেলপিং হ্যান্ড মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুশফিকুর রহমান জানান, তার বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষকের পদ শূন্য। ম্যানেজিং কমিটির হাতে নিয়োগ না থাকায় শূন্য পদ শূন্য রয়ে যাচ্ছে। আর এনটিআরসিএ নিয়োগ দিলে নতুন শিক্ষকরা নন-এমপিওভুক্ত স্কুলে থাকতে চান না। ফলে তাদের বিদ্যালয়ে কিভাবে শিক্ষাদান কার্যক্রম চলবে তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।

বাগেরহাট সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক অফিসার মাছুদা আক্তার জানান, শিক্ষক নিয়োগদানের ক্ষমতা তাদের হাতে নেই। প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক ছাড়া বাকি সকল শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার জন্য এনটিআরসিএ চূড়ান্ত বাছাই করে তালিকা প্রণয়ন করে থাকে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এনটিআরসিএ দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে শিক্ষক সঙ্কট দূরীভুত করবেন। এ প্রসঙ্গে বাগেরহাট জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ কামরুজ্জামান জানান, এনটিআরসিএ শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম চালাচ্ছে। আমাদের কাছে চাহিদা চাইলে আমরা প্রতিষ্ঠান থেকে শূন্য পদের তালিকা পাঠিয়ে দিই। খুব শিগগিরই এনটিআরসিএ এসব শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ দেবেন বলে তিনি আশাবাদী।