১ জুন থেকে যুক্তরাজ্যে রোহিঙ্গাদের নিয়ে বাবুর আলোকচিত্র প্রদর্শনী

171

মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চলে বর্বরোচিত নির্যাতন, ধর্ষণ, গণহত্যা ও উচ্ছেদ অভিযানে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বিষয়ে বিশ্ব জনমত সৃষ্টির লক্ষ্যে দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ-এর ফটো সাংবাদিক ফোজিত শেখ বাবু এবং যুক্তরাজ্যের এজ হিল ইউনিভার্সিটি যৌথভাবে হু আর দ্যা নিউ ‘ভোট পিপল?’ শীর্ষক আলোচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে।

আগামী ১ জুন এজ হিল ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে এই প্রদর্শনী শুরু হবে। প্রদর্শনীটি শেষ হবে ১৪ জুন। বিশ্ববিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে প্রদর্শনী।

২০১৭ সালের আগস্ট থেকে মিয়ানমারের বিপথগামী সেনাবাহিনী রাখাইন এলাকায় নির্বিচারে গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়। এতে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাড়িঘর ছেড়ে প্রাণ বাঁচাতে পার্শ্ববর্তী দেশ বাংলাদেশের দিকে ছুটে। বাংলাদেশ সরকারও মানকিতার হাত বাড়িয়ে প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়। এসব বিষয় নাড়া দিয়েছে সারা বিশ্বকে। নাড়া দিয়েছে ফটো সাংবাদিক ফোজিত শেখ বাবুকেও। তাই তিনি ছুটে যান রোহিঙ্গা শিবিরে। তুলেছেন অনেক মর্মান্তিক চিত্র। সেইসব ছবিগুলো তুলে ধরা হবে এই প্রদর্শনীতে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দুঃখ দুর্দশা ও বর্তমান অবস্থানের ওপর মোটি ৩৫টি ছবি নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে এই প্রদর্শনী।

১ জুন স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬.৩০ মিনিটে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও ফারসী জনপ্রিয় চিত্রশিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদের বাংলাদেশ-পাকিস্তান সমঝোতা এবং রোহিঙ্গাদের নিয়ে আাঁকা চিত্র প্রদর্শন, ডকুমেন্টরি প্রদর্শন। রোহিঙ্গাদের দিকে বিশ্ববাসীর চোখ ফেরাতে বর্তমান অবস্থান তুলে ধরবেন এজ হিল ইউনিভার্সিটির ভুগোলের সিনিয়র লেকচারার ড. তাসলিম শাকুর। যিনি রোহিঙ্গাদের বন্ধু নামে পরিচিত।

গত বছরে ড. তাসলিম শাকুর রোহিঙ্গা সংকট নিরসনের চেষ্টায় অভিনব উপায় বেচে নিয়েছিলেন। রোহিঙ্গা শরণার্থী ইস্যুর প্রতি ব্রিটেনবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে নিজের কাঁচাপাকা চুল নীল আর দাঁড়ি সবুজ রঙে রাঙিয়েছিলেন। শুধু তিনিই না, শিক্ষকের অভিনব, কিন্তু মহৎ এই উদ্দেশ্যের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ড. তাসলিম শাকুরের বহু শিক্ষার্থীও তাদের চুল-দাঁড়ি-গোঁফে নানা কিম্ভূত রঙ করেছিলেন। কারও চুলের রঙ নীল, কারও সবুজ, কারও গোলাপি, কারও আবার রঙধনু! চুলে রঙ লাগানো ছাড়াও এক মাসের রোযাও রেখে ছিলেন ড. তাসলিম শাকুর।

সেই থেকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সমর্থনে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছিলেন ড. তসলিম শাকুর। তিনি স্বশরীরে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পও পরিদর্শন করেছেন। রোহিঙ্গাদের সহায়তাও করেছেন। এখন নির্যাতিত এই জনগোষ্ঠীর দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের লক্ষ্যে বিশ্ববাসীর চোখ রোহিঙ্গাদের দিকে ফেরাতে নিজ উদ্যোগে এবং ইউনিভার্সিটির সহযোগিতায় রোহিঙ্গাদের নিয়ে এই সব ডকুমেন্টরি, প্রতিবেদন প্রকাশ ও প্রদর্শনীর আয়োজন করছেন।

এই ব্যাপারে ফটো সাংবাদিক ফোজিত শেখ বাবু বলেন, আপনারা জানেন বর্তমানে প্রায় ১৩ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এইসব রোহিঙ্গাকে মানবতার খাতিরে আশ্রয় দিয়েছি আমরা। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী আমাদের মতো দেশের জন্য এই বিশাল জাতিগোষ্ঠীর ভার নেওয়া প্রায় অসম্ভব। তাই এই সব রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে বিশ্ব জনমত সৃষ্টির লক্ষে আমার এই আলোকচিত্র প্রদর্শনী।

তিনি আরো বলেন, সীমিত সামর্থ্যে দেশ-বিদেশের সংকট ও সাফল্য তুলে ধরার উদ্যোগ আমার এটিই প্রথম নয়। এর আগেও বিভিন্ন জায়গায় আমি অনেক আলোকচিত্র প্রদর্শনী করেছি।

আর এই প্রদর্শনীর সুযোগ করে দেয়ায় ধন্যবাদ জানায় এজ হিল ইউনিভার্সিটিকে, সেই সাথে আরো ধন্যবাদ জানায় ড. তসলিমকে শাকুরকে। যার সহযোগিতায় এমন একটি প্রদর্শনী আমি করতে পারছি। এই প্রদর্শনীর পর লন্ডন শিল্পকলা একাডেমিতেও রোহিঙ্গাদের নিয়ে আমার আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।

উল্লেখ্য, এটি বাবুর সপ্তম আলোকচিত্র প্রদর্শনী। এর আগেও তিনি দেশ-বিদেশে ৬টি আলোচিত্র প্রদর্শনী করেছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য- ‘স্টপ দ্য ক্লাইমেট চেঞ্জ’, ‘বাঁচাও নদী শীতলক্ষ্যা’, ‘বাঁচাও নদী বুড়িগঙ্গা’, ফ্রান্সে ‘দুরন্ত শৈশবে বই-আনন্দ’, ‘প্যারিস কেন সুন্দর’ স্লাইড-শো।