গোপালগঞ্জে অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণের দাবি এলাকাবাসীর : সম্ভাব্য স্থান সনাক্ত করেছে জেলা প্রশাসন

79

এম শিমুল খান, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি :

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বৌলতলী বা তার আশপাশ এলাকায় একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণের দাবি এখন এলাকাবাসীর প্রাণের দাবি হয়ে উঠছে । ইতিমধ্যে জেলাবাসী গত ২৫ মে গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি এফবিসিসিআই’র সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম এর কাছ থেকে জানতে পেরেছে প্রথম ধাপেই গোপালগঞ্জে গড়ে উঠতে যাচ্ছে দু’টি অর্থনৈতিক অঞ্চল ।

গোপালগঞ্জে দুটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য স্থান সনাক্ত করে প্রেরন করা হয়েছে। আর এ কারনেই উত্তর গোপালগঞ্জের উলপুর, দূর্গাপুর, করপাড়া, বৌলতলী, সাতপাড়, সাহাপুর, সিংগা, জলিরপাড়, হাতিয়াড়া, নিজড়া ইউনিয়নের মানুষ বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে সোচ্চার হয়ে উঠছে । ওই এলাকায় একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠলে তারা ভবিষ্যতে এখান থেকে নানা ধরনের উপকার পেতে পারবে । বিশেষ করে কাজের সুযোগ বাড়বে এবং নতুন নতুন শিল্প কলকারখানা হলে এলাকার উন্নয়নও তরান্বিত হবে এটা চিন্তা করে তারা তাদের এলাকায় একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার দাবী জানিয়েছেন ।

সদর উপজেলার বৌলতলী বাজারের উত্তরে গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট সড়কের পাশে কুমার মধুমতির তীরে বৌলতলী বিলে রয়েছে প্রায় ৭শ’ একর জমি। এখানকার জমির মালিকরা অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরীতে তাদের জমি দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আর এখান থেকে কোটালীপাড়া. কাশিয়ানী, রামদিয়া, গোপালগঞ্জ, মুকসুদপুর, টেকেরহাটসহ চতুরদিকে যাতায়াতের জন্য অসংখ্য প্রসস্থ পাঁকা সড়ক রয়েছে । এখানেই কুমার মধুমতি নদীতে রয়েছে সাতপাড়, জলিরপাড়, বৌলতলী ও উলপুর ব্রীজ । যে কারনে এই এলাকায় অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরী করা হলে এখানে মানুষের যাতায়াত ও পন্য পরিবহনে কোন সমস্যা দেখা দেবে না।
তাছাড়া এই এলাকায় অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরী হলে গোপালগঞ্জের সবচেয়ে অনুন্নত এই এলাকার হাজার হাজার বেকার যুবক ও যুব-মহিলা কর্ম সংস্থানের সুযোগ পাবে। এ কারনেই উত্তর গোপালগঞ্জের প্রায় ১৫টি ইউনিয়নের মানুষ সদর উপজেলার বৌলতলী বা আশপাশ এলাকায় একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরীর দাবি জানিয়েছে ।

উলপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম বাবুল, দূর্গাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাজিব আহম্মেদ, করপাড়া ইউনিয়নের
চেয়ারম্যান সিকদার শাহ সুফিয়ান, বৌলতলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সুকান্ত বিশ্বাস, সাতপাড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সুজিৎ মন্ডল সুর্য, সাহাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সুবোধ হীরা, সিংগা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রনব সরকার, জলিরপাড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অখিল বৈরাগী, হাতিয়াড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেব দুলাল বিশ্বাস ও নিজড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান সরদার বলেন, স্বাধীনতার পর ধেকেই উত্তর গোপালগঞ্জের তেমন কোন উন্নয়ন হয়নি । জেলার অন্যান্য এলাকায় ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মানের উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চক্ষু হাসপাতাল, এ্যাসেনশিয়াল ড্রাগস, প্রাইমারী শিক্ষক প্রশিক্ষন কেন্দ্র,
শেখ রেহানা টেক্সটাইল কলেজ, মৎস্য প্রশিক্ষন ইসষ্টিটিউট, পারমানবিক কেন্দ্র, সরকারী পলিটেকনিক কলেজ, মহিষ প্রজনন কেন্দ্রসহ অনেক উন্নয়ন মূলক প্রতিষ্ঠান তৈরী হয়েছে। যার সুফল পাচ্ছে সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা । উত্তর গোপালগঞ্জের এই এলাকায় সম্প্রতি কেবল মাত্র কয়েকটি রাস্তা ও কয়েকটি ব্রীজ নির্মান ছাড়া উন্নয়ন মূলক আর তেমন কিছুই হয়নি। যার সুবাদে এখানকার মানুষ শহরের মুখ দেখতে পায়। এসব কারনে স্থানীয় জন প্রতিনিধিরা উত্তর গোপালগঞ্জের বৌলতলীতে বা এর আশপাশ
এলাকায় একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন । যাতে এই এলাকার হাজার হাজার বেকার যুবক ও যুব-মহিলা কর্ম-সংস্থানের সুযোগ পায় ।

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির জনশক্তি ও কর্ম-সংস্থান সম্পাদক বাবুল আকতার বাবলা, গোপালগঞ্জ শহর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম নজরুল ইসলাম, জেলা কৃষক লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক লিয়াকত আলী খান, জেলা স্বেচ্ছা সেবক লীগের সদস্য এস এম নজরুল ইসলাম, সাতপাড় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বিধান বালা, সাহাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রঞ্জিত হীরা, বৌলতলী ইউনিয়ণ স্বেচ্ছা সেবক লীগ সভাপতি হরিচাদ বালা, সাতপাড় যুবলীগ সভাপতি বিধান বালা, করপাড়া স্বেচ্ছা সেবক লীগ সভাপতি রুবেল হোসেন রবজেল, সাহাপুর স্বেচ্ছা সেবক লীগ সভাপতি গোপাল সরকার, সাতপাড় স্বেচ্ছা সেবক লীগ সভাপতি মানব বিশ্বাস, করপাড়া ছাত্রলীগ সভাপতি সজিব মোল্লাসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সকল শ্রেনী পেশার মানুষ উত্তর গোপালগঞ্জের বৌলতলী বা এর আশপাশ এলাকায় একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবী জানিয়েছে ।

বিষয়টি নিয়ে আলাপকালে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকার বলেছেন, গোপালগঞ্জে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে আমরা অনুমোদন পেয়েছি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজের মাঝে গড়ে তোলা হবে এটি । গোপালগঞ্জে আরো কয়েকটি অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরী করা হবে। কাশিয়ানী উপজেলার ফুকরায়, টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বালাডাঙ্গায়, সদর উপজেলার গোলাবাড়িয়ায় জায়গা দেখা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছে। তবে এফবিসিসিআই এর সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম সাতপাড়-রামদিয়া সড়কের পাশে সাতপাড় এলাকায় একটি জায়গা দেখেছেন। তবে উত্তর গোপালগঞ্জের সবাই যদি চায় যে বৌলতলী এলাকায় বা আশপাশে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণ করা হোক এবং এলাকার মানুষ তাদের জমি দিতেও রাজী হয় তাহলে আমরা সে বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে দেখবো ।