আউশ ধান চাষ করে লাভবান হচ্ছেন পঞ্চগড়ের কৃষক

47

পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ বোরো ধান আবাদ শেষে ও আমনের আগে বর্ষা মৌসুম পর্যন্ত জমি পতিত রাখেন। বর্ষার মাঝামাঝি তারা ওই জমিতে আমনের চারা রোপণ করেন। কিন্তু কয়েক বছর ধরে কৃষকরা বোরো এবং আমন আবাদের মাঝামাঝি সময়ে ব্রি ধান-৪৮ জাতের আউশ ধান চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। এ নিয়ে কৃষকদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টিসহ নানাভাবে সহযোগিতা করছে কৃষি বিভাগ।

কৃষি বিভাগ ও কৃষকরা জানায়, পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকায় বেশ আগে থেকেই আউশ ধানের আবাদ করতেন কৃষকরা। কিন্তু সঠিকভাবে কীটনাশক ও বালাইনাশক ব্যবহার না করায় ধানের উৎপাদন কমে যেত। পাশাপাশি গান্ধি নামে এক প্রকার পোকার আক্রমণে চালের রং কালো হয়ে যেত। এছাড়া এই সময়ে আবাদ না থাকায় নানা প্রজাতির পোকার আক্রমণেও ক্ষতিগ্রস্ত হতো আউশ খেত। এ কারণে ধীরে ধীরে স্থানীয় কৃষকরা আউশ ধানের আবাদ ছেড়ে দেন। তারা গম এবং বোরো আবাদের পর তিন মাস পর্যন্ত আবাদি জমি পতিত ফেলে রাখতেন।

তবে কৃষি বিভাগসহ স্থানীয় একটি বেসরকারি সংস্থার পরামর্শে বর্তমানে সেই জমিতে স্বল্পমেয়াদি বিভিন্ন জাতের আউশ ধান আবাদ করা হচ্ছে। আমন আবাদের আগে আউশ মৌসুমে এই জাতের ধানের বীজ রোপণের ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে চারা রোপণ করা যায় এবং ৭০ থেকে ৭৫ দিনের মধ্যে ধান কাটা যায়। সব মিলিয়ে ৯০ থেকে ১০০ দিনেই কৃষকরা আউশ ধান ঘরে তুলতে পারেন। এ সময় ধানের দামও সাধারণত বেশি থাকে। এ জন্য আউশ আবাদে বোরো অথবা আমন ধানের চেয়ে ফলন কম হলেও লাভবান হন কৃষকরা।  গত মৌসুমে জেলায় ২৩৬ হেক্টর জমিতে আউশ ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও চাষ করা হয় ২৮০ হেক্টর জমিতে। চলতি বছর ২৭৬ হেক্টর জমিতে আউশ ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও এখন পর্যন্ত ৭৪২ হেক্টর জমিতে চারা রোপন করা হয়েছে বলে জানায় কৃষি বিভাগ।

সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের ডাংগাপাড়া গ্রামের কৃষক ইসলাম হোসেন বলেন, আমি এবার প্রায় এক বিঘা জমিতে স্বল্পমেয়াদি আউশ ধান আবাদ করেছি। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামীতে আউশ আবাদে জমির পরিমাণ বাড়াব।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. শামছুল হক বলেন, এবার জেলার ৪৩৪ হেক্টর জমিতে ব্রি ধান-৪৮ এবং আরও কিছু জমিতে ব্রি ধান-২৮ সহ স্থানীয় স্বল্পমেয়াদি জাতের বীজ রোপণ করা হয়েছে। গম অথবা বোরো ধান কাটার পর পতিত জমিতে এই আউশ ধান চাষ করছেন কৃষকরা। প্রতি বছর আউশ আবাদের জমির পরিমাণ বাড়ছে। এবার এক হাজার হেক্টর জমিতে আউশ ধানের চাষ সম্প্রসারণ হতে পারে।