জেলা আওয়ামীলীগের ইফতারে মেয়র রফিকের যোগদান নিয়ে চাঞ্চল্য,নির্বাচন ঘিরে ঐক্যের আভাস

75

বিপ্লব তালুকদার,খাগড়াছড়ি :

খাগড়াছড়িতে জেলা আওয়ামীলীগের ইফতারে পৌর মেয়র রফিকের যোগদান নিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে । শনিবার জেলা পরিষদ কমিউনিটি সেন্টারে জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা’র উদ্যোগে আয়োজিত এই ইফতারে আওয়ামীলীগের একটি অংশ যোগ না দিলেও মেয়র রফিক যোগ দিয়েছেন। তিনি ইফতারের ১০/১৫ মিনিট আগে খাগড়াছড়ির রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ ও জেলা প্রশাসক মো: রাশেদুল ইসলামের পেছন পেছন ইফতার প্যান্ডেলে প্রবেশ করেন। মেয়র মো: রফিকুল আলমের সাথে এমপি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা’র বিরুপ সম্পর্ক বিগত ২০১৫ সালের পৌর নির্বাচন থেকেই। আজকের ইফতারে মেয়র রফিক ছাড়া দাওয়াত পেয়েছেন সেসব নেতাদের মধ্যে তাঁদের ঘরানার আওয়ামীলীগসহ অন্যান্য সংগঠনের কাউকেই দেখা যায়নি।

এই দুই জনপ্রতিনিধি’র বিবাদে খাগড়াছড়িতে আওয়ামীলীগের রক্তক্ষয়ী সংঘাত লেগেই আছে। সর্বশেষ গত ২৪ মার্চে প্রতিপক্ষের হামলায় মো: রাসেল নামের এক ওয়ার্ড ছাত্রলীগ নেতা নিহত হয়েছেন । দলের সব কর্মসূচিও পালিত হয় পৃথক অফিসে এবং আলাদাভাবেই। বেশিরভাগ নেতাকর্মী জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা’র সাথে থাকলেও জেলাশহরে পৌর মেয়র রফিকুল আলমের প্রভাবই বেশি দেখা যায়। বিভিন্ন সময় সরকারি সভা-সমাবেশে তাঁরা এক মঞ্চে বসলেও কথা বলা তো দূরে থাক, সম্বোধনও করেন না। সে অবস্থায় শনিবারের ইফতারে আকস্মিক পৌর মেয়রের উপস্থিতি আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদেরকে অবাক করেছে। ইফতার শেষে উপস্থিত নেতাকর্মীরা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, সামনে নির্বাচন। আওয়ামীলীগের বিরোধের সুযোগ নিচ্ছে বিএনপি। তাই নিজেদের বিবাদ মিটিয়ে একসাথে চলার কোনই বিকল্প নেই।
তবে কয়েকদিন আগে মেয়র রফিকের অনুসারী আওয়ামীলীগের ইফতার পার্টিতে সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরাকে দাওয়াত জানানো হয়নি ।

এদিকে জেলা আওয়ামীলীগের একজন শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কেন্দ্রের নির্দেশনাতেও মিলেমিশে কাজ করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। সে লক্ষে সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে অন্যদের সাথে যোগাযোগও করা হয়েছে। কিন্তু তাঁরা এটিকে দুর্বলতা ভেবে জোর করে দলের স্থায়ী অফিস দখল করে আছে ।

জেলা আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতা মংসুইপ্রু চৌধুরী অপু বলেন, দলীয় ইফতার পার্টিতে অধিকাংশ রাজনৈতিক দলকেই দাওয়াত দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে বিএনপিও রয়েছে। আজকের ইফতার মাহফিলে বিপুল নেতাকর্মী এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে প্রমাণিত হয়েছে, এমপি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা’র নেতৃত্বে খাগড়াছড়ির মানুষ ঐক্যবদ্ধ ।

জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সা: সম্পাদক নির্মলেন্দু চৌধুরী বলেন, বড়ো দলের নেতাদের মনও বড়ো হয়ে থাকে। এমপি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা নিজেকে খাগড়াছড়ি জেলার প্রতিনিধিই মনে করেন। তাই এখানকার অন্য সব জনপ্রতিনিধিও তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ন ।

এ বিষয়ে মেয়র রফিকুল আলম বলেন, সংসদ সদস্য মহোদয়ের সরকারি পদ-পদবীসহ দাওয়াত পেয়েছি। সম্মিলিত ইফতারকে ধর্মীয় বিধি-বিধানেও উৎসাহিত করা হয়েছে। এটি সামাজিকতার মধ্যেই পড়ে । খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেন, আমার সামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে দলমত নির্বিশেষে সকলকে আমন্ত্রণ জানাই। আমি নিজেও দাওয়াত পেলে উপস্থিত থাকার চেষ্টা করি। পৌর মেয়র আজকের ইফতারে যোগ দিয়েছেন। এটি একটি ভালো নজির।

তবে রাজনৈতিক বিরোধ মিটিয়ে আগামী নির্বাচনে এক সাথে কাজ করার বিষয়ে কোন মন্তব্য করেন নি সংসদ সদস্য । ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত খাগড়াছড়ি পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর সাথে কাজ করা না করা নিয়ে মেয়রের বড়ো ভাই ও তৎকালীন জেলা আওয়ামীলীগের সা: সম্পাদক মো: জাহেদুল আলমকে প্রথমে জেলা ও পরে কেন্দ্র থেকে বহিস্কার করা হয়। সেই নির্বাচনে দ্বিতীয়বার মেয়র নির্বাচিত হলেও তাঁর প্রতিদ্বন্ধী এবং আপন জেঠাতো ভাই মো: শানে আলমের পরিবারের সাথেও বিরোধ তুঙ্গে উঠে। তখন থেকে দ্বিধাবিভক্ত আওয়ামীলীগের একাংশের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন মেয়র রফিক।