নাঙ্গলকোটে নার্সদের ভূল চিকিৎসায় অকালে ঝরে যেতে হয়েছে প্রসূতি পিংকী আক্তারকে

35

জামাল উদ্দিন স্বপন-কুমিল্লা :

নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তারদের নিয়মিত অনুপস্থিতিতে নার্সরা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ভুমিকা পালন করছেন। নার্সদের ভূল চিকিৎসায় অকালে ঝরে যেতে হয়েছে গৃহবধু প্রসুতি পিংকী আক্তারকে (২০)। সে উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের মকিমপুর গ্রামের কৃষক আবদুল মালেকের স্ত্রী। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার সকালে উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের মকিমপুর গ্রামের কৃষক আবদুল মালেকের স্ত্রী প্রসুতি পিংকী আক্তারকে (২০) তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন ডেলিভারীর জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। দীর্ঘ সময় ডাক্তারদের অনুপস্থিতিতে তিন নার্স নাজমা, মমতাজ ও শাহিদা আক্তার পিংকী আক্তারের ডেলিভারী করানোর জন্য ডাক্তারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। তারা স্বাভাবিক ডেলিভারীর জন্য পিংকী আক্তারকে হাসপাতালের লেভার রুমে নিয়ে যান। সেখানে আধা ঘন্টা হাটাচলাফেরা করান এবং ব্যাথা বাড়ানোর জন্য ঔষুধ ও স্যালাইন দেন। পরে ব্যাথা বাড়লে নার্সরা পিংকীর শ্বাশুড়িকে চিকিৎসক ডেকে অস্ত্রোপাচার (সিজার) করার জন্য বলেন। এছাড়া নার্সরা স্বাভাবিকভাবেও সন্তান প্রসবের জন্য কালক্ষেপন করতে থাকেন। পরে নার্সরা নিজেরাই পিংকীর স্বাভাবিক ডেলিভারী করানোর জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

এক পর্যায়ে পিংকী ব্যাথারত অবস্থায় অজ্ঞান হয়ে পড়লে তার জরায়ুর কিছু অংশ কেটে বাচ্চা প্রসব করানো হয়। এসময় পিংকীর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকলে নার্সরা চিকিৎসক লতিফা আহমেদ লতাকে ডেকে নিয়ে আসলে তিনি পিংকিকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে নবজাতক ছেলে সন্তানটি সুস্থ রয়েছে ।

এবিষয়ে পিংকির শ্বাশুড়ি ছপুরা বেগম (৪০) অভিযোগ করে বলেন, পিংকীর ডেলিভারি করার সময় আমি লেবার রুমে ছিলাম। কর্তব্যরত নার্সরা ইচ্ছাকৃত ভাবে আমার পুত্রবধুর জরায়ুতে বিভিন্ন অস্ত্র দিয়ে তিনটি কাটা দেয়। তাৎক্ষনিক সে চিৎকার করে মুখে লালা ছেড়ে দেয়। কিছুক্ষণপর তার মৃত্যু হয়। এরপর ডাঃলতিফা আহম্মেদ লতা গিয়ে তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। দুঃখের বিষয় হচ্ছে জম্মের পর আমার পুত্রবধু তার সন্তানকে দেখে যেতে পারেনি। নার্সদের অবহেলায় আমার নাতি মা হারা হয়েছে। আমি এঘটনায় দায়ী নার্সদের সুষ্ঠ বিচার চাই।

এব্যাপারে জানতে চাইলে নার্স মমতাজ খুব উত্তেজিত হয়ে বলেন, আমি কোন কিছু জানি না। এসময় অপর দুই নার্সকে হাসপাতালে পাওয়া যায়নি। এব্যাপারে ডাঃ লতিফা আহমেদ লতা বলেন-নার্সদের মাধ্যমে পিংকীর স্বাভাবিক ডেলিভারীর এক পর্যায়ে নার্সরা আমাকে ডেকে আনেন। ওই সময় পিংকী আক্তারের শ্বাস কষ্ট শুরু হয় এবং সে হার্ট স্ট্রোক করে। পরে পিংকী আক্তার সন্তান প্রসব করে। আমি দ্রুত তাকে অক্সিজেন এবং স্যালাইন দিয়ে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করি। কিন্তু পথিমধ্যে
পিংকী আক্তার মারা যায়।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ দেব দাস দেবের মুঠো ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন ডা: মুজিবুর রহমান জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে সঠিক ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ পেলে যদি কোন নার্স বা চিকিৎসকের অবহেলা পাওয়া যায় তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

জানা যায়, নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স্রে কর্মরত চিকিৎসকরা সপ্তাহে ২/৩দিন করে কর্মস্থলে আসেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সকাল সাড়ে আটটা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত আউটডোরে চিকিৎসকের সেবা দেয়ার কথা খাকলেও উপস্থিত চিকিৎসকরা সকাল ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত হাসপাতালে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘড়ির কাঁটা ১টা পার হলেই তারা বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক অথবা কুমিল্লার বাসায় চলে যান। এছাড়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে প্রতি রোগীকে ভালোভাবে না দেখে মাত্র এক মিনিট
করে দেখার অভিযোগ রয়েছে ।

অন্যদিকে গোহারুয়া ২০শষ্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল, বিভিন্ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসকদের নিয়োগ দেয়া হলেও তারা কখনো গোহারুয়া ২০শষ্যা হাসপাতাল ও বিভিন্ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতো না বসে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বসেন বলে অভিযোগ রয়েছে।