২০২০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ভারতকে ছেড়ে যাবে পরিকল্পমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল

96

জামাল উদ্দিন স্বপন-কুমিল্লা :

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপি বলেছেন, নাঙ্গলকোটের মানুষের অনেক পরিবর্তন হয়েছে। নাঙ্গলকোটের সর্বত্র রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, ঘরে-ঘরে বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রদান করা হয়েছে । গ্রামে এখন তিনতলা ভবন তৈরী হচ্ছে । দেশের মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে। তিনি একটি জাতীয় দৈনিকের প্রকাশিত সংবাদের উদ্বৃতি দিয়ে বলেন, পত্রিকাটি লিখেছে আগামী ২০২০সালের মধ্যে বাংলাদেশ ভারতকে ছেড়ে যাবে। ২০৩০সালের মধ্যে বাংলাদেশ পৃথিবীর উন্নত দেশ তাইওয়ানকে ছেড়ে যাবে। আমরা বাংলাদেশকে স্বপ্নের দেশ হিসেবে গড়তে চাই ।

পরিকল্পনামন্ত্রী গতকাল শনিবার নাঙ্গলকোট উপজেলা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগের উদ্যোগে উপজেলা হ্যলিপ্যাডে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন । তিনি আরো বলেন, রমযান মাসে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করার জন্য আমরা কাজ করবো। রমযান মাসে আমরা ইফতার করবো, তারাবিহর নামায পড়বো
এবং ভালো কাজ করবো। আমরা মিথ্যা কথা বলব না। প্রতিবেশি এবং এতিমের হক নষ্ট করবো না। মানুষের প্রতি ভাল ব্যবহার করবো, ন্যায় বিচার করবো। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবো বার-বার যেন রমযান দেয়। আল্লাহকে খুশি করার জন্য কাজ করতে হবে। সে জন্য এমাসটিকে কাজে লাগাতে হবে।

আল্লাহ পবিত্র কোরআন শরীফসহ অনেক ধর্মীয় গ্রন্থ রমযান মাসে পাঠিয়েছেন । আমরা মা-বাবা এবং ভাইবোনদের সাথে দুর্বব্যবহার করবো না। শিক্ষকের সাথে খারাপ ব্যবহার করবো না। আমি কারো বিরুদ্ধে নই । পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন- আমি মন্ত্রীত্ব চাই না। নাঙ্গলকোটের মানুষের ভালোবাসা এবং সম্মান চাই। আমি দুর্নীতি করি না। ঠিকাদারদের নিকট থেকে টাকা নেই না। আমি দেখেছি-২০০১সালের পর আমাদের উপর কিভাবে অত্যাচার করা হয়েছে। আমার ভাইয়ের দাঁতভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। হাজার-হাজার মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। উত্তরে যা ঘটেছে, দক্ষিণেও তা ঘটেছে। ঘরের টিন খুলে নেয়া হয়েছে। পুকুরের মাছ লুট করা হয়েছে। গরু লুট করে দাওয়াত খাওয়া হয়েছে।

আমি নাঙ্গলকোটের সাবেক সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন ভুঁইয়াকে দেখেছি। এমন নেতা পাওয়া যাবে না। তিনি আমাদের
মাঝ থেকে হারিয়ে গেছেন। জয়নাল আবেদীন ভুঁইয়া মামলার জন্য ঢাকার হাইকোর্টের বরান্দায় ঘুমিয়েছেন। ১১ হাজার লোকের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে।

তিনি ২০০১ সালের বিএনপি-জামায়াত সরকারের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, তারা আগামীতে রাজনীতি করতে পারবে কিনা প্রশ্ন রয়েছে। তারা রাজনীতি করতে হলে ২০০১ সালের পর মা-বোনের ইজ্জত নষ্ট, গরু, মাছ, লুটসহ যা ক্ষয়ক্ষতি করেছে কড়া-গন্ডায় হিসাব দিয়ে রাজনীতি করতে হবে।

তারা ক্ষতিপূরণ না দিয়ে রাজনীতি করতে পারবে না। আমি যা-যা বলেছি সেভাবে কাজ করেছি। আমি নাঙ্গলকোট, সদর দক্ষিণ ও লালমাই বুঝি না। আমি সবার প্রতিনিধিত্ব করছি। আমি আপনাদের পরিবারের একজন। নাঙ্গলকোট উপজেলা আওয়ামীলীগ আহবায়ক রফিকুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা চেয়ারম্যান সামছুউদ্দিন কালু, উপজেলা আওয়ামীলীগ প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন, উপজেলা আওয়ামীলীগ সাবেক সভাপতি এ্যাডভোকেট
মোস্তাফিজুর রহমান লিটন, উপজেলা আওয়ামীলীগ যুগ্ন আহবায়ক অধ্যক্ষ ছাদেক হোসেন ভুঁইয়া, আবুল খায়ের আবু, উপজেলা আওয়ামীলীগ সদস্য সচিব অধ্যক্ষ আবু ইউছুফ, উপজেলা যুবলীগ আহবায়ক ও পৌর মেয়র আবদুল মালেক, উপজেলা যুব লীগ সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আবু ইউছুফ ভুঁইয়া। বক্তব্য রাখেন উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক সুমন, সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক মামুন প্রমুখ। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগ যুগ্ম আহবায়ক উপাধ্যক্ষ নুরুল্লাহ মজুমদার, তৌহিদুর রহমান মজুমদার, উপজেলা পরিষদ সদস্য আবু বক্কর ছিদ্দিক আবু, আবু তাহের চেয়ারম্যান, সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিন আক্তার মুন্নি, উপজেলা যুবলীগ যুগ্ন আহবায়ক আবুল বাশার জয়, উপজেলা ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি মহিনউদ্দিন, ডিগ্রী কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি ওবায়দুল হক প্রমুখ।

পরিকল্পনামন্ত্রী এর আগে উপজেলা মৎস্য অফিসের উদ্যোগে আয়োজিত উপজেলা অডিটরিয়ামে সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার দাউদ হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত
ছিলেন- উপজেলা চেয়ারম্যান সামছুদ্দিন কালু, উপজেলা আওয়ামীলীগ আহবায়ক রফিকুল হোসেন চেয়ারম্যান, সদস্য সচিব অধ্যক্ষ আবু ইউসুফ, নাঙ্গলকোট পৌরসভা মেয়র আবদুল মালেক, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আবু ইউছুফ ভূঁইয়া, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা লুৎফুন্নাহার প্রমুখ। অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি বৃহত্তর কুমিল্লা জেলার মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নিবন্ধিত ৪০ জন জেলেদের মাঝে উপকরণ সামগ্রী সেলাই মেশিন (এ আই জি এ) বিতরণ করেন ।