বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উদ্যোগে ‘‘বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রস্তাবিত যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ আইন (খসড়া) বিষয়ে’’ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

132

সকাল ১০:৩০ মিনিট বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের আনোয়ারা বেগম, মুনিরা খান মিলনায়তন, ১০/বি/১, সেগুনবাগিচা, ঢাকা-তে ‘‘আসুন যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলি’’ এই আহ্বান জানিয়ে প্রস্তাবিত যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ আইন (খসড়া) বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। যৌন হয়রানি ও নীপিড়ন প্রতিরোধে প্রচলিত আইনী
কাঠামোর মধ্যে প্রতিরোধমূলক ও সুরক্ষার ব্যবস্থাসহ প্রস্তাবিত আইনের খসড়া বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এর আইন সংস্কার বিষয়ক বিশেষজ্ঞ কমিটির সদস্যদের সুপারিশের ভিত্তিতে হালনাগাদ করা হয়েছে। উক্ত খসড়া প্রস্তাবনা বিষয়ে এই মতবিনিময় সভাটি করা হয়। মতবিনিম সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আয়শা খানম। কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের পরিচালক লিগ্যাল লিগ্যাল অ্যাডভোকেসি এন্ড লবি অ্যাড. মাকছুদা আখ্ধসঢ়;তার।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ২০০২ সাল হতে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি নির্যাতন প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল ও কলেজে মতবিনিময় সভা শুরু করে। উক্ত মতবিনিময় সভাসমূহে উত্ত্যক্তকরণ, যৌন হয়রানি ও
নিপীড়ন প্রতিরোধে আইনী সুরক্ষার বিষয়ে জোরালো সুপারিশ আসে। পরবর্তীতে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনামূলক রায়ে যৌন নিপীড়ন ও শাস্তি সম্পর্কে সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন এবং কার্যকর শাস্তির বিধান করে এবিষয়ে আইন প্রণয়নের কথা বলা দেয়া হয়েছে।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম বলেন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ নারী নির্যাতন প্রতিরোধের ক্ষেত্রে প্রতিরোধ, সুরক্ষা ও শাস্তিমুলক ব্যবস্থায় বিশ্বাসী। আইনের দ্বারা সমাজের নিয়ম-নীতি পরিচালিত হয়। কিন্তু এই আইন পিতৃতন্ত্রের প্রভাবমুক্ত নয়। সামাজিত নিয়ম-নীতি নারীকে অধঃস্তন করে রাখে । এটা শুধুমাত্র অবদমন নয়, নারীর প্রতি নির্যাতন। এর মূল কারণ হচ্ছে নারীকেসম্পূর্ণ মানবসন্তন ভাবা হয় না। নারীকে সম্পূর্ণ মানবসন্তান মনে করে সমাজে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষেই কাজ করছে নারী আন্দোলন। মানব সমাজের পরিচালনার জন্য আইন খুবই গুরূত্বপূর্ণ। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য মাত্রায় অন্তর্ভূক্তিমূলক উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে। কাজেই অন্তর্ভূক্তিমূলক উন্নয়নে আইন দিয়ে নারীকে যে বিচ্ছিন্ন রাখা হবে সেই সময় এখন নেই। আইন কিভাবে তৈরি হচ্ছে, বাস্তবে তা কিভাবে প্রভাব ফেলছে এই বিষয়গুলো নিয়ে মহিলা পরিষদ বহুমাত্রিক পদ্ধতিতে কাজ করছে। সব শেষে তিনি বলেন, আমরা অগ্রসর হয়েছি । নারী-পুরুষ উভয়ই রাজপথে থাকবো কিন্তু সেখানে কোন যৌন হয়রানী হবে না তাই আমাদের প্রত্যাশা। সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিষ্টার এ.কে
রাশেদুল হক, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নাজরানা ইয়াসমিন হিরা, টার্নিং পয়েন্ট ফাউন্ডেশনের শিখা খাতুন, হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ এর সুখময় পাল, ব্র্যাকের প্রতিনিধি হাবীবুর রহমান ও দিলরুবা নাসরিন, সেভ দা চিলড্রেনের প্রতিনিধি উম্মে সালমা, পল্লী দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশনের সৈয়দা লতিফা বানু, বাউশির নির্বাহী পরিচালক মাহবুবা বেগম নিরু। বক্তারা বলেন এই আইনে প্রতিষ্ঠানিক শাস্তির বিপরীতে একটি আপীল ফোরাম থাকা দরকার, অভিভাবকদের যুক্ত করা প্রয়োজন, বুদ্ধি ও শারিরীক প্রতিবন্ধীদের বিষয়টি এই আইনের অধীনে আনতে হবে। তারা আরো বলেন গণপরিবহণে যৌন হয়রানি ব্যাপক মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। এক্ষেত্রে গণপরিবহণে যৌন হয়রানির বিষয়টি আরো সুষ্পস্টভাবে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে। বক্তারা এই আইনটি প্রণয়নের বিষয়ে জোরালো দাবি জানান ।

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের অন্যতম সহ-সভাপতি নাহার আহমদ, সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম, সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মাসুদা রেহানা বেগম, লিগ্যাল এইড সম্পাদক সাহানা কবির, সংগঠন সম্পাদক উম্মে সালমা বেগম, শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পাদক বুলা ওসমান, আন্তর্জাতিক সম্পাদক রেখা সাহাসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, আইনজীবী, বিভিন্নসংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদের আইনজীবীবৃন্দসহ মোট ৪০ জন উপস্থিত ছিলেন।

মালেকা বানু
সাধারণ সম্পাদক
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ

সংযুক্তি: ১. বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কর্তৃক প্রস্তাবিত “যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন
নিরোধ আইন (খসড়া), ২০১০”।