ক্রিকেটপ্রেমীরা জোর দাবি জানাচ্ছে চ্যাম্পিয়ন টাইগ্রেসদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর

50

৬ বারের এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন ভারতকে হারিয়ে দেশকে প্রথমারের মতো কোনো টুর্নামেন্টের শিরোপা এনে দিয়েছে নারী ক্রিকেটাররা। পুরুষ ক্রিকেটাররাও এই কীর্তি এখনও করে দেখাতে পারেনি। পুরুষ ক্রিকেট দলে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন তারকার ছড়াছড়ি। তাদের সুযোগ সুবিধাও আকাশছোঁয়া। অন্যদিকে অসংখ্য সংকট মোকাবেলা করে দেশকে অনন্য সম্মান এনে দিলেন সালমা-রুমানা-সানজিদারা।

ক্রিকেটারদের এমন ইতিহাস গড়ার মুহূর্তে তাদের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। অনেকে সরাসরি আবার অনেকে তীর্যকভাবে সোশ্যাল সাইটে প্রকাশ করেছেন নিজেদের মতামত।

সাংবাদিক, ব্লগার আরিফ জেবতিক লিখেছেন, ‘মাঠের ঘাসে পড়া প্রতিফোটা ঘামই নোনা, সেটা পুরুষের হোক কি নারীর হোক। নারীর ক্ষেত্রে সেই নোনা জলের অর্ধেক ঘাম-অর্ধেক লাঞ্ছনা গঞ্জনা সয়ে খেলে চলার চোখের জল। তাই আমাদের এই বিজয়ী খেলোয়াড়দেরকে ফ্ল্যাট-টাকাটুকা না দেন, এমপি টিকিট না দেন- অন্তত একটা এসি কোচে বাড়ি পৌঁছায়া দিয়েন গো।’

নাজমুস সাদাত সবুজ লিখেছেন, ‘ছেলেরা জিতলে টাকা পয়সা বাড়ি গাড়ীর ছড়াছড়ি। দেখি এবার মেয়েরা জিতছে তাদের জন্য আমাদের চিরাচরিত নিয়ম পরিবর্তন হয় কি?’

কামরান উদ্দিন রায়হান লিখেছেন, ‘দঙ্গল’ মুভিতে আমির খানের একটা ডায়ালগ ছিল ঠিক এরকম- ‘আমি আজ পর্যন্ত চেয়েছি ছেলে আমার জন্য গোল্ডমেডেল নিয়ে আসুক। কিন্তু এটা ভাবিনি সোনা তো সোনাই; ছেলে আনুক আর মেয়ে একই কথা।’ ঠিক তাই। অভিনন্দন বাংলাদেশের মেয়েরা।’

হাসিবুল ইসলাম লিখেছেন, ‘কোটি কোটি টাকা, গাড়ি, বাড়ি পেয়েও এত বছরে যেটা ছেলেরা করতে পারেনি, সেটা বাংলার নারীরা করে দেখিয়েছে। ছেলেদের পেছনে ইনভেস্ট না করে বিসিবির উচিত এই নারী দলটার উপর কন্সান্ট্রেট করা। অভিনন্দন বাঘীনীরা।’

উল্লেখ্য, মেয়েদের আন্তর্জাতিক ম্যাচের ফি মাত্র সাড়ে ৬ হাজার টাকার মতো। আর ঘরোয়া ক্রিকেটের ফির অংক শুনলে লজ্জা পেতে হবে। মাত্র ৬০০ টাকা! বিষয়টি সামনে তুলে এনে মহসিন ইসলাম লিখেছেন, ‘ ৬০০ টাকা ম্যচ ফিতেই এশিয়া কাপ……… আর ৩-৪ লাখ টাকা মাসিক বেতনে হোয়াইটওয়াশ। ধন্যবাদ মহিলা ক্রিকেট টিমকে।’

নিদাহাস ট্রফির প্রসঙ্গে টেনে রহমান দুর্জয় তীর্যক মন্তব্যে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলকে অসংখ্য ধন্যবাদ। বাংলাদেশ পুরুষ ক্রিকেট দল যখন নিদাহাস ট্রফিতে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছিল, তখন তাদের জন্য ২ কোটি টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। তাহলে মহিলাদের এই অর্জনে আমাদের প্রধানমন্ত্রী বা বিসিবি কত টাকা পুরস্কার দেয়, এখন শুধু আমি এইটা দেখব। আর তাদের ম্যাচ ফি ও বেতন যেন বাড়ানো হয় এটাই আমার দাবি।’

একটু রাগ নিয়েই আমজাদ করিম লিখেছেন, ‘এখন কি তারা কোটি টাকা বোনাস পাওয়ার যোগ্য হয় নাই? এখন কি সময় হয় নাই তাদের নিয়ে চিন্তা করার তাদের নায্য পাওনা পাওয়ার? কর্তাব্যক্তিরা কি এদিকে নজর দিবেন?’

এমনই অসংখ্য দাবি সোশ্যাল সাইটে তুলে ধরেছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। সংবাদমাধ্যমের কাছেও তারা অনুরোধ জানাচ্ছেন, যাতে তাদের এসব দাবি তুলে ধরা হয়। মেয়েদের জন্য ক্রিকেটপাগল বাঙালির দাবি-দাওয়ার সারকথা একটাই- তাদেরকে পর্যাপ্ত আর্থিক এবং অবকাঠামোগত সুযোগ সুবিধা দেওয়া হোক। স্পনসর না পাওয়ার অজুহাত বন্ধ হোক। সঠিক সুযোগ পেলে শুধু এশিয়া কাপ নয়; বিশ্বের শীর্ষ টুর্নামেন্টগুলোতে অনেক কিছু করে দেখাতে পারবে আমাদের বাঘিনীরা।