পেরুর সাথে জয়ে এগিয়ে থাকল ডেনমার্ক

34

৩৬ বছরের বিরতি। ১৯৮২ সালে সর্বশেষ বিশ্বকাপে খেলেছিল পেরু। দীর্ঘ সময় পাড়ি দিয়ে পেরুভিয়ানরা আবারও উঠে এসেছে বিশ্বকাপে। সি গ্রুপে নিজেদের প্রায় সমশক্তির ইউরোপিয়ান প্রতিপক্ষ ডেনমার্কের মুখোমুখি হলো প্রথম ম্যাচেই।

কিন্তু মোর্দোভিয়া স্টেডিয়ামে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ডেনিসদের কাছে ১-০ গোলে হেরে যেতে হলো লাতিন আমেরিকান দেশটির। সে সঙ্গে দারুণ এক জয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার ক্ষেত্রে সি গ্রুপে এগিয়ে থাকলো ডেনমার্ক।

দুর্ভাগ্য পেরুর জন্য। ডেনমার্কের চেয়ে দুর্দান্ত খেলেও জয় পেলো না তারা। সবচেয়ে বড় কথা, গোলের নিশ্চিত সুযোগ পেয়েও মিস করেছে তারা। প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি পেয়েও সেটা কাজে লাগাতে পারেনি পেরু। ক্রিশ্চিয়ান কিউয়েভা স্পট কিক নিতে এসে গোলপোস্টের অনেক ওপর দিয়ে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

অথচ ভিডিও রেফারেল নিয়েই এই পেনাল্টি নিয়ে ছিল পেরু। ডি বক্সের মধ্যে পেরুর ক্রিশ্চিয়ান কিউয়েভাবাকে ফাউল করেন ইউসেফ পউলসেন। প্রথমে রেফারি পেনার্টির বাঁশি না বাজালেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) সহায়তা নিয়ে পেনাল্টি পায় পেরু।

সি গ্রুপে দিনের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া এবং ফ্রান্স। অস্ট্রেলিয়া বলতে গেলে ঠেকিয়ে দিয়েছিল ফরাসীদের। শেষ মুহূর্তে পল পগবার গোলে ২-১ এ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ফরাসিরা। ওই ম্যাচের পর পেরু-ডেনমার্ক ম্যাচে যে জিতবে, সেই এগিয়ে থাকবে দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার লড়াইয়ে।

খেলার শুরু থেকেই আক্রমণের পসরা সাজিয়ে বসে পেরু। ৫ম মিনিটেই গোলের সুযোগ তৈরি করে পেরুর লুইস অ্যাডভিনচুলা। ৮ম মিনিটে ইয়োশিমার ইয়োতুন বাম পায়ের শট নিয়ে সেটি বাম পাশের বার ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। ১১ এবং ১৩ মিনিটে আরও দুটি আক্রমণ রচনা করে পেরু। কিন্তু গোলপোস্টের দেখা পেলো নো পেরুভিয়ানদের চেষ্টা। ১৪ এবং ১৫ মিনিটেও পরপর দুটি দারুণ সাজানো আক্রমণ ছিল পেরুর। এগুলোও কাজে লাগাতে পারেনি তারা।

২৭ মিনিটে গিয়ে বলার মত একটা আক্রমণ করেন ডেনমার্কের থমাস ডেলানি। তবে তার শট পোস্টের ওপর দিয়ে বাইরে চলে যায়। ২৯ মিনিটে পেরুর জেফারসন ফারফান ডান পায়ে শট নিলে ব্লক করে দেয় ডেনিস ডিফেন্ডাররা। ৪১ মিনিটে ডেনমার্কের থমাস ডেলানি বাম পায়ের শট নিলে সেটি কোনো কাজে আসেনি।

৪৫ মিনিটে পেনাল্টি পায় পেরু। কিউয়েভার পেনাল্টি মিসের পর ডেনমার্কের ইউসেপ পলসেন দারুণ একেটি আক্রমণ করেন। ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেনের পাস থেকে পাওয়া বলটি কোনো কাজেই লাগাতে পারেননি পলসেন।

দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর পরও আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে শুরু করে পেরু। ৫১ মিনিটেই জেন্স স্ট্রেইগার লারসেন ডান পায়ের শট নিলে সেটি চলে যায় ডান পাশ ঘেঁষে। ৫৩ মিনিটে ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেন বাম পায়ের দারুণ এক শট নেন। সেটাও কাজে লাগলো না। ৫৯ মিনিটে গিয়ে গোল আদায় করে নেয় ডেনমার্ক।

ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেনের কাছ থেকে বল পেয়ে বাম পায়ের দারুণ এক শটে পেরু গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ডেনমার্কের ইউসুফ পলসেন। ১-০ গোলে এগিয়ে গিয়েই নিজেদের রক্ষণ জমাট করে ফেলে ডেনিসরা। তবুও পেরু কম চেষ্টা চালায়নি। আক্রমণের পর আক্রমণ করলেও গোল আদায় করতে পারেনি তারা।