ঈদের দিন খালেদা জিয়া স্বজনদের তৈরি খাবার খেলেন

108

উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শনিবার দেশব্যাপী পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। পাঁচ বছরের সাজার বোঝা মাথায় নিয়ে এই দিনও কারাবন্দি রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ফলে ঈদ উপলক্ষে এই দিনে কারাগারে তার জন্য ছিল বিশেষ খাবারের আয়োজন। কিন্তু তিনি কারাগারের কোনো খাবার গ্রহণ করেননি। ফলে ঈদের দিন সকালটা না খেয়েই পার করেছেন তিনি। পরে দুপুরে কারাগারে আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে বাসায় রান্না করা খাবার খেয়েছেন খালেদা জিয়া।

যদিও বিএনপি চেয়ারপারসন সাধারণত বেলা দেড়টার মধ্যে দুপুরের খাবার সেরে ফেলেন। কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ স্বজনদের সাক্ষাতের সময় শনিবার দুপুর ২টায় ঠিক করায় অপেক্ষা করতে হয়েছে তাকে।

পরে ঈদের দিন কারাগারে দুপুর ২টায় স্বজনরা আসলে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় কাটান বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। পরে আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে বাসায় রান্না করা খাবার খান তিনি।

বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে দেখা করতে আসেন খালেদা জিয়ার ভাই শামিম এস্কান্দারসহ অন্যান্য আত্মীয় এবং তার ব্যক্তিগত সচিব আব্দুস সাত্তার ও একজন গাড়িচলকসহ ২০ জন। তারা ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে কারাগার থেকে বের হন।

সাক্ষাত শেষে বের হয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্বজন বলেন, ‘খালেদা জিয়ার সাথে ঈদের দিন কারাগারে দেখা হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা আবেগাক্রান্ত হয়ে পড়েন। তবে খালেদা জিয়ার মনোবল অটুট ছিল এবং তিনি তাদের ধৈর্য ধারণ করতে এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করতে বলেছেন।’

বিএনপি প্রধান দেখা করতে যাওয়া শিশুদের আদর করেন এবং সবার খোঁজখবর নেন।

কারা সূত্র জানায়, ঈদের দিন কারাগার থেকে দেওয়া বিএনপি চেয়ারপারসনের খাবার মেন্যুতে ছিল- সকালে পায়েস, সেমাই ও মুড়ি। দুপুরে নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী ভাত অথবা পোলাও, সঙ্গে ডিম, রুই মাছ, মাংস ও আলুর দম। রাতের আয়োজনে পোলাও, গরু অথবা খাসির মাংস, ডিম, মিষ্টান্ন। কিন্তু সকালে না খেয়ে থেকে দুপুরে কারাগারে আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে বাসায় রান্না করা খাবার খেয়েছেন খালেদা জিয়া।

চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৫ বছরের সাজা ঘোষণার দিন থেকে নাজিমুদ্দিন রোডের পুরাতন কারাগারে আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।