নোয়াখালীতে শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে এসে জামাই খুন

780

নোয়াখালীতে শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে এসে নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন মোঃ জহির হোসেন নামে এক ব্যক্তি।

নোয়াখালী সদর ‍উপজেলার ৮নং এজবালিয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার বিকেলে। নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে আজ ২৬ জুন সন্ধ্যায়।

নিহত জহিরের চার বছরের শিশু সন্তান ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার নিজ বাড়ি থেকে শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে যায় জহির। সেখানে তার স্ত্রী ও শালা-সমন্ধিদের সাথে পারিবারিক কলহের জের ধরে বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে শ্বশুর বাড়ির লোকজন এক হয়ে জহিরকে ব্যাপক মারধর ও কুপিয়ে হত্যা করে। পরে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে রাতে জহিরের গলায় রশি লাগিয়ে হাঁত-পা বেঁধে পাশের খালে ফেলে দেয়।

এদিকে নিজের দোষ আড়াল করতে ২৫ তারিখ সোমবার জহিরের স্ত্রী সন্তানকে সাথে নিয়ে জহিরের খেজে তাদের বাড়িতে যাই। এতে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। বাড়ির লোকজন জানতো জহির শ্বশুর বাড়িতে আছে। কিন্তু জহিরের চাচার বিষয়টি সন্দেহ হয়। তিনি জহিরের চার বছরের শিশুকে আড়ালে নিয়ে বিষয়টি জানত চাই। ছোট্ট শিশুটি যা যা দেখেছে তাই বলে দেয়। শিশুটি বলে আমার আম্মু, নানা, নানি, মামা ও মামিরা মিলে আমার আব্বুকে মেরে ফেলেছে।

ঘটনাটি জানার পর জহিরের চাচা নোয়াখালী সুধারাম থানায় মামলা দায়ের করেন।২৬ জুন জহিরের চাচা লোকজন নিয়ে লাশের খোঁজে জহিরের শ্বশুর বাড়িতে যায়। আশে-পাশের বিভিন্ন এলাকা খুঁজে ব্যর্থ হয়ে বিকেলে তারা ফিরে যায়।

এদিকে বিকেল ৫টার দিকে ৯ নং ওয়ার্ড দক্ষিণ শুল্লুকিয়া এলাকায় খালের মধ্যে হাত-পা বাঁধা একটি মরদেহ ভেসে উঠতে দেখে এলাকবাসী। পরিবারের লোকজন লাশটি জহিরের বলে শনাক্ত করে। পরে এলাকার মেম্বার-চেয়ারম্যানকে খবর দেয়। মেম্বার-চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় সুধারাম থানার এসআই ইমতিয়াজের নেতৃত্বে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য প্রেরণ করে।