আমি সৌদিতে গাড়ি চালাচ্ছি…অবিশ্বাস্য !

81

সৌদি আরবের অধিবাসী রোয়া অলতাউইলি একজন ধাত্রী। সেখানকার নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি দেওয়ার পর রোয়া নিজে গাড়ি চালিয়ে তাঁর কর্মক্ষেত্রে যান। তিনি বিবিসিকে তাঁর অভিজ্ঞতাটি বলেন। তাঁর জবানিতে সেটি তুলে ধরা হলো:

‘আজ স্বাভাবিক দিনের চেয়ে আগেই ঘুম থেকে উঠেছি আমি। উত্তেজনায় সারা রাত ঘুমই হয়নি। আজ নিজে গাড়ি চালিয়ে অফিসে যাচ্ছি। এই প্রথমবারের মতো পেছনের সিটে বসছি না, ড্রাইভারের সিটটায় বসছি। আমি এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না যে জেদ্দার রাস্তায় আমি গাড়ি চালাচ্ছি।

‘সৌদি আরব আজ থেকে নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। মধ্যরাতের পর পর্যন্ত জেগে ছিলাম। নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর মুহূর্ত থেকে আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় মেয়েদের গাড়ি চালানোর ছবি এবং ভিডিও খুঁজছিলাম।

‘প্রথম দিনটি একটু শান্ত, কেননা স্কুলগুলোয় গরমের ছুটি চলছে। অবশ্য সদ্য নতুন, উদ্বিগ্ন চালকদের জন্য এটা ভালোই হয়েছে। বাবার কাছ থেকে কিছু পরামর্শ ও উৎসাহ নিয়ে আমি বেরিয়ে পড়লাম।

‘পুলিশের সামনে পড়ে আমি ভয় পেয়ে থেমে গেলাম না। আমার লাইসেন্স আছে, এবং আমি বৈধভাবেই সৌদি আরবে গাড়ি চালাচ্ছি। কফির দোকান বারিস্তার পাশে গাড়ি থামিয়ে কফি নিলাম। বারিস্তায় আমিই প্রথম নারী ড্রাইভার যে কফি নিল।

‘বাহরাইনে ধাত্রীবিদ্যা পড়ার সময় আমি গাড়ি চালাতাম। ২০০৫ থেকেই আমার ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে। আমার একটি আন্তর্জাতিক লাইসেন্সও রয়েছে। দুবাই, পর্তুগাল ও যুক্তরাষ্ট্রে ছুটি কাটানোর সময়েও আমি ওই লাইসেন্সে গাড়ি চলাতাম।

‘বাহরাইনি লাইসেন্সকে সৌদি লাইসেন্সে পরিণত করাটা ছিল সহজ। কিন্তু ড্রাইভিং টেস্ট দেওয়ার সুযোগটা আর পাওয়া যাচ্ছিল না। এত চাহিদা ছিল, জুলাই অবধি সবকিছুই আগাম বুকড। ভাগ্যক্রমে আমি আর আমার বোন কয়েক সপ্তাহ আগে একটা সুযোগ পাই এবং প্রথমবারেই পাস করি।

‘আমার বাবা ও ভাই আমাকে ও আমার ছোট বোনকে উৎসাহ দেন। তাঁরা লাইসেন্স পাওয়ার জন্য আমাদের সহায়তাও করেন। আমি একজন ধাত্রী এবং যুক্তরাজ্য থেকে ধাত্রীবিদ্যায় পিএইচডি করেছি। ইউরোপ এবং অন্য উন্নত দেশগুলোয় ধাত্রীদের গাড়ি চালাতে পারা খুব দরকারি। কখনো কখনো গর্ভবতী মাকে জরুরিভাবে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার দরকার হতে পারে। সে ক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য অপেক্ষা করার চেয়ে এটা শ্রেয়।

‘সৌদি আরবে যেহেতু বাড়িতে সন্তান জন্মদান বৈধ, গাড়ি চালানোয় বৈধতা দেওয়ার পর অদূর ভবিষ্যতে সৌদি মায়েরা ধাত্রীদের সহায়তায় সন্তান জন্ম দিতে পারবেন। এতে নারী স্বাস্থ্যকর্মী এবং ডাক্তাররা লেটনাইট শিফটগুলোয় ঠিকভাবে পৌঁছাতে পারবে। তাদের আর ট্যাক্সির জন্য অপেক্ষা করতে হবে না।

‘আমি এখন জেদ্দার পূর্বাঞ্চলের হাসপাতালের প্রধান গেটটিতে ঢুকছি। আমি এখানেই কাজ করি। পথে কেউই আমাকে বিরক্ত করেনি, এমনকি আমার দিকে তাকিয়েও থাকেনি। আমার মনে হচ্ছে, প্রথম দিন নয়, আমি যেন এখানে অনেক দিন ধরেই গাড়ি চালাচ্ছি।

‘আমাদের আরও অনেক দূর যেতে হবে। আজ একটি ঐতিহাসিক দিন। আমার মনে হচ্ছে, সৌদি নারীদের জন্য এ রকম আরও অনেক ঐতিহাসিক দিন আসছে।

উৎস: বিবিসি