স্বপ্নের পদ্মা সেতুর ৭৫০ মিটার দৃশ্যমান

87

পদ্মা সেতুর পঞ্চম স্প্যান আজ পিলারে বসানো হয়েছে। দুটি পিলারে এ স্প্যান যুক্ত করার মধ্য দিয়ে স্বপ্নের এ সেতুর ৭৫০ মিটার দৃশ্যমান হয়েছে। এ রকম ৪২টি স্প্যান পিলারে বসার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হবে দক্ষিণবঙ্গের সঙ্গে সারা দেশের যোগাযোগে যুগান্ত সৃষ্টিকারী এ সেতু।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলেই স্প্যানটি শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে এসে পৌঁছায়। আজ শুক্রবার সকালে স্প্যানটি ৪১-৪২ নম্বর পিলারে বসানোর কাজ শুরু হয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে স্প্যানটি বসানোর কাজ সম্পন্ন করে সেতু বিভাগ।

১৫০ মিটার লম্বা ও ১৩ মিটার প্রস্তের বিশাল স্প্যানটি ক্রেন দিয়ে ওঠানো হয়।

গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পদ্মা নদীর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটিতে প্রথম স্প্যানটি বসানোর হয়। এর মধ্য দিয়ে প্রথম দৃশ্যমান হয় পদ্মা সেতু। এরপর এ বছরের ২৮ জানুয়ারি দ্বিতীয় স্প্যানটি বসানো হয়। সেটি বসে ৩৮ ও ৩৯ নম্বর পিলারে। গত ১১ মার্চ ৩৯ ও ৪০ নম্বর খুঁটির ওপর বসে তৃতীয় স্প্যান। এরপর ১৩ মে ৪০ ও ৪১ নম্বর খুঁটির ওপর চতুর্থ স্প্যান বসানো হয়। তখন সেতুর ৬০০ মিটার দৃশ্যমান হয়েছিল। আজ পঞ্চম স্প্যান বসার মধ্য দিয়ে ৭৫০ মিটার দৃশ্যমান হয়েছে।

সেতু বিভাগের প্রকৌশলীরা জানান, মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে তিন হাজার ৬০০ টন ধারণক্ষমতার ‘তিয়ান ই’ ক্রেন স্প্যানটিকে জাজিরা প্রান্তে নিয়ে আসে। স্প্যানটির ওজন ছিল তিন হাজার ২০০ টন। মাওয়ার কুমারভোগ থেকে জাজিরা পর্যন্ত আসতে ক্রেনটির পুরো একদিন সময় লেগেছে।

এরই মধ্যে পদ্মা সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়ক দিয়ে গাড়ি চলাচল শুরু করেছে। টোল প্লাজার নির্মাণকাজ শেষ করেছে সেতু বিভাগ। পদ্মা সেতুর দুপারে দিন-রাত চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ।

২০১৪ সালের ২৮ জুন চায়না মেজর ব্রিজ কনস্ট্রাকশন কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের পর ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট (শুধু নদীর অংশ) পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। কংক্রিট ও ইস্পাতের তৈরি দ্বিতলবিশিষ্ট এ সেতুতে মোট পিলার বা খুঁটি থাকবে ৪২টি। এক পিলার থেকে আরেক পিলারের দূরত্ব ১৫০ মিটার। মোট স্প্যান বসানো হবে ৪১টি। একেকটি স্প্যানের ওজন তিন হাজার টনের বেশি।

পদ্মা সেতুর প্রতিটি পিলারের নিচে ছয়টি করে পাইল বসানো হচ্ছে। এ সেতুতে মোট ২৪০টি পাইল বসানো হবে। এ পাইলগুলো ৯৬ থেকে ১২৮ মিটার মাটির গভীরে বসানো হচ্ছে।

সূত্রমতে, দ্বিতলবিশিষ্ট এ সেতুর নিচ দিয়ে চলবে রেলগাড়ি আর ওপর দিয়ে যাতায়াত করবে যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন। পানির স্তর থেকে ৬০ ফুট উঁচু হবে মূল সেতু। সেতুর প্রস্থ ৭২ ফুট, যা হবে চার লেনবিশিষ্ট। এ সেতু নির্মাণে চার হাজারের বেশি দেশি-বিদেশি জনবল দিন-রাত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।