নাঙ্গলকোটে সমবায় কর্মকর্তার চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ সমবায়ীরা

207

কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার সমবায় কর্মকর্তা জনাব মো. কেফায়েত উল্লাহ খাঁনের বিরুদ্ধে একই পদে ৬ বছর ধরে বহাল তবিয়তে থেকে অনিয়ম, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, এই সমবায় কর্মকতা ২০১২ সালের পূর্বে সন্দ্বীপ তার নিজ এলাকাতে সমবায় কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োজিত ছিল। সেখানে তার অনিয়ম ও দুর্নীতির কারনে ২০১২ সালে তাকে শাস্তি স্বরূপ নাঙ্গলকোট উপজেলাতে বদলী করা হয়। তিনি ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে এই উপজেলায় সমবায় কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। এখানে এসেও তার অনিয়ম ও দুর্নীতি থেমে থাকেনি। সমবায়ীরা অতিষ্ঠিত হয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করলে ২ বার তার বদলীর অর্ডার হয় কিন্তু কোন এক অদৃশ্য শক্তির বলে বার বার সে বদলীর অডার প্রত্যাহার করে একই পদে থেকে যায়। এভাবে কেটে যায় ৬টি বছর। সরকারি চাকরি বিধি অনুযায়ী একাধারে ৩ বছরের অধিক কোন কর্মকর্তা একই কর্মস্থলে থাকার নিয়ম নেই। তদুপারি সে উপরের মহলকে খুশি করে এই একই পদে ৬টি বছর বহাল তবিয়তে থেকে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি করে যাচ্ছে তার প্রতিবাদ করার সাহস কাহারও নাই। টানা ৬ বছর একই পদে থাকলেও তার বদলীর কোন খবর নেই। যেন উদ্ধত্ন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানেই না। দীর্ঘদিন একই স্থলে থাকার কারনে সে এই অনিয়ম ও দুর্নীতি করার সুযোগ পেয়েছে।

স্থানীয় বিভিন্ন সমবায় সমিতির দুই জন সদস্য ও বিভিন্ন কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, জনাব মো: কেফায়েত উল্লাহ খাঁন এ উপজেলায় যোগদানের পর থেকে প্রায় প্রতি বছরই আমাদেরকে গুনতে হয় অলিখিত ঘুষের একটি পরিমাণ চাঁদা। বিভিন্ন দিবসের নাম নিয়ে নাঙ্গলকোটের সকল সমিতি গুলো থেকে বড়, বড় অংকের চাঁদা দাবি করে যেমন: সমবায় দিবস, ১৬ই ডিসেম্বর, ২১ শে ফেব্রুয়ারি, বঙ্গবন্ধুর জন্ম দিবস, মৃত্যু দিবস, সমবায় মেলা ইত্যাদি। এই দিবসগুলোতে প্রতিটি সমিতি তাকে নগদ ৫,০০০/-, ১০,০০০/- (ক্ষেত্র ভেদে) দিতে হয়। যে সমিতিগুলো উক্ত টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে তাদেরকে বিভিন্ন ধরণের হয়রানির স্বীকার হতে হয়।

এমনকি এমনও জানা যায় যে, বড় বড় সমিতিগুলো তাকে মাশোআরা দিতে হয়। তিনি এই প্রতিষ্ঠানকে নিজের সম্পত্তি বানিয়ে নিয়েছেন। তার টাকা আয়ের অন্যতম উৎস হল সমিতির অডিট। বিভিন্ন সমিতির অডিটগুলো সে উর্ধ্বতন অফিস থেকে তার নামে বরাদ্দ নিয়ে আসে এবং সমিতিগুলোতে গিয়ে অডিট করেন, অডিট করতে গিয়ে সমিতির কর্তৃপক্ষদেরকে বিভিন্ন মিথ্যা তথ্যের অজুহাত দিয়ে ঐ সমিতির কর্তৃপক্ষকে ঘায়েল করেন এমনকি তাদের দোষ ক্রুটি বড় আকারে তুলে ধরে তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা দাবি করে। তার চাহিদা অনুপাতে টাকা দিলে সমিতিটির কোন দোষক্রুটি থাকে না আর না দিলে তাদেরকে বিভিন্ন ধরনের হয়রানির স্বীকার হতে হয়। এক্ষেত্রে সমিতির কোন সদস্য প্রতিবাদ করার সাহস পায় না।

আরও জানা যায় যে, সে বিভিন্ন সমিতির উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সু-কৌশলে মায়া লাগিয়ে বিভিন্ন সময় নগদ টাকা হাওলাত নিয়েও আর ফেরত দেয় না। তার বিষয়ে তার অধীনস্ত কর্মকর্তাদের মধ্যেও রয়েছে চরম অসন্তোস। তারা তার ভয়ে কোন ধরনের প্রতিবাদ করতে পারে না। যে তার এই অনিয়মের প্রতিবাদ করে তাকেও শাস্তি পেতে হয়।

আরও জানা যায়, তার অনিয়ম, দুর্নীতির টাকা দিয়ে সে তার নিজ এলাকায় অনেক জায়গা জমি ক্রয় করেছেন। অনেক ব্যবসার অংশীদারিত্ব গ্রহণ করেছেন। চট্রগ্রামের কুলশি এলাকাতে একটি আলিশান ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। নাঙ্গলকোটের বিভিন্ন সমিতিতে এফ ডি আর করেছেন বিপুল অংকের টাকা। তার একটি মেয়েকে ডাক্তারী পড়াচ্ছেন, ছেলেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াচ্ছেন। তার এই বিপুল অংকের টাকার উৎস কোথায়? সরকারি অনুসন্ধানী সংস্থা তার বিরুদ্ধে তদন্ত করলে তার আরও অনিয়ম, দুর্নীতি বেরিয়ে আসবে। এক্ষেত্রে সমবায় বিভাগ ও প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করছি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. কেফায়েত উল্লাহ খাঁন বলেন, আমি এই ধরনের কোন অনিয়মের সাথে জড়িত নয়। তবে কারো স্বার্থে আঘাত লাগলেই কেবল মানুষ কারো শত্রু হয়। আমিও হয়ত কারো শত্রু হয়েছি। এখান থেকে চলে যেতে আমার কোন অসুবিধা নেই। কেননা বদলীর শর্তে মেনেই আমি চাকরিতে যোগ দিয়েছি।