স্বামী স্ত্রীর যৌথ প্রতারণায় ফেঁসে গেলেন শিল্পপতি

55

খন্দকার মিঠু :

পেশা আর নেশায় মানুষের হয় উন্নতি ও অবনতি । নিজের নাম বদলানোও এখন একটা নেশায় দাড়িয়ে গেছে । যা কাজে লাগিয়েছেন আবু তাহের । কখনও তিনি বাদশা, কখনও মেজবা, কখনও কবীর, কখনও রাজ । এতোগুলো নামের মানুষ কিন্তু একজনই । যা অসম্ভব তাই করে তাক লাগিয়েছেন এই অস্ত্র ব্যবসায়ি আবু তাহের ।

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে বসবাসরত পিতা মো: রফিকুল ইসলাম ও মাতা জুলেখা বেগমের সন্তান আবু তাহেরের বিভিন্ন প্রতারণার ফাদে পা দিয়ে অনেকেই সর্বশান্ত হয়েছেন বলে এলাকা সূত্রে যানা যায় । মাদক সম্রাজ্যে রয়েছে তার অবাধ বিচরন । মাদক, চোরাচালান, অস্ত্র ব্যবসা, চাদাবাজি, জমিদখল, টেন্ডরিবাজি, দেহ ব্যববসার দালাল, ইয়াবা ব্যবসা, ফেনসিডিলের ব্যববসা ও ভারাটে খুনি হিসেবেও রয়েছে তার যথেষ্ট পরিচিতি । দেহ ব্যববসায়ি হিসেবে রয়েছে তার আলাদা একটা কনসেপ্ট । যাকে ভাল লাগে প্রথমে তার সাথে প্রেমের অভিনয় করে আস্থা অর্জন করে । পরে সুকৌশলে তাকে বাধ্য করে নিজের মক্কেলদের কাছে মোটা অংকের টাকার বিনময়ে পাঠায় । এভাবে চলতে চলতে একসময় নিজের স্ত্রীকেও রেহায় দেন না তিনি ।

২০১৩ সালে মিনি পারভীন (সেজুতি) পিতা মজিবুর রহমান, মাতা সামসুন্নাহার, গ্রাম ছনগাও জেলা সাতক্ষীরা, বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন কবীর ওরফে আবু তাহের । বিভিন্ন প্রতারনার ফাদ পাতিয়ে ভালই চলছিল নিজেদের জীবন যাপন । সেজুতিকে বিয়ের
পাচ বছর পরে আমীর হোসেন নামের এক শিল্পপতির সাথে নিজের খালাতো বোন হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন আবু তাহের ওরফে কবীর । দেখতে সুশ্রী বলেই কয়েক দিনের ব্যবধানে কবীরের প্ররচনায় কোটি টাকার কাবিনে শিল্পপতি আমীর হোসেনের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন সেজুতি ।

এরপর থেকেই বিভিন্ন ব্যবসার কথা বলে টাকা রপ্ত করার মহোৎসব চলছে সেজুতি আর কবীরের । শিল্পপতি আমীর হোসেনের প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ব্যাতিত দ্বিতীয় বিবাহ যেমন বিধি সম্মত নয় ঠিক তেমনই এই প্রতারক চক্রকে আইনের আওতায় আনাটাও বাঞ্ছনীয় । সেজুতির প্রথম স্বামী কবীরের সাথে তালাক না হয়েও দ্বিতীয় স্বামীর সংসার করছেন । আমীর হোসেন আমীর তার দ্বিতীয় স্ত্রী সেজুতিকে বনানীতে যে ফ্ল্যাটে রেখেছেন সেখানে বসবাস করছেন সেজুতি ও তার প্রথমন স্বামী প্রতারক আবু তাহের ওরফে কবীর ।

উল্লেখিত, দেশের বিভিন্ন এলাকায় এমন প্রতারনা চালিয়ে আসা কবীর ওরফে আবু তাহের ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে সাতক্ষীরা ডিবির হাতে বিদেশী পিস্তলসহ গ্রেফতার হয় যাহার মামলা নং- ৬৪/১৮, তাং ২৮/০১/২০১৮।