অবশেষে খুলছে বাড্ডার ইউলুপ, উদ্বোধন আগস্টের প্রথম সপ্তাহে

72

তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে নির্মাণাধীন বাড্ডা ইউলুপ চালু হচ্ছে আগামী মাসেই। প্রকল্পের মূল কাজ শেষে এখন চলছে সংযোগগুলোর ফিনিশিং ও রাস্তার পিচ ঢালাইয়ের কাজ। আগস্টের প্রথম সপ্তাহে ইউলুপটির উদ্বোধন হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক জামাল আক্তার ভূঁইয়া।

সরেজমিন দেখা যায়, ইউলুপের নিচের রাস্তা ঘেঁষে লাগানো হয়েছে সারি সারি কাঠমালি ফুলের গাছ। ইউলুপ নির্মাণের সময় নিচের ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা মেরামত করে নতুনভাবে পিচ ঢালাই দেওয়া হয়েছে। গাছ বাঁচাতে দুই পাশে বাঁশের বেড়ার মাঝে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে নতুন সড়কবাতি। রাস্তা পার হয়ে ইউলুপের উত্তর দিক দিয়ে ওপরে উঠতে দেখা যায় রাস্তার ফিনিশিং শেষ হয়ে গেছে। মাঝখানে দুই ব্লকের সংযোগস্থলে ফিনিশিং দিতে চলছে ঢালাই। মেশিনে পাথর, বালু, ইটের টুকরো মিক্সার করে এনে ফেলা হচ্ছে দুই ব্লকের মাঝে বসানো স্টিলের ফ্রেমে। এগুলো ছাঁচে ফেলে সিমেন্ট দিয়ে ফিনিশিং দিচ্ছেন আরেক শ্রমিক।

প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এ রকম তিনটি সংযোগ ও দক্ষিণ পাশে পিচ ঢালাই এখনো বাকি। এ কাজ শেষ হতে কদিন লাগবে— জানতে চাইলে সাইদুল ইসলাম নামের এক শ্রমিক বলেন, সংযোগের ঢালাই ও পিচ ফেলে পুরোপুরি তৈরি করতে চার-পাঁচ দিন লাগবে। এ ছাড়া মাঝের ব্লকের রেলিংয়ে রঙের কিছু কাজও বাকি আছে। বৃষ্টি না হলে এ সপ্তাহের মধ্যে মোটামুটি শেষ হয়ে যাবে। ইউলুপের নিচেও চলছে মাটি সমান করার কাজ। এসকেভেটর মেশিন দিয়ে ইটের টুকরা ও স্তূপ করে রাখা মাটি সরিয়ে গাছ লাগানোর উপযোগী করার কাজ চলছে। মূল রাস্তার পাশাপাশি ইউলুপের দুই পাশের সার্ভিস রোডের ঢালাইও শেষ হয়েছে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, হাতিরঝিল সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে যানজটপ্রবণ মালিবাগ-নতুনবাজার এলাকার বাসিন্দা ও যাত্রীদের ভোগান্তি লাঘবে রামপুরা ও বাড্ডা প্রান্তে দুটি ইউলুপ নির্মাণের পরিকল্পনা করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। এর মধ্যে গত বছরের ২৫ জুন রামপুরা প্রান্তের (দক্ষিণ) ইউলুপটি চালু হয়। দ্বিতীয়টি বাড্ডা ইউলুপ। গুলশান-বাড্ডা সংযোগ সড়কের কাছে মেরুল বাড্ডায় এর অবস্থান। বাড্ডা ইউলুপটি দৈর্ঘ্যে ৪৫০ ও প্রস্থে ১০ মিটার। প্রকল্প ব্যয় প্রায় ৪০ কোটি টাকা। কিন্তু দুই বছরেরও বেশি আগে ২০১৫ সালের মাঝামাঝি শুরু হওয়া বাড্ডা ইউলুপটির কাজের কচ্ছপ গতি নিয়ে অভিযোগ রয়েছে এই রুটে চলাচলকারী যাত্রী ও এলাকার বাসিন্দাদের। কয়েক দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে কাজ শেষ না হওয়ায় এর প্রকল্প ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫ কোটি টাকা। অবশেষে আলোর মুখ দেখছে প্রকল্পটি। উদ্বোধনের ব্যাপারে প্রকল্প পরিচালক জামাল আক্তার ভূঁইয়া বলেন, ইউলুপের কাজ ৯৮ ভাগ শেষ হয়েছে। এখন শুধু রেলিং রং করা ও রাস্তা ফিনিশিংয়ের কিছু কাজ বাকি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সময় দিলে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে উদ্বোধন হতে পারে এ প্রকল্পটি।

 

 

 

 

 

বাংলাদেশ প্রতিদিন