গরীবের ঘরে চাঁদের আলো শৈলকুপায় এক সাথে ৩ পুত্র সন্তানের জন্ম ! বইছে আনন্দের বন্যা

66

জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহঃ

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে একসাথে জন্ম নিয়েছে ৩টি সন্তান, আর ৩টাই পুত্র সন্তান । তবে এতে ঐ কৃষক পরিবারের ঘর আলোকিত হলেও তাদের বাহিরে যেন অন্ধকার !

চিকিৎসাভাব আর অপুষ্টিতে ভুগছে সদ্য ভূমিষ্ঠ ৩ নবজাতকই । শৈলকুপা উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক মনিরুল কাজী ও লিমা দম্পতি এই ৩ জমজ শিশুর জন্ম দিয়েছে । একটি নয় দুটি নয় তিন তিনটি জমজ পুত্র সন্তান নিয়ে হুলুস্থুলকান্ড ঝিনাইদহের শৈলকুপার রামচন্দ্রপুর গ্রামের দারিদ্র কৃষক দম্পতি মনিরুল ও লিমার বাড়িতে । তিন তিনটি নবজাতক কে ঘিরে তাদের পরিবার ও প্রতিবেশীদের মধ্যে বইছে আনন্দেরবন্যা । দলে দলে হাসিমুখে দেখতে আসছে প্রতিবেশীরা, খুশী
স্বজনেরাও । তাদের নাম রাখা হয়েছে হাসান, হুসাইন ও ইউসুফ । তবে এসব আনন্দের মাঝে পরিবারের ঘর আলোকিত হলেও বাহিরে যেন অন্ধকার নেমে এসেছে ।

গত ৪ জুলাই রাজশাহী মেডিকেলে মা লিমা’র নরমাল ডেলিভারীতে ভ’মিষ্ট হয় এই তিন নবজাতক । তার আগ থেকেই গর্ভবতী মা কে নিয়ে চলছিল আর্থিক টানপোড়েন । বাড়ির গরু-ছাগল, আর কিছু নগদ টাকা দিয়ে মেটানো হয় হাসপাতালের খরচ । এ পর্যন্ত তাদের এসব শিশুর পেছনে দেড় লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়েছে । তবে জন্মের পর থেকে মা লিমা ও নবজাতকগুলো
সুস্থ্য থাকলেও ক্রমেই তাদের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে চলেছে । মিলছে না মায়ের বুকের দুধ, চিকিৎসকের পরামর্শে খাওয়াতে হচ্ছে বাহির থেকে কেনা কৌটার দুধ, অর্থাভাবে জুটছে না পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা । এমন কথা জানান নবজাতক ৩টির বাবা মনিরুল কাজী ও মা লিমা খাতুন ।

পরিবারের সদস্যরা জানায়, ৩জমজ নবজাতকের গর্বিত পিতা-মাতা মনিরুল-লিমা দম্পতির বিয়ে হয় ৬ বছর আগে । তাদের প্রথম পুত্র সন্তানের বয়স ৪ বছর । কে কাকে করবে আদর যতœ, তাই প্রথম সন্তান লিমন কে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে নানা বাড়ী !
স্বজন আর প্রতিবেশীরা বলছে সামান্য আয়ের এই কৃষক পরিবারের জন্য ৩টি সন্তান পালন অনেকটাই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে । বিত্তবান বা সরকারী-বেসরকারী কিছু সহযোগীতা পেলে নবজাতক তিনটি সুস্থ্যভাবে বেড়ে উঠতে পারবে । এলাকার একজন নারী
জনপ্রতিনিধি মদিনা খাতুন । মির্জাপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের এই নারী জনপ্রতিনিধি বলছিলেন এই দম্পতির দুরাবস্থার কথা, তিনিও দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যে বললেন সরকারী সহযোগীতার ।