ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২৮০ রানের টার্গেট দিল বাংলাদেশ

59

অসাধারণ দুটি ইনিংস খেললেন তামিম ইকবাল এবং সাকিব আল হাসান। সাকিব ৯৭ রান করে আউট হয়ে গেলেও তামিম ছিলেন অপরাজিত। দারুণ ধৈয্যশীল ইনিংস খেললেন তামিম ইকবাল। তার উইকেট নিতে পারেনি কোনো ক্যারিবীয় বোলার।

১৩০ রানে অপরাজিত থাকলেন বাংলাদেশের এই ড্যাশিং ওপেনার। তার অসাধারণ সেঞ্চুরি এবং শেষ মুহূর্তে মাঠে নেমে মুশফিকুর রহীমের ছোট্ট ঝড়- সব মিলিয়ে গায়ানার প্রোভিডেন্স স্টেডিয়ামে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে ২৮০ রানের বিশাল লক্ষ্য বেধে দিয়েছে বাংলাদেশ।

টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে এনামুল হক বিজয়ের উইকেট হারালেও শেষ পর্যন্ত মাত্র ৪ উইকেট হারিয়ে ২৭৯ রান তুলতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে এটাই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ওয়ানডে ইনিংস।

গত জানুয়ারির পর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে ৫০ ওভারের ফরম্যাটে ফিরেছে বাংলাদেশ। মাঝে টি-টোয়েন্টিই খেলা হয়েছিল বাংলাদেশের। লম্বা বিরতির পর নিজেদের প্রিয় ফরম্যাটে ফিরলেও ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে তাদেরই মাটিদে ওয়ানডেতে বাংলাদেশ কেমন করে, সেটাই ছিল দেখার।

তবে, সাকিব-তামিমের ব্যাটিংয়ে সেই শঙ্কা আপাতত কেটে গেছে বলেই মনে হতে পারে। সাকিবের ৯৭ আর তামিমের অসাধারণ সেঞ্চুরি, বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জিং স্কোরই এনে দিয়েছে বলা যায়।

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। তবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসেন ওপেনার এনামুল হক বিজয়। জ্যাসন হোল্ডারের বলে ব্যাটের কানায় বল লাগিয়ে অ্যাশলে নার্সের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান বিজয়।

তবে দিনের প্রথম সূর্যটা মাঝে মাঝে ভিন্ন বার্তাও দিতে পারে। অন্তত গায়ানার প্রোভিডেন্স স্টেডিয়ামে তেমনটাই প্রমাণ করলো আজ। শুরুতেই বিজয়ের উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ের যে ইঙ্গিত মিলেছিল, তা সাকিব আল হাসান আর তামিম ইকবালের অসাধারণ ব্যাটিং জুটিতে তো কেটেছেই, বরং অসাধারণ ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশকে পৌঁছে দিয়েছে চ্যালেঞ্জিং একটা স্থানে।

শূন্য রানে বিজয়ের বিদায়ের পর ওয়ানডাউনে ব্যাট করতে নামেন সাকিব আল হাসান। তামিমের সঙ্গে জুটি বেধে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে নিজের ক্যারিয়ারের ৮ম সেঞ্চুরির দিকেও এগিয়ে যাচ্ছিলেন সাকিব আল হাসান। কিন্তু মাত্র ৩ রানের আক্ষেপ নিয়ে আউট হয়ে যেতে হলো সাকিবকে।

ম্যাচ শুরুর কিছুক্ষণ পরই কিছুক্ষণের বৃষ্টির জন্য উইকেট ভারি করে তুলেছিল। ক্রিজ হয়ে পড়েছিল স্লো। সে কারণে রান তোলার গতিও ছিল মন্থর। যদিও বাংলাদেশ দলের দুই সেরা ব্যাটসম্যান সাকিব আল হাসান আর তামিম ইকবাল মিলে দেখে-শুনে ক্যারিবীয় বোলারদের মোকাবেলা করে যান। যার ফলশ্রুতিতে ২০০ প্লাস রানের জুটি হলো বাংলাদেশের।

দেবেন্দ্র বিশুর করা ৪৫তম ওভারের তৃতীয় বলে সুইপ করতে গিয়ে ব্যাটের উপরের কানায় লাগিয়ে ফেলেন। বল উঠে যাওয়ার পর হেটমায়ার দারুণ দক্ষতায় বলটি তালুবন্দী করে নেন। ৮ম সেঞ্চুরি করতে না পারলেও ওয়ানডেতে ৩৮তম হাফ সেঞ্চুরি করেন সাকিব আল হাসান।

হার্ডহিটিংয়ের জন্য নামানো হয় সাব্বির রহমানকে। তবে ৪ বলে মাত্র ৩ রান করে আম্পায়ারের ভুলে আউট হয়ে যান সাব্বির। তাকে স্ট্যাম্পিংয়ের আউট ঘোষণা করা হলেও স্ট্যাম্প ভাঙার সময় তার পা ছিল ক্রিজের মধ্যেই। দেবেন্দ্র বিশুর বলে আউট হন সাব্বির। এরপর মাঠে নামেন মুশফিকুর রহীম।

ছোট্ট অথচ অসাধারণ এক ঝড় তোলেন মুশফিকুর রহীম। মাত্র ১১ বলে ৩০ রান করেন তিনি। ছক্কার মার মারেন ২টি এবং বাউন্ডারি মারেন ৩টি। ইনিংসের ১ বল বাকি থাকতে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে দেবেন্দ্র বিশুর অসাধারণ এক ক্যাচে পরিণত হন মুশফিক। তবে আউট হওয়ার আড়ে এক ঝড়ে বাংলাদেশের রানকে নিয়ে যান ক্যারিবীয়দের জন্য দারুণ চ্যালেঞ্জিং এক পর্যায়ে।

শেষ বল মোকাবেলা করেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। আন্দ্রে রাসেলকে দারুণ এক বাউন্ডারি মেরে ইনিংস শেষ করেন তিনি। তামিম অপরাজিত থাকেন ১৬০ বলে ১৩০ রান করে। ১০টি বাউন্ডারির সঙ্গে ৩টি ছক্কার মার মারেন তিনি। ক্যারিয়ারে ১০ম সেঞ্চুরি করে অপরাজিত থেকে যান তামিম ইকবাল। দেবেন্দ্র বিশু ২টি এবং আন্দ্রে রাসেল ও জ্যাসন হোল্ডার নেন ১টি করে উইকেট।