জাবালে নূরের বাসচালক ৭ দিনের রিমান্ডে

26

বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহতের মামলায় জাবালে নূরের বাসচালক মাসুম বিল্লাহর ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

বুধবার শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম এএইচএম তোয়াহা রিমান্ডের আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ পরিদর্শক কাজী শরিফুল ইসলাম আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গত ২৯ জুলাই জাবালে নূর পরিবহনের দুই বাসচালক ও হেলপার প্রতিযোগিতামূলকভাবে বেপরোয়া ও দ্রুত গতিতে বাসগুলি চালিয়ে শিক্ষার্থীদের মৃত্যু হতে পারে জেনেও হোটেল রেডিসনের বিপরীত পাশে জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভারের পাশে বাসে ওঠার অপেক্ষায় থাকা শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ১৪/১৫ জন ছাত্র-ছাত্রীর ওপর গাড়ি উঠাইয়া গুরুতর আহত করে গাড়ি ফেলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে আহতদের মধ্যে উক্ত কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম ও বিজ্ঞান বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আব্দুল করিম রাজীব মারা যায়। এছাড়া এইচএসসি প্রথমবর্ষের ছাত্র সোহেল রানা, দ্বিতীয়বর্ষের ছাত্র ইমরান চৌধুরী, মেহেদী হাসান জিসান, রাহাত, সজিব, জয়ন্তি, প্রথমবর্ষের ছাত্রী রুবাইয়া, এইচএসসি দ্বিতীয়বর্ষের ছাত্রী তৃপ্তাসহ আরো কয়েকজন বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় সিএমএইচ হাসাপতালসহ ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন।

এ ঘটনা নিয়ে ঢাকা শহরের পরিস্থিতি বর্তমানে খুবই উত্তপ্ত রয়েছে। ঘটনার দিনসহ পরবর্তী দিনগুলোতেও উক্ত কলেজসহ বিভিন্ন কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা মূল আসামিকে গ্রেপ্তারসহ সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। তাদের সামাল দিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হচ্ছে। এমন কি এই ঘটনায় সারা দেশে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা আন্দোলনে নেমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মামলার সুষ্ঠু ও সঠিক তদন্তের স্বার্থে মামলার মূল রহস্য উদঘাটনের লক্ষ্যে মাসুম বিল্লাহর সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করেন তদন্ত কর্মকর্তা। একই সঙ্গে তিনি আসামির জামিন নামঞ্জুরের প্রার্থনা করেন।

এদিকে এ মামলায় গ্রেপ্তার আসামি মো. এনায়েত হোসেন, মো. সোহাগ আলী, মো. রিপন হোসেন এবং মো. জোবায়ের কারাগারে রয়েছেন। তাদের দশদিনের রিমান্ড শুনানির তারিখ ৬ আগস্ট ধার্য রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৯ জুলাই কালশি ফ্লাইওভার থেকে নামার মুখে এমইএস বাসস্ট্যান্ডে ১৫/২০ জন শিক্ষার্থী দাঁড়িয়ে ছিলেন। জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস ফ্লাইওভার থেকে নামার সময় মুখেই দাঁড়িয়ে যায়। এ সময় পেছন থেকে আরেকটি দ্রুতগতি সম্পন্ন জাবালে নূরের বাস ওভারটেক করে সামনে আসতেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। নিমিষেই ওঠে পড়ে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর। চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায় দুইজন। এছাড়া আহত হন আরো ১৫/২০ জন শিক্ষার্থী।

ওই ঘটনায় রোববার দিবাগত রাতে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মিমের বাবা জাহাঙ্গীর আলম এ মামলা দায়ের করেন।