শাজাহান খানের পদত্যাগ চায় বিএনপিও

113

সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় পরিবহন শ্রমিক নেতা ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের পদত্যাগ চেয়েছে বিএনপিও। একই সঙ্গে দুই শিক্ষার্থীর প্রাণহানির জন্য দায়ীদের শাস্তি এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানে সরকারকে পরামর্শ দিয়েছে দলটি।

বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে শাজাহান খানের পদত্যাগ দাবি করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘বারবার সংঘটিত শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের সড়ক-মহাসড়কে দূর্ঘটনায় মর্মান্তিক জীবনহানির জন্য দায়ী পরিবহন সেক্টরের বিশৃঙ্খলা, যার মদদদাতা হচ্ছে সরকার। সরকারের সামগ্রিক ব্যর্থতার জন্যই সর্বক্ষেত্রে অধঃপতন শুরু হয়েছে।’

‘বর্তমানে সড়ক-মহাসড়কে প্রতিদিন দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। আমি পরিবহন সেক্টরের বিশৃঙ্খলার উস্কানিদাতা নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের পদত্যাগ দাবি করছি। দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় দায়ী চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি এবং অবিলম্বে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা করে উদ্ভূত সংকট সমাধানে আসার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি’, বলেন বিএনপির মহাসচিব।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল ও কলেজের দুই শিক্ষার্থী বাসচাপায় নিহত হওয়ার পরে যখন সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ বেদনার্ত, শোকাহত ও ক্ষুব্ধ, তখন ছাত্র-ছাত্রীর লাশ নিয়ে নৌমন্ত্রীর হাসি যেন বিদ্রুপের হাসি। নৌমন্ত্রী শাজাহান খান যিনি পরিবহন সেক্টরের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা, সুতরাং তার আশকারায় দীর্ঘদিন ধরে এই সেক্টরে অরাজকতা লেগেই আছে।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘কিছু প্রশিক্ষণহীন অদক্ষ চালক ও লাইসেন্সবিহীন কম বয়সী চালক এবং চলাচলে অনুপযুক্ত যানবাহনের প্রাধান্য থাকলে সড়ক-মহাসড়কে জীবনঘাতী ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়তেই থাকবে। আর এগুলো প্রাধান্য পাচ্ছে শুধু নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের প্রশ্রয়ে।’

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশি হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রীদের লক্ষ্য করে গুলি, টিয়ার গ্যাস ও বেধড়ক লাঠিচার্জে যেভাবে ক্ষতবিক্ষত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা কেবল নিষ্ঠুর স্বৈরশাসকদের দ্বারাই সম্ভব।’