শিক্ষার্থীদের দাবি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

70

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবি বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

বৃহস্পতিবার (২ আগস্ট) সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা ঘরে ফিরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত হবে বলে আশা করছি। সন্তানরা যেন রাজপথে না নামে সেজন্য অভিভাবকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। নিরাপত্তা বাহিনী ধৈর্যের সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে। অন্তর্ঘাতমূলক কোনো ঘটনা ঘটলে তার দায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিতে পারবে না।

মন্ত্রী বলেন, ফিটনেসবিহীন কোন গাড়ি রাস্তায় নামবে না, শিক্ষার্থীদের সব যৌক্তিক দাবি পর্যায়ক্রমে মেনে নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিরে গেলে তাদের টিসি দেয়া হবে বলে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে তা ঠিক নয়। শিক্ষার্থীদের কোনো ভয় নেই, তাদের কোনো দুর্ভোগে পড়তে হবে না। ফেসবুকসহ বিভিন্নভাবে অনেকে অপপ্রচার চালাচ্ছে। অপ্রচারকারীদের চিহ্নিত করেছে পুলিশ।

শিক্ষার্থীদের দাবির যৌক্তিকতা মেনে নিয়ে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনে রাজনৈতিক ইন্ধন দেখা যাচ্ছে। আমরা দেখেছি, এই আন্দোলনের মধ্যে শিবির ও ছাত্রদল সম্পৃক্ত হয়েছে। আমাদের কাছে ছাত্রদল ও শিবিরের কথোপকথনের অডিও রয়েছে। সেখানে ছাত্রদলকে স্কুল ও কলেজের ড্রেস পরে আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার নির্দেশ দিতে শোনা গেছে।’

শিক্ষার্থীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘এই আন্দোলন সহিংসতার দিকে টার্ন করতে পারে। কারণ, আমরা দেখিছি কাফরুল থানায় আক্রমণ করা হয়েছে। রাজারবাগ ও মিরপুরের পাবলিক অর্ডার ম্যানেজম্যান্ট-এ ঢিল ছোড়া হয়েছে।’

মিরপুর ১৪ নম্বর সেকশনে শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশের সঙ্গে সরকার সমর্থক যুবকদের হামলার অভিযোগের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সেখানেও ছাত্রদলের কর্মীরা পুলিশের উপর হামলা চালিয়েছিল, তখন তা প্রতিরোধে স্থানীয়রা এগিয়ে গিয়েছিল বলে তিনি খবর পেয়েছেন।’

গত পাঁচ দিনের আন্দোলনে যানবাহনের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এই কয়দিনে ৩১৭টা গাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে। আটটি গাড়ি পোড়ানো হয়েছে। তাই আমরা এই আন্দোলন কনটিনিউ না করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

অভিভাবক ও শিক্ষকদের সহায়তা চেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মনে করি, তারা যে সাহসিকতা দেখিয়েছে, তা দেশবাসী জেনে গেছে। সুতরাং এই ধরনের পরিস্থিতিতে একটা সাবোটাজ ঘটতে পারে। তাই অভিভাবক, শিক্ষক ও গভর্নিং বডির সদস্য ও প্রতিবেশীকে অনুরোধ করব, এই কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যাতে মাঠে না নামে, তাদেরকে বোঝাতে।’

আন্দোলন থেমে গেলে এই শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তারা অনেক ছোট ছোট। এই কারণে তাদেরকে কোনো দুর্ভোগ পোহাতে হবে না।’

শিক্ষার্থীর বিভিন্ন দাবি পূরণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, কোনো স্কুল-কলেজের পাশে রাস্তা থাকলে সেখানে ট্রাফিক পুলিশ থাকবে এবং শিক্ষার্থীদের রাস্তা পারাপারে সহযোগিতা করবে।

যেখানে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই কলেজছাত্রী নিহত হয়েছেন, সেখানে ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সড়ক দুর্ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে নতুন আইন শিগগিরই সংসদে উপস্থাপন করা হবে বলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান।