পরমাণু বন্ধ করেনি উত্তর কোরিয়া

146

পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করেনি উত্তর কোরিয়া। জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে উত্তর কোরিয়া তাদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে বলে সংস্থাটির নিরাপত্তা পরিষদ নিশ্চিত করেছে।

জাতিসংঘের একটি বিশেষজ্ঞ দলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়া অবৈধভাবে সাগরে জাহাজ থেকে জাহাজে তেল ও তেলজাত পণ্য কেনার পরিমাণ ‘মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে’ দিয়েছে। সেইসঙ্গে বিদেশে অস্ত্র বিক্রিরও চেষ্টা করছে পিয়ংইয়ং।

শুক্রবার স্বতন্ত্র বিশেষজ্ঞ দলের একটি প্যানেল গোপনীয় ওই প্রতিবেদনটি নিরাপত্তা পরিষদে উপস্থাপন করেছে। তবে এই তথ্যাদি খুঁজে বের করার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি উত্তর কোরিয়া।

গত সপ্তাহে মার্কিন কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছিলেন যে, নতুন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে উত্তর কোরিয়া। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের পরও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি বন্ধ না করে বরং নতুন করে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি শুরু করছে বলে পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, স্পাই স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া গোপন ছবির মাধ্যমে দেখা গেছে যে, পিয়ংইয়ংয়ের ব্যালিস্টিক মিসাইল তৈরির একটি কারখানায় এখনও মিসাইল তৈরীর কার্যক্রম চলছে।

গত জুনে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে পরমাণু নিরিস্ত্রিকরণের বিষয়ে সম্মতি জানায় পিয়ংইয়ং।

বৈঠকের পর দু’জনই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কার্যক্রম কমিয়ে আনার বিষয়ে একত্রে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। ওই বৈঠকের পর ট্রাম্প বলেন, উত্তর কোরিয়া এখন আর পারমাণবিক হুমকি নয়। তবে কিমের পক্ষ থেকে কোনো নিশ্চিত প্রতিশ্রুতি আদায় করতে না পারায় যুক্তরাষ্ট্রে সমালোচনার শিকার হন ট্রাম্প।

পারমাণবিক অস্ত্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার জের ধরে সাম্প্রতিক সময়ে জাতিসংঘ এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে পিয়ংইয়ং।

ধারণা করা হচ্ছে রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের কাছে সানুমডং কেন্দ্রে একটি বা দু’টি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল তৈরি করছে উত্তর কোরিয়া। ওই কেন্দ্র থেকেই যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত পৌঁছানোর সক্ষমতা সম্পন্ন প্রথম মিসাইল হুয়াসং-১৫ ক্ষেপণাস্ত্রটি তৈরি করেছিল উত্তর কোরিয়া।

স্যাটেলাইটে পাওয়া ছবি থেকে ওই ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্রে যানবাহন ঢুকতে ও বের হতে দেখা গেলেও মিসাইল তৈরির কার্যক্রমের পরিসর সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানা যায়নি।

জাতিসংঘ প্রকাশিত প্রতিবেদনটি শনিবার বেশ কিছু গণমাধ্যমের হাতে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞদের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিয়ংইয়ং ছোট এবং হালকা অস্ত্র এবং সামরিক উপকরণগুলো বিদেশি মধ্যস্ততাকারীদের মাধ্যমে লিবিয়া, ইয়েমেন এবং সুদানে সরবরাহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।