প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ: দোকান নিয়ে দ্বন্দ্ব, পালিয়ে বেড়াচ্ছেন জামাল

84

কুমিল্লা প্রতিনিধি: পিতা-পুত্রের দ্বন্দ্ব আমাদের দেশে নতুন কোন ঘটনা নয়! অনেক পরিবারেই সম্পত্তি নিয়ে ঝগড়া-বিবাধ লেগে থাকে। সম্প্রতি ভৈরবের কমলপুর গ্রামের ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে দৌলত ভূঁইয়া নামের এক লোক নিজ সন্তান জামাল উদ্দিন ভূঁইয়াকে ৪.৪৯ শতাংশ জমি লিখে দেওয়াকে কেন্দ্র করে পারিবারিক দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করেছে।

সরজমিনে খবর নিয়ে জানা যায়, দৌলত ভুইয়ার বড় ছেলে জামাল উদ্দিন ভূঁইয়াকে তার পিতা ৬৮৭৬ ও ৬৭৮৯ দাগের ৪.৪৯ শতাংশ জমি সাফ কাওলা দলিলের মাধ্যমে লিখে দেয়।

স্থানীয় সূত্রে খবর নিয়ে জানা যায়, উল্লেখিত সম্পত্তির মধ্যে বর্তমান জমির মালিক জামাল উদ্দিন ভূঁইয়া দীর্ঘদিন যাবত “জামাল হার্ড ওয়ার এন্ড স্যানিটারি” নামক একটি ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান চালিয়ে আসছেন।

জামাল উদ্দিন ভূঁইয়ার জন্মদাতা পিতা তার মাতা জীবিত থাকা অবস্থায় জনৈক এক বেগানা মহিলার (নির্মাণ শ্রমিক) সাথে দ্বিতীয় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। কিন্তু ছেলে জামাল উদ্দিন ভূঁইয়া পিতার ওই অনৈতিক কর্মকান্ড কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলেন না। এক পর্যায়ে তার ছেলে জামাল উদ্দিন ভূঁইয়া নারী লোভী পিতার অনৈতিক কর্মকান্ডের বিরূদ্ধে প্রতিবাদ করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সুচতুর লোভী পিতা দৌলত ভূঁইয়া আত্মসম্মানের কথা চিন্তা করে নিজের ৪.৪৯ শতাংশ জমি ছেলেকে সাফ কাওলা লিখে দিয়ে ছেলেকে শান্ত করেন।

বর্তমানে হাইওয়ে রোডের পাশে অবস্থিত জমির মূল্য অনেক বেশী হওয়ায় দৌলত ভূঁইয়ার দ্বিতীয় স্ত্রীর লোভ হয় ওই জমির ওপর। দিনে দিনে দ্বিতীয় স্ত্রী ওই জমি ফিরিয়ে আনার জন্য দৌলত ভূঁইয়াকে বিভিন্ন ভাবে ফুসলাতে থাকে। এরইমধ্যে পিতা দৌলত ভূঁইয়া পুত্র জামাল উদ্দিনকে লিখে দেয়া ৪.৪৯ শতাংশ জমি ফিরিয়ে নিতে বিভিন্ন ভাবে চাপ দেয়। প্রতিনিয়ত হুমকি ধমকি দিতে থাকে। পিতার অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে এক পর্যায়ে পুত্র জামাল উদ্দিন ভূঁইয়া গত ১০/০৬/২০০৩ খ্রীঃ এ ভৈরব থানায় প্রকৃত ঘটনার বিবরণ দিয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। ক্রমন্বয়ে পিতা-পুত্রের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের প্রেক্ষিতে মামলা কোর্টে চলে যায়। পিতা দৌলত ভূঁইযার গত ২৪/০১/২০০৭ খ্রীঃএ দায়ের করা মামলা বিজ্ঞ আদালত তামাদি দোষে বারিত করে। সাথে সাথে উক্ত মামলা সম্পূর্ণ রূপে মিথ্যা হিসাবে প্রমানীত হয়। ঘটনা এখানেই শেষ নয়, এরই কিছু দিন পর দৌলত ভূঁইয়া দ্বিতীয় স্ত্রীর কু-পরামর্শে পুত্র জামাল উদ্দিন ভূঁইয়াকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। জামাল উপায়ান্তর না দেখে আবারও আইনের আশ্রয় নিতে থানায় যায়। এদিকে পিতা দৌলত ভূঁইয়া ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী এলাকার কিছু কুচক্রী মহলের প্ররোচনায় প্রশাসনকে ঘুষের মাধ্যমে হাত করে জামাল উদ্দিনকে অবৈধ ভাবে থানা হাজতে আটকে রেখে বিভিন্ন ধরণের মিথ্যা অভিযোগ এনে একটি ভূয়া মুচলেখার মাধ্যমে উক্ত ৪.৪৯ শতাংশ জমি ফিরিয়ে নিতে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেয়। পরে জামালকে শর্ত মোতাবেক থানা হাজত থেকে ছেড়ে দেয়। এমনকি জামাল উদ্দিনের গর্ভধারিনী মাকে দিয়েও বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়। যে মুচলেখাটিতে জমি ফিরিয়ে দেয়ার কথা লিখা সেখানে কোন সরকারী কর্মকর্তার স্বাক্ষর সীলমোহর এমনকি ঘটনার কোন দিন তারিখের কথাও উল্লেখ নেই।

এ দিকে জামাল উদ্দিন অভিযোগ করে জানান. তার পিতা দৌলত ভূঁইয়া গত ৬ মার্চ ২০১৮ খ্রীঃএ এলাকার কিছু প্রভাবশালী লোকের সহায়তায় তাকে ও তার পরিবারের সকল সদস্যদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে বিভিন্ন ভাবে জিম্মি করে ভূয়া ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে রেজিষ্ট্রি অফিসে নিয়ে যেতে চাইলে জামাল আপত্তি জানান। এক পর্যায়ে আমাকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে উঠিয়ে নিযে যায়। পরবর্তিতে স্থানীয় লোকজন জামাল উদ্দিনকে অজ্ঞান অবস্থায় রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করেন।

এমতাবস্থায় জামাল উদ্দিন ভূইয়া প্রাণনাশের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে খবর পাওয়া যায়। তিনি ঘটনার স্ষ্ঠু তদন্ত চেয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে সুবিচার প্রর্থনা করছেন।