খসরু ও মওদুদকে জিজ্ঞাসাবাদের অাহ্বান হাছান মাহমুদের

109
ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলনে উস্কানি দাতা হিসেবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।
আজ রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। শেখ কামালের ৭০তম জন্মদিন উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
হাছান মাহমুদ বলেন, ছাত্রদের যৌক্তিক আন্দোলনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে বিএনপি-জামায়াত ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করছে। এর প্রমান ইতোমধ্যে বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদের ফোনালাপে পাওয়া গেছে। তিনি এক তরুণ ব্যারিস্টারকে ফোন করে আন্দোলনে উস্কিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি আরেক বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদও  উস্কানি দিয়েছেন। এদেরকে রিমান্ডে সরকার জিজ্ঞাসাবাদ করলেই আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে। এছাড়াও অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উস্কানি দিয়ে আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যে এক অভিনেত্রীকে র‌্যাব গ্রেফতারও করেছে।
তিনি বলেন, গতকাল শনিবার ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়ে হামলা করা হয়েছে। এই হামলার ঘটনায় আমরা দেখেছি এখানে কোনো ছাত্র ছিল না। আর শেখ হাসিনা শুধু আওয়ামী লীগের সভাপতি নন, তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী। তার কার্যালয়ে যারা হামলা করতে পারে তারা কখনও শিক্ষার্থী হতে পারে না। এটি বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্রের একটি অংশ।
সংবাদ পত্রের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, কিছু কিছু সংবাদ পত্র ঘটনাকে সঠিকভাবে উপস্থাপন না করে অন্যভাবে লেখা হয়েছে। যা উস্কানি দেওয়ার মত। আমি গণমাধ্যমকে বলব, ভবিষ্যতে সংবাদ উপস্থাপন করার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়ার জন্য। কারণ সংবাদ পত্র দেশের চতুর্থ স্তম্ভ। এতে দেশের মানুষ বিভ্রান্ত হতে পারে।
শেখ কামালারে জন্মদিন উপলক্ষে তিনি বলেন, শেখ কামাল হতে পারতেন প্রজন্মের শিক্ষক। শেখ কামাল বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের অগ্র সৈনিক ছিলেন।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য ও খাদ্যমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, ছাত্রদের আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য বিএনপি নেতারা ষড়যন্ত্র করছে। এরমধ্যে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আহ্বান জানাচ্ছি এদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক, তাহলেই আসল তথ্য বেরিয়ে আসবে। তারা কিভাবে ছাত্রদের এই যৌক্তিক আন্দোলনকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে।
তিনি বলেন, বিএনপি এদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে বিরোধীতা করেছিল। এরা বাংলাদেশকে চায় না। এদেরকে বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে চিরতরে বিদায় করতে পারলেই দেশে সুস্থ রাজনীতি ফিরে আসবে। এদেরকে দেশ থেকে ঝেটিয়ে বিদায় করতে হবে।
সংগঠনের উপদষ্টা পরিষদের অন্যতম সদস্য লায়ন চিত্তরঞ্জন দাসের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোল্লা জালাল, আওয়ামী লীগ নেতা এ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার, অলিম্পিক এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক রাষ্ট্রদূত সাহেদ রেজা, মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি ইসমত কাদির গামা, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র অরুণ সরকার রানা, আওয়ামী লীগ নেতা শাহ আলম, বৃষ্টি রাণী সরকার প্রমুখ।