আ’লীগ কার্যালয়ে হামলায় মির্জা ফখরুলের দল জড়িত : কাদের

50

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও তার দল জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন ওবায়দুল কাদের।

রোববার (৫ আগস্ট) বিকেলে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

কাদের বলেন, আমীর খসরুর বক্তব্যে প্রমাণ হয়েছে অরাজনৈতিক একটা আন্দোলনে বিএনপি রাজনৈতিক রঙ, রূপ দিতে চলেছে। আমীর খসরুর বক্তব্যে মির্জা ফখরুল সমর্থন দিয়ে সেটিই প্রমাণ করলেন। এটা এখন আর কোনো গোপন বিষয় নয় যে বিএনপি ও তার দোসররা একেকবার একেক আন্দোলনের ওপর ভর করছে।

তিনি বলেন, কোটা আন্দোলনে সুবিধা করতে না পেরে বিএনপি এখন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়কের আন্দোলনে সওয়ার হয়েছে।

‘মির্জা ফখরুল দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ অফিসে নাকি সাতজনকে আটকে রেখে আহত করা হয়েছে। গতকালকে ফেসবুকের ভিডিও পোস্টের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন যে ভিডিও পোস্টের অপপ্রচারের সঙ্গে মির্জা ফখরুল ও বিএনপির সংযোগ রয়েছে। আমরা এটাও এখন মনে করছি, যে মেয়েটা বলেছিল আওয়ামী লীগ অফিসে আমি ধর্ষিত হচ্ছি, আমাকে বাঁচান সেটি ফেসবুকে পোস্টটি দেয়ার সঙ্গে বিএনপি জড়িত। আওয়ামী লীগ অফিসে যে হামলা হয়েছিল তাতে মির্জা ফখরুল ইসলামের দলের সংযোগ রয়েছে।’

তিনি বলেন, আজকে আওয়ামী লীগ অফিসে হামলার জন্য বিএনপি-জামায়াত তাদের ছাত্র সংগঠনকে দিয়ে আক্রমণের পরিকল্পনা করেছিল। আওয়ামী লীগ অফিসের পিছন থেকেও আক্রমণের চেষ্টা হয়েছিল, এটা অনেকেই দেখেছেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আওয়ামী লীগ অফিসে হামলার নির্দেশ দিয়ে আওয়ামী লীগের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন।

কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ অফিস শেখ হাসিনার অফিস। এখানে হামলার দুঃসাহস দেখিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আমাদের বারবার বলেছেন শিক্ষার্থীদের ওপর বল প্রয়োগ করা যাবে না। কিছুক্ষণ আগেও প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা উপদেশ চেয়েছিলাম। তিনি আমাদের অল্প কথায় বলেছেন এ পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধরে সতর্ক থাকতে হবে।

নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে এখন ধৈর্য ধরে সতর্ক থাকতে হবে। আমরা কোনোভাবেই আক্রমণকারী হিসেবে চিহ্নিত হতে চাই না। আমরা ক্ষমতায় অছি, আমরা দেশে শান্তি চাই। ক্ষমতায় থেকে অশান্তি কেন চাইবো? আমরা বিশ্বাস করি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। তাই কোনো চক্রান্ত করে লাভ হবে না।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে শিক্ষার্থীরা ঘরে ফিরতে শুরু করেছে। গতকাল যা ছিল, আজকে দুই একটি জায়গা ছাড়া শিক্ষার্থীরা কোথাও রাস্তায় অবস্থান নেয়নি। তারা প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে ক্যাম্পাসে ফিরেছে। এ জন্য তাদের ধন্যবাদ জানায়।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আগামীকাল সড়ক পরিবহন আইন মন্ত্রীসভায় অনুমোদন হবে। এটা পরবর্তী সংসদে পাস হবে। এরপর ৯ দফা দাবির যেগুলো আইনি কারণে বাস্তায়ন হয়নি সেটাও হয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবেন।

‘আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা করলে আমরা কি চুমো খাবো’ এ বক্তব্যে কেউ কষ্ট পেলে কাদের দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এ বক্তব্য মুখ ফসকে বের হয়েছে। রাজনীতিতে এ ধরনের শব্দ কেউ আমার কাছে আশা করেনি।

আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে হামলার বিষয়ে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা অবশ্যই এ বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করছি। এটা আমাদের দলীয় ফোরামে আলোচনা হবে। আরও একটু পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, একেএম এনামুল হক শামীম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক রোকেয়া সুলতানা, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, উপ-দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।