গোলাম সারওয়ারের মরদেহ ঢাকায় পৌঁছাবে রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে

18

দেশবরেণ্য সাংবাদিক ও সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ারের মরদেহবাহী বিমান মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে।

সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের এসকিউ-৪৪৬ ফ্লাইটটি বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে তার মরদেহ নিয়ে সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবে।

এর আগে সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ২৫ মিনিটে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এ বিশিষ্ট সাংবাদিক (ইন্নালিল্লাহি …. রাজিউন)। সম্পাদক পরিষদের সভাপতি এবং প্রেস ইনস্টিটিউটের (পিআইবি) চেয়ারম্যান গোলাম সারওয়ারের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এক সফল সাংবাদিকের জীবনের সমাপ্তি ঘটল। নিভে গেল এদেশের সাংবাদিকতার উজ্জ্বল বাতিঘর। এর আগে গতকাল বিকাল ৫টায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।

দেশবরেণ্য সাংবাদিক গোলাম সারওয়ারের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। শোক বার্তায় বসুন্ধরা চেয়ারম্যান বলেন, সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ারের মৃত্যুতে বাংলাদেশের সংবাদপত্র জগতের অপূরণীয় ক্ষতি হলো। তিনি তার রুহের মাগফেরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ারের মৃত্যুতে বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম ও বাংলাদেশ প্রতিদিন পরিবার গভীর শোক প্রকাশ করেছে। শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো মিডিয়া অঙ্গনে। গোলাম সারওয়ারের মৃত্যুতে আরও শোক প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, ক্যাপ্টেন (অব.) এ বি তাজুল ইসলাম এমপি, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক। এ ছাড়া জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ শফিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ৩ আগস্ট মধ্যরাতে একুশে পদকপ্রাপ্ত গোলাম সারওয়ারকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। পরদিন সকালে তাকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসার পর তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতিও হয়েছিল। নিউমোনিয়া সংক্রমণ হ্রাসের পাশাপাশি ফুসফুসে জমে থাকা পানিও কমে যায়। হার্টও স্বাভাবিকভাবে কাজ করছিল। কিন্তু রবিবার হঠাৎ করে তার রক্তচাপ কমে যায়। কিডনিও স্বাভাবিকভাবে কাজ করছিল না। এ অবস্থায় গতকাল বিকালে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। এর আগে গত ২৯ জুলাই মধ্যরাতে দেশবরেণ্য সাংবাদিক, সম্পাদক পরিষদের সভাপতি গোলাম সারওয়ার রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি হন। ৭৫ বছর বয়সী গোলাম সারওয়ার মৃত্যুকালে স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। এদিকে সমকাল সম্পাদককে দেখতে গতকাল দুপুরে হাসপাতালে যান সিঙ্গাপুরে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান। হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও তার সঙ্গে ছিলেন।

বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন : বাংলাদেশের সংবাদপত্রের ইতিহাসে গোলাম সারওয়ার উজ্জ্বল এক নাম। মুক্তচিন্তা, প্রগতিশীল মূল্যবোধ আর মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে সোচ্চার এ মানুষটি সাংবাদিকতা জগতের প্রতিষ্ঠানতুল্য ব্যক্তিত্ব। ষাটের দশকে সাংবাদিকতার শুরু থেকে একটানা পাঁচ দশকের বেশি সময় তিনি এই পেশায় মেধা, যুক্তিবোধ, পেশাদারিত্ব, দায়িত্বশীলতা, অসাম্প্রদায়িক চিন্তা-চেতনার নিরবচ্ছিন্ন চর্চায় নিজেকে এবং বাংলাদেশের সংবাদপত্রকে অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন। একুশে পদকজয়ী গোলাম সারওয়ার দীর্ঘদিন দৈনিক ইত্তেফাকের বার্তা সম্পাদক ছিলেন। এরপর দৈনিক যুগান্তরের মাধ্যমে সম্পাদকের খাতায় নাম লেখান তিনি। সর্বশেষ তিনি সমকালের সম্পাদক ছিলেন। মেধা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার কারণে গোলাম সারওয়ারকে অনেকেই সাংবাদিকদের শিক্ষক হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বাংলাদেশের দৈনিক সংবাদপত্রগুলোর সম্পাদকদের সংগঠন বাংলাদেশ সম্পাদক পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। সাংবাদিকতায় জীবনব্যাপী অনন্য ভূমিকার জন্য তিনি ২০১৪ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন। গোলাম সারওয়ার এদেশের সংবাদপত্রের সাফল্য ও পেশাদারিত্বের প্রতীক। তার জন্ম ১৯৪৩ সালের ১ এপ্রিল বরিশালের বানারীপাড়ার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে। বাবা মরহুম গোলাম কুদ্দুস মোল্লা ও মা মরহুম সিতারা বেগম দম্পতির জ্যেষ্ঠ সন্তান গোলাম সারওয়ার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতক সম্মানসহ এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায় ১৯৬২ সালে চট্টগ্রামের দৈনিক আজাদীর বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা হিসেবে তার সাংবাদিকতা পেশার সূচনা