ফিটনেসবিহীন কোন গাড়ি চলতে দেওয়া হবে না : আইজিপি

34

আসন্ন ঈদের সময় মহাসড়কে কোনোভাবেই ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল করতে দেওয়া হবে না। মহাসড়কে পশুবাহী যানবাহনে চাঁদা আদায়ের মতো ঘটনাও বরদাস্ত করা হবে না।

গতকাল সকালে পুলিশ সদর দফতরে জাতীয় শোক দিবস ও ঈদুল আজহা নিয়ে নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী।

এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, হামলাকারীদের চিহ্নিত করতে তদন্তের দায়িত্ব গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) দেওয়া হয়েছে। তারা কাজ করছে, অচিরেই সেই হামলাকারীদের পরিচয় বেরিয়ে আসবে। ড. জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, সাংবাদিকদের ওপর যেখানে হামলা করা হয়েছে সেখানকার ভিডিও ফুটেজ, ছবি ও পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী তদন্ত চলছে। এ তদন্ত করছে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনারের নেতৃত্বে গঠিত একটি কমিটি। তিনি বলেন, শুধু সাংবাদিক নয়, পুলিশও আন্দোলনের সময় আক্রান্ত হয়েছে। রাজারবাগ, মিরপুরে পুলিশের পিওএম, কাফরুল থানায় হামলা হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তার মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে। কাজেই কী অবস্থায় পুলিশ কী ভূমিকা পালন করেছে, তা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের প্রতিবেদনে উঠে আসবে।

সংবাদ সম্মেলনে আইজিপি বলেন, ঈদ সামনে রেখে হাইওয়ে পুলিশের সব ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে রাস্তায় থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ঢাকায় কোরবানির পশু বিভিন্ন দেশ ও জায়গা থেকে আসবে, সেজন্য আমরা নির্দেশনা দিয়েছি, পশুবাহী কোনো ট্রাক অথবা পশুবাহী কোনো যানবাহনকে তা নদী বা রাস্তায় হোক সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ছাড়া আটকানো যাবে না। উৎস বা বড় বড় বাজার থেকে যে পশুগুলো আসবে সেগুলো কোন হাটে উঠবে সে সম্পর্কিত একটি ব্যানার পশুবাহী ট্রাকগুলোর সামনে টানাতে মালিকদের বলা হয়েছে। ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলতে পারবে না ও লাইসেন্সবিহীন কোনো চালক সড়ক-মহাসড়কে গাড়ি চালাতে পারবে না। ড. জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাস্তায় নেমে আসে। তারা যেসব দাবি নিয়ে আন্দোলনে নামে সেগুলো যুক্তিযুক্ত। এরপর তাদের এ আন্দোলন শিক্ষার্থীদের ভাষায় ‘হাইজ্যাক’ হয়ে যায়। এ আন্দোলনে তৃতীয় পক্ষ ঢুকে পড়ে ও ব্যাপক গুজব ছড়াতে শুরু করে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পুলিশ কখনো কাউকে শান্তিপূর্ণ এই দেশে গুজব ছড়িয়ে অশান্তি সৃষ্টি করতে দেবে না। এ গুজব প্রতিরোধে আমরা সাইবার পেট্রলিং শক্তিশালী করছি। সিআইডি, এসবি ও পিবিআইর সমন্বয়ে গঠিত একটি ইউনিট সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের কাজ করবে। এ গুজব রটনাকারীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে। গুজব ছড়ানোর অভিযোগে এ পর্যন্ত ২১টি মামলা হয়েছে এবং কয়েক শ পোস্ট শনাক্ত করা হয়েছে। এগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জাতীয় শোক দিবসের নিরাপত্তার বিষয়ে আইজিপি বলেন, ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট, ব্লক রেইডসহ সর্বোচ্চ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দিনটি উপলক্ষে যেসব সামাজিক অনুষ্ঠান ও কাঙালি ভোজের আয়োজন করা হবে সেখানে মনিটরিং সেল করা হবে। এ ছাড়া ১৫ আগস্টের আগে ও পরে নিজ নিজ অধিক্ষেত্রের পুলিশ সুপারদের সব হোটেল ও বোডিং তল্লাশি ও ট্যুরিস্ট অঞ্চলগুলোয় নিরাপত্তা জোরদার করতে বলা হয়েছে।